জান্নাত হোসেন হত্যার বিচারের দাবিতে গজারিয়ায় মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ
গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪২ | আপডেট : ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪১
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় জান্নাত হোসেন (২৭) হত্যার ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে মানববন্ধনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার গজারিয়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে প্রকাশ্যে ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে মো. আব্দুল হকের ছেলে মো. জান্নাত হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
নিহত জান্নাত হোসেনের মা জাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি একজন মা হিসেবে সরকারের কাছে শুধু একটাই দাবি—আমার ছেলের খুনিদের ফাঁসি চাই। যেন আর কোনো মা এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।”
নিহতের বড় ভাই রাজু জানান, “জমি ও সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা পরিবারসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাহীন রাঢ়ীর তিন ছেলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত ছিল।
উল্লেখ্য, গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জান্নাত হোসেনকে ঘরের ভেতরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে নিহতের মা বাদি হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে ।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাব্বির বলেন, “হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত