36 C
Dhaka
Tuesday, December 1, 2020
No menu items!
More

    বাইডেনের বিজয় বনাম ট্রাম্পের আইনি পদক্ষেপ

    আবু সাঈদ লীপু

    যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন শেষ হয়েছে ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ৫৩৮ টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ২৯০টি করায়ত্ব করেই বাজিমাত করেন বাইডেন। অপরদিতে রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪টি ভোট। দুটি অঙ্গরাজ্যের ফলঅফল আসার আগেই জো বাইডেনের বিজয় সুনিশ্চিত হয়ে যায়।

    নির্বাচনের নব কিছুই গতানগুতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান মোতাবেক হয়েছে। এমনিতেই এ দেশটের নির্বাচনে ফল কারচুপির সুযোগ মোটেও নেই; তদুপরি বিশ্ব মিডিয়ার সতর্ক দৃষ্টির সামনে তা ছিল অসম্ভব ব্যাপর। তা সত্ত্বেও পরাজিত প্রার্থী ডেনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী ফলঅফল না মানার পূর্ব ঘোষণায় এখনও অটল আছেন। পুনঃ ভোট গণনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনি আইনি লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে, সে আইনি লড়াইয়ে তিনি কতটা কামিয়াব হবেন তা নিশ্চিত নয়। বরং পশ্চিমা মিডিয়াগুলো ইতোমেধ্যেই জানিয়েছে, ট্রাম্পের সব চেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং ২০ জানুয়ারির পর তিনি আর হোয়াইট হাউসে থাকতে পারবেন না।

    যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন ছিল বিশ্বব্যাপী উৎসুকের বিষয়। বিম্বমোড়ল হিসেবে পরিচিত দেশটির স্টিয়ারিংয়ে কে বসছেন, তা নিয়ে কৌতুহলের অন্ত ছিল না। আমরা এখানে নির্বাচনের কিছু খুঠিনাটি নিয়ে কথা বলতে চাই।

    ব্যালটের রকম
    অবশ্যই ভোটের সাথে ব্যালট জড়িত। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা বিভিন্নভাবে ভোট প্রদান করেছে। ভোটারদের একটা অংশ, আরও নির্দিষ্ট করে বললে ডেমোক্রাটদের বড় অংশ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। তারা ব্যালট পেপারের জন্য আবেদন করেছেন প্রথমে। তারপর ভোট দিয়ে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এর বাইরে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনদিনের বেশ আগে থেকেই অগ্রবর্তী ভোট নেয়া শুরু হয়। নির্বাচনের দিন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে ভোট দিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই রিপাবলিকান। কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদেরকে এরকমই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বিদেশে অবস্থানরত আমেরিকান এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ভোট দিয়েছেন। সেগুলি ডাকযোগে এসেছে এবং গণনায় যুক্ত হয়েছে। ভোটের দিন কারও কারও আইডি না থাকা, ভুল ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কারণে সরাসরি ভোট দিতে পারেন নি। এদের শর্তাধীন ভোট দিয়েছেন যাদের প্রভিশনাল ব্যালট বলা হচ্ছে। এই ব্যালটগুলো আলাদা করা হয়েছে এবং পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে গণনা করা হয়। পুরো বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ছিল, যে কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে, এর বাইরে কিছু নয়। এসব আগেও ছিলো। কিন্তু প্রতিযোগিতা এত হাড্ডাহাড্ডি না হওয়ায় এসব ব্যালট নিয়ে ইতোপূর্বে কোনো কথা হয়নি।

    ভোট গণনায় ব্যালটের প্রভাব
    ভোটগ্রহণ শেষ হবার সাথে সাথে গণনা শুরু হয়। আমেরিকায় তিনটি সময়-অঞ্চল থাকার কারণে নিউ ইয়র্কে যখন ভোট শেষ হয়, লসএঞ্জেলসে তখনও ভোটগ্রহণ চলতে থাকে। তাছাড়া, ভোটগ্রহণের সময়সীমা পুরো দেশে একরকম নয়। আশ্চর্য হচ্ছে, ঐতিহ্যগতভাবে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাষ্ট্রের দু’টি কেন্দ্রে ভোটের আগের দিন রাত বারোটার পর ভোটগ্রহণ করা হয় এবং সাথে সাথে ফলাফল ঘোষণা করে দেয়া হয়। অবশ্য এদের ভোটার সংখ্যা অতি নগন্য। যেমন একটি কেন্দ্রে মাত্র ৫ জন আরেক কেন্দ্রে ২৬ জন ভোটার ছিলেন। তবে জাতীয়ভাবে কেন্টাকি অঙ্গরাষ্ট্রের একটি কেন্দ্রে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছ’টায় সর্বপ্রথম ভোটগ্রহণ সময়সীমা শেষ হয়।

    এরপর ভোট গণনা শুরু হয়। বিভিন্ন অঙ্গরাষ্ট্রে ভিন্ন ভিন্ন আইনের কারণে ভোট গণনাও ভিন্ন রকম। যেমন পেনসিলভেনিয়ায় ডাকযোগে আসা ব্যালট সবশেষে গণনা করা হয়। অন্যদিকে, কেন্টাকিতে ডাকযোগে আসা ব্যালট আগে গণনা করা যায়। তাই গণনার সময় দেখা গেছে কেন্টাকি বা ওহাইও কিংবা ফ্লোরিডাতে গণনার শুরুতে জো বাইডেন বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু অল্প সময় পরেই ট্রাম্প তাকে ছাড়িয়ে গেছেন। এই ধারায় তিনি উইসকনসিন, মিশিগান, পেনসিলভ্যানিয়া, জর্জিয়া অঙ্গরাষ্ট্রে বিপুল ভোটে এগিয়েছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের দিন রাত দু’টোয় অতি আনন্দে বোকার মতো নিজেকে জয়ী বলে ঘোষণাও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তখনও বিপুল পরিমান ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনা বাকী ছিলো। সেসব ব্যালটই পরে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

    তাছাড়া, কোনো কোনো অঙ্গরাষ্ট্রে নিয়ম হলো, দুইপ্রার্থীর ভোটের পার্থক্য এক শতাংশেরও অর্ধেক হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূনঃগণনা শুরু হয়। কোনো কোনো জায়গায় ২০০০ ভোটের কম ব্যবধান হলে, আবার কোনো কোনো জায়গায় এক শতাংশের দশভাগের একভাগ হলে স্বয়ংক্রিয় পূনঃগণনা হয়। তবে জর্জিয়ায় এক শতাংশের অর্ধেকের কম হলে পূনঃগণনার আবেদন করা যায়। ট্রাম্প তা করেছেন।

    হোয়াইট হাউজ ত্যাগ
    তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ ছাড়লেন না। তখন কী হবে? যুক্তরাষ্টের সংবিধানে এ বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু লেখা নেই। নির্বাচনে হেরে কেউ হোয়াইট হাউজ ছাড়বেন না এটা সংবিধান রচয়িতারা হয়তো চিন্তা করেননি। কিন্তু ট্রাম্প-কর্মকান্ড হচ্ছে চিন্তারও বাইরে। সেক্ষেত্রে বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিবেন। দেশের সেনাবাহিনীসহ সকল সিক্রেট সার্ভিস তার অধীনে চলে যাবে। তারা হোয়াইট হাউজ থেকে অবাঞ্ছিত বা অবৈধ অধিবাসীকে বের করে দিবেন। ট্রাম্প যদি হোয়াইট হাউজ ত্যাগ না করার প্রত্যয়ে অনড় থাকেন, তাহলে তার জন্য অতি দুর্ভাগ্যের বিষয় হবে খুব শিগগিরই তিনি হোয়াইট হাউজে অনধিকার প্রবেশকারী হয়ে যাবেন। এতে হোয়াইট হাউজ ভারমুক্ত হবে সন্দেহ নেই। কারণ এই ঐতিহাসিক ভবনে বসে ট্রাম্প অসংখ্য মিথ্যে বলেছেন, অকথ্য গালিগালাজ করেছেন। বহু মানুষকে অপমান-হেনস্থা করেছেন। হোয়াইট হাউজের ইতিহাসে তা অবশ্যই কলঙ্কময় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    ট্রাম্পের আইনি পদক্ষেপ
    ক্ষমতার সুখের দিকের সাথে দুঃখের দিকও আছে। ক্ষমতা চিরদিন সংরক্ষিত নয়। আকবর-আওরঙ্গজেবদের জগত এখন অতীত। স্বভাবতই ট্রাম্প ক্ষমতা ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না। তিনি হেরে গেছেন। কিন্ত মানতে কষ্ট হচ্ছে। তাই ভিত্তিহীন সব অভিযোগ করছেন। সর্বোচ্চ আদালতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীল বিচারপতি থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অযথা বাগাড়ম্বর করছেন। তিনি জানেন এতে কিছুই হবে না। তবুও করছেন, কারণ তার মূল উদ্দেশ্য বিপুল সমর্থকগোষ্ঠীকে উজ্জীবিত করে অসাংবিধানিক কিছু করা যায় কীনা। তবে সত্য হচ্ছে, আমেরিকার ২৪৪ বছরের গণতন্ত্র এত ঠুনকো নয়। সামান্য ঝড়ে তা টলতে পারে না।

    আইনি প্রক্রিয়া সবসময়ই জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। সেই সাথে ব্যয়বহুলও। ট্রাম্প তার আইনি প্রক্রিয়ায় অনুদানের জন্য ভিক্ষা শুরু করেছেন। তাকে অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য এবং শক্ত প্রমাণ দাখিল করতে হবে। স্থানীয় আদালত রায় দিবে, তা সুপ্রিম কোর্টে যাবে। সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণের গুরুত্ব বিবেচনা করে রায় দিবেন। ফালতু অভিযোগে কাজ হবে না। ডাকযোগে আসা ভোট, ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে বাঁধা, অবৈধ ভোটার সংক্রান্ত অভিযোগকে বালসুলভ মনে করছেন পর্যবেক্ষকগণ। এসব অভিযোগ তৃতীয় বিশ্বের দূর্বল গণতাšিক রাষ্ট্রে দেখা গেলেও, আমেরিকা-বৃটেনের মতো শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একেবারেই অচিন্তনীয়।

    ব্যালট পুনঃগণনা
    জর্জিয়াসহ কোনো কোনো অঙ্গরাষ্ট্রে ট্রাম্প ভোট পুনঃগণনার আবেদন করেছেন। অধিকার বলে এই আবেদন তিনি করতেই পারেন। বিপুল অর্থ ব্যয়ে পুনঃগণনা হবে। এতে তার মানসিক শান্তি হবে শুধু, কাজের কাজ কিচুই হবে না। পূনঃগণনার ফলাফল তার পক্ষে যাবেনা সেটা অবধারিত । ভোট পুনঃগণনা একটি অতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া গণতন্ত্রে। অতীতে বহুবার এই কাজটি হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত পূনঃগণনাটি ফ্লোরিডাতে হয়েছে ২০০০ সালে। বুশ এবং আল গোরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সুতোর উপরে ঝুলে ছিলো। টানটান উত্তেজনা, কে জিতবে কে হারবে দোলাচল। সবশেষে বুশ মাত্র ৩২৭ ভোটে জিতেছিলেন। ফলাফল পরিবর্তিত হয়নি। প্রেসিডেন্টশিয়াল নির্বাচনে পুনঃগণনায় ফলাফল পরিবর্তনের কোনো ইতিহাস নেই। ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল সময়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সবরকম নির্বাচনে সাড়ে চার হাজারেরও বেশিবার ভোট পুনঃগণনা হয়েছে। মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে ফলাফল উল্টে গেছে। অবশ্য তাও হয়েছে স্থানীয় বা কংগ্রেসের নির্বাচনে। তাই পুনঃগণনায় গণেশ উল্টে ট্রাম্পের ভাগ্রের শিকে ছিঁড়ে দেবে, এমন কোনো সম্ভাবনাই নেই।

    লেখক: কানাডায় জিওটেকনিকাল বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি

    সর্বশেষ

    লৌহজংয়ে ১মাস ব্যাপি ভ্রাম্যমান কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত

    মো. ইমন হোসেন লৌহজং : মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ং পিপল অব বাংলাদেশ (টেকাব) শীর্ষক কারিগরি...

    এবার যখন আমরা ধরব, ফাইনাল হয়ে যাবে: যুবলীগ চেয়ারম্যান

    নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। তিনি বলেছেন, ‘এবার যখন আমরা...

    আদমদীঘিতে পুকুরে ডুবে শিশু কন্যার মৃত্যু

    আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে শিফা আক্তার নামের দেড় বছরের এক শিশু কন্যার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আদমদীঘির কোমারপুর গ্রামের...

    আদমদীঘিতে ইয়াবা সহ দুই যুবক গ্রেফতার

    আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘি থানা পুলিশ এক অভিযানে ইয়াবা সহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় গোপন সংবাদের...

    শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল-রাজু খান

    আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আদমদীঘি উপজেলা শাখার সাধারন ও উপজেলা...