কাউনিয়ায় সোনালী আঁশের দাম ও বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

  সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৫, ১৮:১৬ |  আপডেট  : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:১১

রংপুরের কাউনিয়ায় সোনালী আশেঁ সোনালী স্বপ্ন কৃষকের। চলতি মৌসুমে দাম ও বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন গ্রামে চলতি মৌসুমে পাটের চাষ হয়েছে। দাম পাওয়ার আশায় সোনালী আঁশের সবুজ দোল দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আশায় বুক বেঁধেছে কৃষক এবার ক্ষতি পুশিয়ে লাভের মুখ দেখবে বলে। বিগত বছর গুলোতে সোনালী আঁশ কৃষকের গলায় ফাঁস হয়েছিল সেখান থেকে কৃষক প্রচন্ড খরা কে উপেক্ষা করে সেচ দিয়ে দাম ও বাম্পার ফলন পাওয়ার আশাকে জাগিয়ে রেখেছিল। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে চলতি মৌসুমে বৃষ্টির পরিমান কম এবং খরা হলেও কৃষক সেচ দিয়ে পাট বুনে নানা ভাবে পরিচর্যা করে আজকের এই অবস্থায় এনেছেন। আলুর ক্ষতি পুশিয়ে নিতে আলু তোলার পর জমিতে পাট বুনেছে। চরের যেসব জমিতে ধান ভাল হয় না সে সব জমিতে পাট চাষ করেছে। আনুপাতিক হারে তিস্তার চরে পাটের চাষ হয়েছে বেশী। বর্ষার শুরুতে আশানুরুপ বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা পাট পচান নিয়ে কিছুটা সঙ্কায় রয়েছেন। বর্তমানে পাট সবুজ থেকে আরও গাঁঢ় সবুজ আকার ধারন করেছে। কোন কোন জমিতে পাট ৭থেকে ৮ফিট লম্বা হয়েছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে পাট কাটা শুরু হবে। গদাই গ্রামের পাট চাষিফুল মিয়া, পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের আনারুল, জানান চলতি মৌসুমে সারের কোন সংকট ছিল না, ফলে সঠিক সময় সার দিতে পেরেছে। প্রচন্ড খরায় কিছু জমি নষ্ট হওয়ার মত হলেও বৃষ্টি হওয়ায় তা আবার সজিবতা ফিরে পেয়েছে। এ বছর রোগবালাইও তেমন হয়নি। বর্তমানে মাঠে মাঠে সবুজ শ্যামলের সমারোহ। দাম পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ আশা করছেন। পাটের ক্ষেত্রে ফরিয়া দালালরা বেশী লাভবান হয়। ঢুসমারা চরের চাষি নজরুল জানান, ফরিয়া দালাল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় মোটা অংকের লাভটা চলে যায় তাদের পকেটে। তাই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা যেন সিন্ডিকেট করতে না পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া প্রয়োজন। এছারা পাট খড়ির বেশ চাহিদা রয়েছে, তা বিক্রয় করেও তাদের বার্তি আয় হয়। তারা চায় এবছরও সরকার ধান ও গমের মতো কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পাট ক্রয় করলে কৃষক ভাল দাম পাবে। সরকার পাটের দাম ভাল দিবে এ আশায় কৃষক আশায় বুক বেঁধেছে। অনেক কৃষকের অভিযোগ উপজেলা পাট উন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রকৃত চাষিদের প্রশিক্ষন ও বীজ সার প্রদান করা হয় না। কৃষক নয় এমন মানুষদের তারা প্রশিক্ষন ও সার বীজ প্রদান করে থাকে। পাট উন্নয়নে এই দপ্তরের দুর্নীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে এর মধ্যে তোষা ৬৫০, দেশি ২০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৪৪৮ বেল। উপজেলা কৃষি অফিসার তানিয়া আকতার জানান পাট চাষে চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং প্রনদনা দিয়ে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। এবছর আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকুল থাকলেও ফলন ভাল হয়েছে। কৃষক ভাল ফলন ও দাম ভাল পাবে বলে আশা করছেন। 
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত