যেসব দাবিতে চলছে আহতদের আন্দোলন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:১১ | আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:১৮

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা। তারা দাবি করছেন, আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত সবাইকে মাসিক ভাতার আওতায় আনতে হবে এবং তালিকা তৈরিতে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ক্যাটাগরির বদলে শুধুমাত্র ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরি রাখতে হবে। একইসঙ্গে যতক্ষণ পর্যন্ত এসব দাবি পূরণের ঘোষণা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত দেওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলমান রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সোয়া তিনটার দিকে আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষে সমন্বয়ক আরমান হোসেন বলেন, আগে পরে আমাদের অনেক ঘোরানো হয়েছে। এবার আর আমরা ঘুরতে চাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি বাস্তবায়ন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একইসঙ্গে সারা দেশ থেকেও অন্যান্য আহত ব্যক্তিরাও এখানে যুক্ত হবেন।
দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ইমারর্জেন্সি হট লাইন চালুর বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন আমাদের দাবি দ্রুত ক্যাটাগরির সংশোধন করতে হবে। যেই ক্যাটাগরি এখন দেওয়া হচ্ছে সেটা বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে প্রতিটি শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহতদের মাসিক ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
ভাতার পরিমাণের বিষয়ে কোন প্রস্তাবনা আহতদের পক্ষ থেকে সরকারকে দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোনো সংখ্যা উল্লেখ করিনি। একটি সম্মানজনক ভাতার বিষয়ে বলেছি। এরই মধ্যে এই বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপদেষ্টাকে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো সুরাহা করতে পারেননি। এখন আমাদের দাবি একটাই। সেটি হচ্ছে, দ্রুত যেন এসব দাবি পূরণ করা হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বনে থাকতে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের।
এসময় তাদের, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’, ‘এক দুই তিন চার, সব শালারা বাটপার’, ‘দাবি মোদের একটাই, ক্যাটাগরি দুইটা চাই’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এর আগে, আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ। তিনি সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার কাছে দাবি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
সা/ই
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত