36 C
Dhaka
Wednesday, December 2, 2020
No menu items!
More

    যে গল্প লিখতে চাইনি

    আখতার হোসেন
    কবিরা সবসময়ই হতচ্ছাড়া, লক্ষ্মীছাড়া, কান্ডজ্ঞানহীন! এরা স্থান-কাল-পাত্র বোঝে না। চৈত্র সংক্রান্তির ভরা দুপুরের হাঁসফাঁস গরমে বসে দিব্যি লিখে ফেলে কুয়াশাচ্ছন্ন মাঘী পূর্ণিমার চাঁদকে নিয়ে কবিতা। এই রকমই একজন কবি কায়েস আহমেদ। অবশ্য তাঁর কবিতা যখন পত্রিকায় ছাপা হয় তখন কবি হিসেবে নাম ছাপা হয় আহমেদ কায়েস।

    কোভিড-১৯ নামে নুতন একটি জীবনঘাতী ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবীতে। চীন থেকে জন্ম নিয়ে এক লাফে পশ্চিম ইউরোপ ঘুরে আমেরিকা কাঁপিয়ে লাখ খানেক মানুষের প্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাংলাদেশে আড়াই মাসের মাথায়ই। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ‘লক ডাউন’ শব্দটা একেবারেই নুতন। সেই লকডাউনের আজ উনিশতম দিবস। পাক্কা উনিশদিন যাবত কবি কায়েস আহমেদ ওরফে আহমেদ কায়েস ঘরে বন্দী। টুকটাক কেনাকাটার জন্যও বের হয়নি। পাড়ার মুদি দোকানের দোকানীকে মোবাইল ফোনে বলে দিলে ঘরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে চাল-ডাল-তেল-চা-চিনি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই। এখন চারপাশ ঘিরে আছে শুধু অগুনতি কোভিড-১৯ আর আতংক। কোভিড-১৯ যেমন চোখের পলকে বংশ বিস্তার করতে পারে হাজারে হাজারে, আতংকও তেমনই বিস্তার লাভ করে ঘর সমাজ দেশ ছাড়িয়ে অসীমে চলে যায়।

    কবি কায়েস আজ বসেছে কবিতা নয়, গল্প লিখবে বলে। বন্ধুরা তার কবিতার তীব্র সমালোচনা করেছে। এক বন্ধু তো সেদিন বলেই বসেছে, ‘ কী সব আউল ফাউল কবিতা লেখো। এসব আর লিখোনা। আরে, কবিতা যা লেখার সব লিখে রেখে গেছে রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথের যতো কবিতা আছে, বাঙালী তা আরো সাত পুরুষ খেয়ে পরে বাঁচতে পারবে। কবিতার ধান্দা বাদ দাও। আরে গল্প লেখো, গল্প। দেশে ভালো গল্পের আকাল। যদি লিখতেই হয়, গল্প লেখো।‘ বন্ধুর কথাটা বেশ মনে ধরেছে কায়েসের। আর সত্যি কথা বলতে কি, কবিতা লিখতে লিখতে একটু ক্লান্তিও বোধ করছে। তাই আজ ঠিক করেছে গল্পই লিখবে। জমজমাট একটা প্রেমের গল্প। প্রেম জিনিসটাও পুরনো, সম্ভবতঃ কবিতার চেয়েও। তবু, প্রেমের প্রতিই মানুষের আগ্রহ ও আকর্ষণ দু’টোই বেশী। গল্পটা মোটামুটি সাজিয়ে ফেলেছে। নায়ক ও নায়িকার একটা সুন্দর নাম খুঁজছে। এখনো পায়নি। তাই বলে তো গল্পটা বন্ধ রাখা যায়না। কায়েস ঠিক করেছে গল্পটা লিখে ফেলবে। যে মুহুর্তে যুতসই নাম দু’টো মনে আসবে তখন বসিয়ে দিলেই হবে। আপাততঃ গল্পটা শুরু করা যাক। কায়েস লেখা শুরু করেছে, ‘অঘ্রাণের শেষ। আরো সপ্তাহ খানেক আছে পৌষ আসতে। কিন্তু মনে হচ্ছে, পৌষের শিশুকাল শুরু হয়ে গেছে। টলমল পায়ে হাঁটতে শুরু করেছে—শীতটা পড়েছে এমনই। এবার মনে হচ্ছে জাঁকিয়ে বসবে শীত বাবাজী। এ রকম এক ভোরে আকাশ থেকে ঝুলে থাকা মসলিন কাপড়ের মতো কুয়াশার পর্দাগুলো একটার পর একটা সরাতে সরাতে একজন মানুষকে দেখা গেল ধানের ক্ষেতের আল ধরে এগিয়ে আসতে।…’

    -তুমি কি খুব ব্যস্ত?’ কায়েসের লেখার ছন্দপতন হলো। লেখা থেমে গেল। ডান পাশে মাথা ঘুরিয়ে দেখতে পেলো জাহানারাকে। তাঁর স্ত্রী। প্রিয়তমা স্ত্রী। সে তার স্ত্রীকে এতো ভালোবাসে; কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি সেই ভালোবাসা স্ত্রী বোঝেই না। জাহানারা মনে করে, আল্লাহ কোটি কোটি মানুষ সৃষ্টি করে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, অপদার্থ, অকর্মণ্য মানুষ কায়েসকে তার স্বামী হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছে।
    -তুমি কালকে পেনশনের টাকা তুলেছো?’ খুব কোমল স্বরে জিজ্ঞাসা করলো জাহানারা।
    -হ্যাঁ,কেন?’ কায়েস পাল্টা প্রশ্ন করলো।
    -না, মানে, হাজার তিনেক টাকা দিতে পারবে?’ এতো মিনতি মাখা কন্ঠস্বর আগে কখনো শুনেছে বলে মনে করতে পারলো না কায়েস।
    -লাগলে নেবে, কিন্তু কেন? আর তোমার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা কী হলো?’
    -তুমি তো ভুলেই যাও সব। ও টাকা দিয়ে ড্রেসিং টেবিলটা কিনলাম না গত মাসে? আর টাকা কই? হাতে টাকা থাকলে আর তোমার কাছে চাই? আবার মুনাফার টাকা পাবো সামনের মাসে।‘

    -ও, তাই তো। তা এই তিন হাজার টাকা দিয়ে কী করবে?’ কায়েস আবার পুরনো প্রশ্নটাই করলো। কিন্তু জাহানারা নিশ্চুপ। দু’চোখ মেলে তার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। এই রকমের দৃষ্টি সাধারণতঃ দেখা যায় না। এই দৃষ্টি পুরোপুরি অনুরাগ নয়, পুরো বিরাগও নয়; ভরসা-নির্ভরতায় করুণা-মমতায় গড়া একটা মায়ার ছায়া দোদুল্যমান, আবার তারই সাথে এক ধরনের শংকায় আচ্ছন্ন—এমনই সেই দৃষ্টি। কায়েস নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, ‘দ্যাখো, এখন আজেবাজে খরচ কোর না। সামনে খুব কঠিন দিন আসছে। এখনো তো তবু কিছু পাওয়া যাচ্ছে। ঘরে এসে দোকানী খাবার জিনিস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সামনের দিনগুলো খুব ভয়াবহ। আল্লাহ না করুন, সেই দিন দেখতে হয়, যেদিন খাবারের চালটাও পাওয়া যাবে না।‘ কায়েস তার কথা শেষ করলো। জাহানারা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, ‘বেশ এটা আমাকে ধার হিসেবেই দাও। সামনের মাসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকাটা পেয়ে গেলে তোমাকে দিয়ে দেবো।‘ -তাও বলবে না, টাকাটা দিয়ে কী করবে?’ কায়েস আবার জিজ্ঞেস করলো।

    এবার আমতা আমতা করে বললো জাহানারা, ‘ওই যে, চম্পা, চম্পার খুব দরকার। ওর বাচ্চাটার জন্য খাবার কিনতে পারছে না…।‘ কায়েস এবার একটু কঠিন স্বরে বললো, ‘তোমাকে হাজার বার বলেছি ওই মেয়েটার সাথে কথা বলো না।‘

    -আচ্ছা ওর দোষ কী, বলো তো? ভালবেসে বাপ-মায়ের অমতে বিয়ে করেছে। বিয়ে করে দেখেছে ছেলে আসলে কিছুই করে না। এটা কার দোষ? চম্পার? কাউকে বিশ্বাস করা, কাউকে ভালবাসা দোষ?’ জাহানারা প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে চোখ রাখলো কায়েসের চোখে।

    কায়েস-জাহানারার এক প্রতিবেশীর মেয়ে চম্পা। নিজের পছন্দে বিয়ে করেছে। বাপ-মা মনের দুঃখে এ পাড়া ছেড়েই অন্য জায়গায় চলে গেছে। মেয়ের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। মেয়েটা এখানেই একটা বাচ্চাদের স্কুলে মাস্টারি করে। বেতন খুবই সামান্য। স্বামী বেকার। সামান্য কিছু টাকা শেয়ার মার্কেটে লাগিয়েছিলো। সেখানে সব খুইয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে চম্পার স্বামী ছেলেটা না কি মদ-গাঁজাও ধরেছে। সংসার চলছে চম্পার মাস্টারির সামান্য টাকায়। করোনা কালের এই লক ডাউনের সময়ে কী ভাবে এদের জীবন চলছে, কে বুঝবে? সব বোঝার দায় কি কায়েসের? এই জীবন পুরোটাই অনির্দিষ্ট। কেউ জানে না কার কখন কী হবে! আর সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সব নিজের তৈরি। সবাই সবার কর্মফল ভোগ করে। এসব কথা আগেও বলেছে অনেকবারই জাহানারাকে। কিন্তু জাহানারা তার মতোই আছে। কেন যেন মেয়েটার প্রতি জাহানারা রুঢ় হতে পারেনি। কিন্তু কায়েস বরাবরের মতো আবারও পরাস্ত হলো জাহানারার সেই অদ্ভুত চাহনীর কাছে।

    -আচ্ছা, ঠিক আছে, টাকা নাও। দিতে চাচ্ছো দাও। কিন্তু এটাই শেষ বারের মতো। আর ওকে ঘরের ভেতর ঢোকাতে পারবে না। জানালার ফাঁক দিয়ে টাকা দেবে। এই সময়ে কাউকে ঘরে অ্যালাউ করা ঠিক না।‘

    -আচ্ছা।‘ এক কথায় রাজী হয়ে গেল জাহানারা। নিজের বসার ঘরের জানালা দিয়ে দেখতে পেলো, জাহানারা জানালার ফাঁক দিয়ে টাকা দিচ্ছে চম্পাকে। চম্পা মাথায় ওড়না পেঁচিয়ে রাস্তার ধারে অপেক্ষা করছিলো। চম্পা কথা শোনা যাচ্ছে, ‘ভাবী, আপাততঃ পনেরোশ’ হলেই চলবে। তিন হাজার লাগবে না ভাবী…’। জাহানারা জোর করছে, ‘রাখো, টাকাটা রেখে দাও। এখন যতোটুকু খরচ করার ততোটুকুই করো। বাকীটুকু পরে তোমার লাগবে। এই অবস্থা কবে শেষ হবে, পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কেউ জানে না…।‘ জাহানারা জোর করেই টাকাটা চম্পার হাতে গুঁজে দিলো। কায়েস ঘরের ভেতর থেকেই দেখতে পেলো টাকাটা নিয়ে ওড়নায় মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো চম্পা। জাহানারা ঘরের ভেতর থেকে বলছে, ‘এই চম্পা, এই ভাবে কাঁদে না। যাও, তুমি তোমার মেয়ের খাবার কিনে বাসায় চলে যাও।‘

    কায়েসের মনটা খারাপ হয়ে গেল। গল্প লেখার মুডটা পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেল। নাহ, আজ আর লেখা হবে না। কী করবে এখন? টিভিও দেখতে ইচ্ছে হয় না। সবসময় করোনা, করোনা আর মৃত্যু সংবাদ। শেষ পর্যন্ত শুয়েই পড়লো। রাতে যতোক্ষণ ঘুম এলোনা, ততোক্ষণ তার গল্পের নাওয়ক-নায়িকার নাম নিয়ে ভাবতে লাগলো।

    পর দিন সকালে নাস্তা সেরে খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে বেলা এগারোটা নাগাদ আবার কাগজ কলম নিয়ে বসেছে। গতকাল যেখানে শেষ করেছিলো, সেখান থেকে শুরু করলো কায়েস…’ দূর থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিলো না। যতোই কাছাকাছি হচ্ছিলো ততোই কুয়াশার আড়াল থেকে মানুষটিকে দেখা যাচ্ছিলো। লম্বা চওড়া সুঠাম স্বাস্থের অধিকারী টকটকে চেহারার এক যুবা…’ কিন্তু হঠাৎ থেমে যেতে হলো কায়েসকে। কে কথা বলছে? চম্পা না? এই মেয়েটা আবার এসেছে? কী বলছে জাহানারাকে? আবার কান্নাকাটি করে টাকা চাইতে এসেছে?

    ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চম্পা বলছে, ‘ভাবী, কালই টাকাটা আমি নিতে চাইনি। জোর করে দিলেন। এই দেখেন…’ খোলা জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে চম্পা হাতের ওপর থেকে ওড়না সরিয়ে দেখাচ্ছে মারের দাগ। পনেরোশ’ টাকা লুকিয়ে রেখেছিলো। স্বামীকে বলেছিলো সে পনেরোশ’ টাকাই এনেছে। কিন্তু তার স্বামী তা বিশ্বাস করেনি। সেই টাকা তাকে দেবার জন্য শেষ পর্যন্ত তাকে মেরেছে। চম্পা বলছে, ‘মারের দাগ আরো আছে, সেগুলো আপনাকে দেখাতে পারছিনা…’ তারপর চোখ মুছে বললো, ‘ভাবী, এই পনেরশ’ টাকা আমি নিয়ে এসেছি। আপনি রেখে দিন। আপনার কাছেই রেখে দিন। আমার প্রয়োজন হলে আমিই এসে নিয়ে যাবো…, তবু ওই অমানুষকে দেবো না…’

    জাহানারা কিছু বললো না। হাত বাড়িয়ে চম্পার কাছ থেকে টাকা ক’টা ফেরত নিলো। চম্পা চলে যেতেই কায়েস তার খাতা কলম রেখে উঠে পড়লো। ধীরে ধীরে জাহানারার কাছে এসে দাঁড়ালো। জাহানারা তখনো জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে। পেছন থেকে আলতো করে স্ত্রীর কাঁধে হাত রাখলো কায়েস। জাহানারা চমকে ঘুরে দাঁড়ালো। ত্রিশ বছর পর এক বিবাহিত দম্পতি যেন পরস্পর পরস্পরকে নুতন ভাবে দেখছে। কায়েস আর জাহানারা পরস্পরের দিকে অপলকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ কী হলো কে জানে, জাহানারা কায়েসকে জরিয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে ফেললো। কায়েসও স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো, ‘ তুমি এরকমই থেকো সবসময়। যে গল্পটা আমি লিখতে চাইনি, সেটাই এবার লিখবো।‘
    লেখকঃ গল্পকার, ও প্রাবন্ধিক

    সর্বশেষ

    সাংসদ এমিলির সুস্থতার কামনায় লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের দোয়া মাহফিল শুক্রবার

    প্রেস রিলিজ"মুন্সিগঞ্জ দুই আসনের মাননীয় সাংসদ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপির করোনা পজিটিভ হইতে দ্রুত আরোগ্য কামনায় আগামী শুক্রবার ৪ ডিসেম্বর বাদ...

    সংসার ভাঙ্গা সহজ,গড়া কঠিন

    এম আর ফারজানা ইদানীং দেখছি সংসার ভাঙ্গার মাত্রা অনেকে বেড়ে গেছে। সামান্যএকটু কিছু হলেই দুজন দুদিকে চলে যাচ্ছে। আসলে...

    অনুমতি ছাড়া রাজধানীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ

    নিউজ ডেস্ক: অনুমতি ছাড়া রাজধানীতে মিছিল ও সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ...

    ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ৬১ পৌরসভার ভোট (তালিকা)

    নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬১টি পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ করা হবে। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দ্বিতীয়...

    করোনায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২১৯৮

    নিউজ ডেস্ক: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও...