36 C
Dhaka
Monday, September 28, 2020
No menu items!
More

    করোনাযুদ্ধ এবং আমাদের রাজনীতিকরা

    মহিউদ্দিন খান মোহন
    বলা হয়ে থাকে, রাজনীতিকরাই আমাদের অভিভাবক। কেননা, তারাই আমাদেরকে দেখেশুনে রাখেন। অন্তত তারা এরকমই বলে থাকেন। তাই বিপদ-আপদে, ভাল-মন্দে তারা আমাদের পাশে থাকবেন এটাই জনপ্রত্যাশা। আমাদের এই দেশটি সময়ে সময়ে নানা ধরনের সমস্যা-সংকটে পড়েছে। ঝড়-ঝঞ্জা, বন্যা-খরা, সাইক্লেন-টর্নেডোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে এ দেশ। এসব সংকটে আমরা আমদের রাজনীতিকদের কখনো পাশে পেয়েছি, কখনো সেভাবে পাইনি। যদিও রাজনীতিকরা সর্বদা ওয়াদা করে থাকেন যে, তারা সুখ-দুঃখে জনগণের পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতোই থাকবেন। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় তাদের এ ধরনের আশ্বাসবাণী সাধারণ মানুষের কর্ণযুগলে মধুসম বর্ষিত হয়। তবে বাস্তবতা হলো, সেসব মধুর বাণী বাতাসে ভেসে বেড়ালেও জনগণের কাছে সোনার হরিণের মতো অধরাই থেকে যায়। নির্বাচন পেরিয়ে গেলে জনসাধারণ তাদেরকে সেভাবে আর পায় না। এই না পাওয়ার বেদনা অন্তরে পুষেই এদেশের ভাগ্য বিড়ম্বিত জনগণকে ভোট দিতে হয় সেইসব নেতাদেরকেই। অবশ্য গত দুইটি সাধারণ নির্বাচনে জনগণ সে সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই বলা মুশাকিল।

    এ মুহূর্তে বিশ্ব অতিক্রম করছে এক ভয়ঙ্কর দুঃসময়। বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও করোনা নামের এক অদৃশ্য শত্রুর সাথে যুদ্ধরত। চোখে দেখা না যাওয়া সে শত্রুর সাথে শক্তিমত্তায় পেরে উঠছে না মানুষ। বড় বড় শক্তিধর রাষ্টগুলো, যারা বর্তমান বিশ্বের মোড়ল হিসেবে পরিচিত, তারাও হিমশিম খাচ্ছে করোনা নামের অদৃশ্য শক্তিকে পরাস্ত করতে। হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত পারমানবিক অস্ত্র কোনোই কাজে আসছে না এ যুদ্ধে। তিলে তিলে গড়ে ওঠা এ মানবসভ্যতা একটি অতিক্ষুদ্র জীবানুর কারণে বিপর্যস্ত হতে বসেছে। বৈশ্বিক এ দুর্যোগে কেউ কারো পাশে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে দাঁড়াতেও পারছে না। কারণ সবাই আজ আক্রান্ত। ‘ইয়া নফসি, ইয়া নফসি’ রব উঠেছে গোটা বিশ্বজুড়ে। নিজের দেশকে বাঁচাতে ব্যস্ত সবাই।
    যদিও এখনও পর্যন্ত করোনা আমাদেরকে তেমন কাবু করতে পারেনি। তবে, সামনের দুই তিনটি সপ্তাহ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত দিয়েছেন। সঠিকভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে- এ আশঙ্কা সবাইকে চিন্তিত করে তুলেছে। করোনা শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্রেই ঝুঁকি সৃষ্টি করেনি, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তার প্রতিক্রিয়া হয়েছে মারাত্মক। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে দেশের সব অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে সাথে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনও। ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়ানক পরিস্থিতি। নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা দৈনিক শ্রমভিত্তিক জীবিকা নির্বাহ করে, তারা পড়েছে সবচেয়ে সঙ্কটে। অবশ্য সরকার চেষ্টা করছে জনগণকে এই দুঃসময়ে সাহায্য করতে। পোশাক শ্রমিকদের বেতনের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা ছাড়াও উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ। সব মিলিয়ে এ সংকট থেকে বের হয়ে আসতে সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। তবে, এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যাদের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন হবে তাদের ওপর।

    করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও এই সময়ে আমাদের রাজনীতিকরা কী করছেন তা নিয়ে কথা উঠেছে। তারা কী কোথাও কোথায় হারিয়ে গেলেন? অতীতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তারা কী জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন? জনগণ কী তাদেরকে পাশে পাচ্ছে? ভোটের সময় যেসব নেতাকে ঘর্মাক্ত কলেবরে মাঠেঘাটে ছুটাছুটি করতে দেখা যায়, এখন তাদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না কেন? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকবার তাদেরকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই বিপদের দিনে জনগণের পাশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তা সত্তে¡ও আমরা তাদেরকে তেমনভাবে দেখতে পাচ্ছি না। জনগণের ভোট নিয়ে যারা জনপ্রতিনিধির তকমা গায়ে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেন, এখন তাদের কেন দেখা যাচ্ছে না? তারা কী সেলফ কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন? যদি তাই হয়, তাহলে আমরা আশা করব, রাজনীতির অঙ্গন থেকেও তারা কোয়ারাইন্টেনে চলে যাবেন দয়া করে। যাতে সত্যিকার মানবদরদী ব্যক্তিরা রাজনীতির মাঠে জায়গা পায়। প্রসঙ্গক্রমে এখানে একজন জনপ্রতিনিধির(!) দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি না। রাজনীতিক পিতার সন্তান তিনি। পিতাার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে পুত্র মহাশয় রাজনীতির আসরে কল্কে পেয়েছেন ভালোই। একাধিকবার সংসদ সদস্যও হয়েছেন। অবশ্য সেজন্য তাকে ছাতা বদল করতে হয়েছে বার দুয়েক। তো সে এমপি মহোদয় করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় সভা করে দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেলেন, পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ২০০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করবেন। এজন্য তার পরিকল্পনার কথাও জানালেন। নির্বাচনী এলাকার বিত্তবানদের নিয়ে তিনি মিটিং করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। এলাকবাসী অধীর আগ্রহে উন্মুখ হয়ে থাকল এমপি সাহেবের কর্মোদ্যোগের চাক্ষুষ স্বাক্ষী হতে। কিন্তু হা হতোষ্মি! সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। কেউ জানে না তিনি কোথায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানা গেল, হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা দেওয়ার দু-তিনদিন পরেই তিনি হাওয়াই জাহাজে চড়ে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় অবস্থান নিয়েছেন। জনসেবা বা জনগণের পাশে থাকার কী অপূর্ব দৃষ্টান্ত! এলাকাবাসী এখন বলাবলি করছে, এমপি মহোদয়ের পরিকল্পনার ‘পরি’ তার হাওয়াই জাহাজের সাথেই উড়ে গেছে। এখন পড়ে আছে শুধু ‘কল্পনা’। কেউ আবার একটু বেড়ে বলছে- এমপি সাহেবের হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা ‘পাতালে’ তলিয়ে গেছে, আর ‘হাঁস’ এখন অড়িয়ল বিলের পানিতে জলকেলি করছে। না, আমি এটা বলছি না যে, সব এমপি বা জনপ্রতিনিধি ওই রকমের। কেউ কেউ ইতোমধ্যেই নেমে পড়েছেন ত্রাণকার্যে। সংবাদ মাধ্যমে তা খবরও হচ্ছে। আবার কাউকে দেখা যাচ্ছে যৎসামান্য ত্রাণ দিয়ে তার ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নিজেকে ফেমাস করার চেষ্টা করতে। এরকম আত্মপ্রচারের ক্ষেত্রে রাজবাড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী সৃষ্টি করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। গত ৮ এপ্রিল একটি দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় বিরাট আকারে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশবাসীকে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি ১২ হাজার হতদরিদ্র মানুষকে সাহায্য দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তার এ মানবসেবায় আত্মনিয়োগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু সে সেবার কথা এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করা কেন? তিনি কী প্রচার পাবার জন্যই ত্রাণ সাহায্য দিয়েছেন? এ ধরনের প্রচারে যে সেবার মাহাত্ম্য কমে যায় সেটা অনুধাবন করার ক্ষমতা বোধকরি তার নেই।

    করোনা সঙ্কটে রাজনীতিকরা কী করছেন এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সেদিন একজন বললেন, ‘আরে ভাই, তারা যে এখনও করোনা নিয়ে বাকযুদ্ধ শুরু করে দেননি, সেটাই তো ভাগ্যের ব্যাপার! এখনো যে আওয়ামী লীগ-বিএনপি করোনার দায় একে অপরের কাঁধে চাপানোর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়নি সে জন্য তাদেরকে অন্তত একটা ধন্যবাদ দিন’। এটা অ¯^ীকার করা যাবে না যে, অতীতে নানা সংকটে রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী দুটি দলের মধ্যে পরষ্পরকে দায়ী করে বাক্যাক্রমণ শানানোর অনেক নজিরই আছে। সেসব দৃষ্টান্ত স্মরণে এনেই ভদ্রলোক উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন এটা বোঝা যায়। এটা ঠিক, করোনা আমদানীর জন্য বিএনপি সরকার তথা আওয়ামী লীগকে কিংবা আওয়ামী লীগ বিএনপিকে দায়ী করে কোনো কথা এখনও পর্যন্ত বলেনি। তবে, এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে তাদের পরষ্পরের প্রতি বাক্যবাণ নিক্ষেপ কিন্তু বাকি থাকেনি। এখানে সে বাগযুদ্ধর কিছু উদাহরণ তুলে ধরলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। গত ৩১ মার্চ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ সংকট মোকবিলায় বিরোধীদের কাজে লাগাতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে’। পরদিন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বললেন, ‘বিএনপির উদ্দেশ্য সরকারকে সাহায্য করা নয়, সরকারের ভুল ধরা’। ওইদিনই সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলের ত্রাণ উপ-কমিটির বৈঠকে বললেন, ‘শুধু করোনা নয়, বিভেদের ভাইরাসও জাতির জন্য মারাত্মক’। আর বিভেদের জন্য অবধারিতভাবে তিনি দায়ী করলেন বিএনপিকেই। গত ৪ এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব এক সংবাদ সম্মেলন সরকারের কাছে ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণার প্রস্তাবনা পেশ করেন। জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বললেন, মির্জা আলমগীরের বক্তব্য অসংলগ্ন। আর তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করলেন, অর্থনৈতিক প্যাকেজ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য চোখ-কান থাকতে অন্ধ-বধিরের আচরণ মতো। লক্ষণীয় হলো, বিএনপি মহাসচিবের প্রস্তাবনার দুদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিবের প্রস্তাবনা যে সঠিক ছিল এখন কী তা অ¯^ীকার করা যাবে? এদিকে গত ৭ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করোনা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যমত্য গড়ে তোলার আহবানসহ পাঁচ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে।

    এটাও ঠিক যে, সরকারের বাইরে রাজনৈতিক দল বা রাজনীতিকদের জাতির এ দুর্দিনে তেমন একটা নড়াচড়া করতে দেখা যাচ্ছে না। বিরোধী দলগুলো বিবৃতি আর অনলাইন ব্রিফিংয়ে প্রস্তাবনা জানিয়েই তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করার ঢেকুর তুলছেন, তার বেশি কিছু নয়। কেন, সারা দেশে তাদেরও তো কর্মীবাহিনী রয়েছে। তাদেরকে নিয়ে তারা কেন ত্রাণকাজে নেমে পড়ছেন না? সরকারের ডাকের আশায় কেন তারা বসে থাকবেন? তারা তো মানুষের জন্যই রাজনীতি করেন, নাকি? তাহলে সে মানুষকে বাঁচানোর জন্য তারা এগিয়ে আসছেন না কেন ? তারা যদি মনে করে থাকেন, যেহেতু তারা সরকারে নেই, তাই জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহির বাধ্যবাধকতা নেই, তাহেলে ভুল হবে। কেননা, সমস্য-সংকটে কে কোন দায়িত্ব পালন করল জনগণ তা মনে রাখে। সরকারের বিরোধিতা আর রাজনৈতিক বিবৃতির গন্ডিতে আবদ্ধ থেকে যে জনগণের রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়া যায় না, এটা তাদের বুঝতে হবে।

    মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যথার্থই বলেছেন, বিভেদের ভাইরাস জাতির জন্য কম মারত্মক নয়। তো সে বিভেদ নিরসনের কোনো উদ্যোগ কী তারা নিয়েছেন? অথচ আমরা যদি এ সময়ে অপরাপর দেশগুলির দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব ভিন্নতর চিত্র। আক্রান্ত দেশগুলির সরকার ও বিরোধী দল সব বিভেদ ভুলে এক হয়েছে সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজায়। আমাদের একেবারে নিকট প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী দুই দফায় সর্বদলীয় বঠৈক করেছেন। নানা কারণে সমালেচিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদী সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন এবং সংকট মোকাবিলায় ফোন করে পরামর্শ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের মতো বিরোধী নেতাদের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের যে ডেমোক্রেটরা ক’দিন আগে ইম্পিচ করতে একজোট হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, সেই প্রসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিরুদ্ধবাদীদের নিয়ে করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধ করছেন। এই যুদ্ধে এক হয়েছে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও বিরোধী লেবার পার্টিও। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আমাদের দেশে আমরা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরকে দোষারোপের খেলাই দেখতে পাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে অতি সম্প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট রাজনীতিক রাশেদ খান মেনন মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা কম নয়। নির্বাচন কমিশনেই নিবন্ধিত ৪৪টি দল। তাদের নেতাকর্মীরা যদি করোনা প্রতিরোধে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতেন বা করা যেত, তাহলে অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যেমন উপযুক্ত পরামর্শ পাওয়া যেত, তেমনি তৃর্ণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানুষকে সচেতন করা যেত। সরকার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যেত’ (সমকাল, ৮ এপ্রিল, ২০২০)।

    মহাবিপদের এই সময়ে মানুষ রাজনীতিকদের ইতিবাচক মনোভাব প্রত্যাশা করে। তারা চায় তাদের সেবকগণ এ দুঃসময়ে সংকীর্ণতার বেড়াজাল ছিন্ন করে পরষ্পর হাত ধরে যুদ্ধ শামিল হবেন, জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন। কারণ মানুষের জন্যই রাজনীতি, রাজনীতির জন্য মানুষ নয়। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, আমাদের রাজনীতিকদের উপলব্ধিতে তা একেবারেই নেই। আর তাই জনসাধারণের সে প্রত্যাশার সূর্য কাক্সিক্ষত আলো কখনোই ছড়ায় না। বোধকরি রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতা তাদের বোধবুদ্ধিকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তারা বাইরে বেরিয়ে আসতে পারছেন না।

    লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

    সর্বশেষ

    আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা ও যুদ্ধাপরাধসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলায় লড়েছেন মাহবুবে আলম

    নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চলে গেলেন চিরদিনের জন্য। আইন পেশায়...

    স্পেনের বার্সেলোনা কিংস ক্রিকেট ক্লাবের নতুন জার্সি উমুক্ত ও ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

    জাকির হোসেন সুমন, ব্যুরো চিফ ইউরোপ: স্পেনের বার্সেলোনায় স্হানীয় মধুর কেন্টিন রেষ্টুরেন্টে কাসা ই কুইনার স্বত্বাধিকারী ও বার্সেলোনা বিজনেস ক্লাবের সভাপতি রাসেল...

    মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি লিংকন মোল্লার শোক

    নিউজ ডেস্ক: ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী লিংকন মোল্লা অ্যার্টনী জেনারেল এড মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে...

    বিমানের ফ্লাইট বাড়াতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ

    নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ড....

    অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে বিক্রমপুর শোকে মুহ্যমান

    নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমের মৃত্যুর সংবাদ বিক্রমপুর এলাকায় পৌঁছাতে এখানে দল - মত নির্বিশেষে মানুষের আহাজারিতে বলে...