বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-বধুসহ ১৪ লাশের দাফন সম্পন্ন

  স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট: 

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৮ |  আপডেট  : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৫০

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-বধুসহ ১৪ জনের লাশ আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৪টি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত ১৪ জনের মধ্যে বর আহাদুর রহমান ছাব্বির (৩০), তাঁর পিতা মোংলা পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক (৬৮), বরের ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া(ঐশী), ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বরের বড় ভাই আশরাফুল আলম (জনি), জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল), তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম। এদের সবার লাশ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়ায় দাফন করা হয়। এর আগে নববধু মার্জিয়া আক্তার (মিতু), মিতুর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, মিতুর দাদী রাশিদা বেগম ও নানী আনোয়ারা বেগমের লাশ শুক্রবার সকালে কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামে মিতুর বাবার বাড়ীতে জানাজা শেষে দাফল করা হয়। মাইক্রোবাসের চালক নিহত নাইমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের জিগিরমোল্লা গ্রামে সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতুর) সাথে মোংলা উপজেলার পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান ছাব্বিরের বিয়ে হয়। বুধবার কনের বাড়িতে বিয়ের পর রাত্রী যাপন শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বরপক্ষ মাইক্রেবাসযোগে মোংলায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৩ জন ছিলেন মাইক্রোবাসে। মাইক্রোবাসটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মোংলার দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুমড়ে মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের ১৩ যাত্রী ও চালকসহ ১৪ জন নিহত হয়। পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, বর আহাদুর রহমান ছাব্বির মোংলা পৌর শহরের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও নববধু মার্জিয়া আক্তার মিতু কয়রা উপজেলার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত পরিবারের প্রধান বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার সাংবাদিকদের বলেন, মোংলায় আমাদের বেড়ে ওঠা। আমাদের পৈত্রিক বাড়ি কয়রায়। রাজ্জাক ভাই তার মেয়েদেরও বিয়ে দিয়েছেন পৈত্রিক ভিটা কয়রা এলাকায়। ছোট ছেলেকেও কয়রাতেই বিয়ে দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার শেষ হয়ে গেল। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিহতদের জানাজা শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে ৯টি লাশের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। জানাযায় অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহন করেন, জলবায়ু, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি, বাগেরহাট-২ আসনের এমপি মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ্যাড. শেখ আব্দুল ওয়াদুদ প্রমূখ।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত