36 C
Dhaka
Thursday, September 24, 2020
No menu items!
More

    রাজনৈতিক দলের নাম মানুষ

    সাজ্জাদুর সিরাজ নিবিড়: আজ সকাল হতে প্রথিতযশা বাঙালি কবি কামিনী রায় এর কথা খুব মনে পড়ছে। ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যক্তিত্ব তাঁর কবিতার দুটি পংক্তির জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই নশ্বর পৃথিবীতে। তাঁর অজানা লাইন দুটি হলোঃ

    “সকলের তরে সকলে আমরা
    প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

    কবি তাঁর এই দুটি পঙক্তিতে দিয়েছেন মনুষ্যত্বের সবচেয়ে বড় সংজ্ঞা। এই দুই লাইনে সুপ্ত আছে আমাদের বেঁচে থাকার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
    প্রকৃতিতে এখন বসন্ত কিন্তু বসন্তের কোকিলের সুর আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে না। সাত দিন পরে বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন পহেলা বৈশাখ। যেই দিনে বাংলার প্রতিটি প্রাণ পুলকিত হয়। জীর্ণাবস্থা, গ্লানিকে পেছনে ফেলে মানুষ নতুন ভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। সেই বৈশাখ নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করছে না। সকলে খুঁজছে বেঁচে থাকার উপায়, পৃথিবীতে টিকে থাকার উপায়।

    আমাদের বসন্তের রৌদ্রোজ্জ্বল নীল আকাশ আজ করোনা ভাইরাসের কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে। অবনীতে আজ আলোর কোন লেশ নেই, যতদূর চোখ যায় কেবল অমানিশার অন্ধকার। বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আজ জানেনা তার ভবিষ্যৎ। ভিন গ্রহের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা মানুষ আজ হতবুদ্ধ। পুরো বিশ্বের নোবেল পাওয়া চিকিৎসকেরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ছে এক মরণঘাতী অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের সাথে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো আজ একটি হেডলাইনের অপেক্ষায়, “ আবিষ্কৃত হলো করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন”।

    এই মহামারীতে সকলকে বেঁচে থাকতে হলে প্রয়োজন সহযোগিতা। বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার সবার। বিত্তবানের যদি মনে করেন তারা একাই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবেন সাহায্যের হাত বাড়াবেন না, তবে আপনাদের সন্তানকেই ড্রেনের ময়লা পরিস্কার করতে হবে। কেননা আপনি তো নিম্নবিত্তের দিকে ফিরে তাকান নি। যদি আপনি সুন্দর এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চান, তবে গরিবদের দায়িত্ব নিন।

    করোনাভাইরাস থেকে আমরা একটা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। শিক্ষাটি হলো আমরা মানুষ। ধনীরা যেমন মানুষ, গরিব তেমনি রক্ত মাংসের মানুষ। কিছু রোগে শুধু ধনীরা চিকিৎসা পায়, গরিবেরা ধুকে মরে। কিন্তু করোনা ভাইরাস আজ আমদের সকলকে এক সমান্তরালে দাড় করিয়েছে। টাকা থাকলেই কেউ চিকিৎসা পাচ্ছে না। পাঠক এখন আমি শিরোনামের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করবো। নতুন রাজনৈতিক দল “মানুষ”।

    পবিত্র কোরআনে দান সম্পর্কে মহান রাব্বুল আল-আমিন বলেছেন, “তোমরা এমনভাবে সাহায্য করো যখন ডান হাতে দান করবে বাঁ হাত না জানে, যখন বাঁ হাতে দান করবে ডান হাত না জানে”। দান করা কোন বিজ্ঞাপনের প্রচার নয়, কিংবা কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির CSR (Corporate social responsibility) ক্যাম্পেইন নয় যে দান করে লোক ডেকে দেখাতে হবে। দান বা সাহায্য করতে হবে মানবিক দিক থেকে, মানুষকে ভালোবেসে, সমাজকে ভালোবেসে।

    বিশ্বের এই দুঃসময়ে সাহায্য কোন দলের ব্যানারে হওয়া উচিত নয়। আওায়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিকে একসাথে কাজ করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে মানুষ নামের একটি রাজনৈতিক দল। যেই দলের লক্ষ্য হবে মানুষের সেবা করা, কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি দানের রেসে এগিয়ে যাওয়ার এক গল্প। কেন দল বা নেতা কত বেশি দান করতে পারে, কত বেশি ছবি তুলতে পারে। সংবাদপত্র, সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দানের ছবি না থাকলে দান অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায়, “আমরা কতটুকু মানুষ”?

    করোনা ভাইরাস সংক্রামক ব্যাধি। যখন একজন ব্যক্তি ১০০ মানুষকে ৫ কেজি করে চাল সাহায্য দেন, সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ২ দিন পরে আবার সাহায্যের জন্য বের হতে হয় কারণ পাছে না খেয়ে মরার ভয়। এখন আপনারা সিদ্ধান্ত নিন, দানের নামে আপনারা ভাইরাসে মহামারী ছড়িয়ে দিচ্ছেন কিনা? কারণ একজন সাহায্যপ্রার্থী যত বেশি ঘরের বাহিরে যাবে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা ততই বেশি।

    তাই সমাজের সকল রাজনৈতিক দল এবং বিত্তবানদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাছি। সকলের সাহায্যকে একত্রিত করা হোক। প্রতিটি পরিবারকে এমনভাবে সাহায্য করা হোক যাতে তারা অন্তত এক মাসের খাদ্যসামগ্রী পায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী ৩০ দিন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ৩০ দিনে যদি ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রন না করা যায় তবে বাংলাদেশে কত লোক প্রাণ হারাবে তা আজান। আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, তার উপর ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে সুতরাং রোগ হলে রোগের চিকিৎসা কতটুকু পাবো তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

    রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের উচিৎ হবে রাতের অন্ধকারে মানুষের দুয়ারে ত্রান পৌঁছে দেয়া নতুবা জনসমাগমে করোনা ছড়ানোর ভয় বাস্তবে রূপ নিবে। বিচ্ছিন্ন সাহায্যগুলোকে একত্রিত করা হোক, সকলের সাহায্য থেকে বেশি পরিমানে সাহায্য করা হোক যাতে মানুষ ঘরে থাকে। সমন্বিত সাহায্যে লৌহজং উপজেলার বিদ্যুৎ আলম মোড়ল এক অগ্রগণ্য নাম। তিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ব্যানের বিপুল ত্রান সংগ্রহ করে জনগনের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন, যাতে অন্তত ১ মাস মানুষ ঘরে থাকতে পারে এবং ত্রান পৌঁছে যাচ্ছে রাতের আঁধারে।

    সকলের সহযোগিতার মানুষ নামের রাজনৈতিক দল গঠিত হোক, জয় হোক মানুষের।

    সাজ্জাদুর সিরাজ নিবিড়
    মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    সর্বশেষ

    শিবগঞ্জে ঘরে ঘরে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতেও হতাশা গ্রাহক

    রশিদুর রহমান রানা শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি: দেশজুড়ে মহামারি করোনা ভাইরাসে লকডাউনের মধ্যে ঘরে ঘরে ভুতুরে বিলের কাগজ ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার...

    আদর্শ মানুষ ও জাতি গঠনে সুশিক্ষা

    ওসমান গনি দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার গুনগত মান ও মানসম্মত শিক্ষা একান্ত দরকার। শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের...

    সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডিন জোন্স আর নেই

    খেলাধুলা ডেস্ক: সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডিন জোন্স আর নেই। আজ দুপুরে মুম্বাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ডিন জোন্সের বয়স হয়েছিল...

    ‘অটো প্রমোশন’ নয়, মূল্যায়ন করেই নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে শিক্ষার্থীরা

    নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করা হলেও শিক্ষার্থীরা ‘অটো প্রমোশনে’ নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ...

    বগুড়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে বিএনপি প্রার্থী নিখোঁজ!

    বগুড়া প্রতিবেদক: বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে মনোনয়পত্র জমা দিতে এসে মাসুদ রানা (৩৭) নামের বিএনপির এক...