পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি

কাউনিয়ায় পাট অধিদপ্তর নিরব ভুমিকায় সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ 

  সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫, ১৭:৫৩ |  আপডেট  : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:০৬

রংপুরের কাউনিয়ায় নদী-নালা খাল-বিল সহ বিভিন্ন জলাশয়ে যত্রতত্র পাট জাগ দেয়ায় পানি পচে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে পাট অধিদপ্তর নিরব দর্শকের ভুমিকায়। প্রশিক্ষণ বিষয়ে উপজেলা পাট কর্মকর্তা কে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে পাট চাষিরা যত্রতত্র জলাশয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। ফলে এক দিকে যেমন পানি পচে পরিবেশ হচ্ছে মারাত্বক দুর্গন্ধময় এবং বিভিন্ন  প্রজাতির দেশী মাছের উৎপাদনও কমছে। নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ পচা দুর্গন্ধময় পানি ব্যবহার করে পানি বাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পাটের আঁশ ছরান রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারে পাট অধিদপ্তর ও কৃষি বিভাগের কোন প্রচারনা নেই। বিশেষ করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে কোন ভুমিকা দেখা যায়নি। ফলে শত বছরের সেই সনাতন পদ্ধতিতেই পাট জাগ দিয়ে আসছেন কৃষকরা। ফলে প্রতি বছর পাট মৌসুমে পরিবেশ মারাত্বক বিপর্যয়ে পড়ছে অথচ মাথা ব্যাথা নেই কর্তৃপক্ষের। উপজেলার সারাই, হারাগাছ, কুর্শা, শহীদবাগ, বালাপাড়া, টেপামধুপুর ও হারাগাছ পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা সতী নদী, মানাস নদী, বাঁধের রাস্তার বড় পিঠ এবং বড় বড় বিল ডোবায় যত্রতত্র ভাবে পাট জাগ দিতে দেখা গেছে। ক্রমাগত জলাশয় ভরাট ও দখলের কারণে উন্মুক্ত জলাশয়ের অভাবে বছরের পর বছর ধরে পাট পচানোর উদ্দেশ্য যত্রতত্র পাট জাগ দেয় হচ্ছে। উপজেলা পাট অধিদপ্তরের অবহেলায় সোনালী আশ পাট চাষ উপজেলায় দিন দিন কমে যাচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব সোনালী আঁশ পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কৃষি বিভাগ জানায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৪৪৮ বেল। পাটের আঁশ ছাড়াতে কৃষকদের মাঝে রিবোন রেটিং মেশিন বিতরণ করা হলেও তার ব্যবহার হয় না। কৃষক পাট গাছ কাটার পর তা সরাসরি পানিতে জাগ না দিয়ে রিবনার নামক মেশিনের মাধ্যমে কাঁচা পাট গাছ থেকে আঁশ ছড়িয়ে তা গাট বেধে মাটিতে গর্ত করে রেখে কিছুটা পানি ও ইউরিয়া প্রয়োগ করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় কিছুদিনের মধ্যে পাটের আঁশ পচেঁ যাওয়ার পরে তা ধুয়ে শুকাতে হয়। তবে পাট চাষী  বলেছেন তারা এ পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। পাট অধিদপ্তর বা কৃষি বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন কিছ্ইু জানান নি। গদাই গ্রামের পাট চাষী শাহজাহান জানান, রিবন রেটিং মেশিন সম্পর্কে জানলেও তা ঝামেলা পুর্ন মনে হওয়ায় আগের পদ্ধতিতেই পাট জাক দিয়েছেন। রামচন্দ্র পুর গ্রামের কৃষক তবারক জানান খালে বিলে পাট জাগ দেওয়ায় মাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং পানি ব্যবহারের ফলে লোকজনের খোস পাঁচড়া ও চুলকানি হচ্ছে। সেই সাথে মশা মাছির বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত গতিতে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান নদী খাল বিলে পাট জাগ দেয়া কৃষকদের দীর্ঘ দিনের একটি অভ্যাস। কিন্তু এটি পরিবেশের ক্ষতি হওয়ায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের রিবন রেটিং পদ্ধতির ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে। কৃষকদের অনাগ্রহে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পাট চাষে চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং প্রনদনা দিয়ে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। 
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত