36 C
Dhaka
Monday, January 25, 2021
No menu items!

ফেরি চলাচল বন্ধ: ঈদ ঘরমুখো মানুষের চোখ কখনও পদ্মার বুকে, কখনও ফেরির দিকে

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু শিমুলিয়া ঘাট থেকে ফিরে: করোনা সংক্রমন ঠেকাতে সোমবার বিকেল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষনা করলেও মঙ্গলবার ভোর সকাল থেকেই হাজার হাজার ঈদ ঘরমুখো মানুষ মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে অবস্থান নেয় শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ী নৌরুটের পদ্মা পারাপারের অপেক্ষায়। জরুরী সেবায় ২টি ফেরি সচল রাখলেও তা নোঙরে রাখা হয় ঘাটের অদূরে। নৌরুট পারাপারে অপেক্ষায় থাকা এসব যাত্রীদের চোখ ছিল ঘাটের অদূরেই নোঙরে থাকা দু’টি ফেরির দিকে, আবার কখনও খরস্রোতা পদ্মার বুকে। মাদারীপুরের যাত্রী মাহমুদুল হাসান জানালেন, আসার সময় ব্যাগে কিছু চিড়া, খেজুর ও পানি নিয়ে এসেছিলাম। গত রাতে সেই চিড়া খেয়েই রোজা রেখেছি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিমুলিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বসে আছি। ফেরি বন্ধ, কখন ছাড়বে তা অনিশ্চিত। প্রখর রৌদ্রের তাপ মাড়িয়ে এই ভর দুপুরে আমার মতো হাজার হাজার মানুষ শিমুলিয়া ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার প্রহর গুনছে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার আশায়।

তবে ফেরির অপেক্ষায় না থাকা যাত্রীর সংখ্যাও কম নয়। নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মার চর থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাঠাঁলবাড়ী ঘাট হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়ে গেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বিকেলে প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে উত্তাল হয়ে ওঠে খরস্রোতা পদ্মা। জরুরি সেবায় নিয়োজিত থাকা দু’টি ফেরি চলাচল করলেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শুরু হওয়ায় দুপুর থেকে শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ী নৌরুটের জরুরি সেবায় থাকা ফেরি দু’টিও বন্ধ রাখা হয়। শিমুলিয়া ঘাট সূত্র জানিয়েছে. মঙ্গলবার সকাল থেকেই পদ্মা নদী উত্তাল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ায় দুপুরের পর থেকে বড় বড় ঢেউ আছঁড়ে পড়ছে পদ্মার বুকে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের সকল নৌরুটেই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসির কাঠাঁলবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম জানিয়েছেন।

অন্যদিকে নৌরুটে সোমবার বিকেল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিমুলিয়া ফেরিঘাটে হাজার হাজার মানুষের ঢল। লৌহজং উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. কাবিরুল ইসলাম খান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইলিয়াস হোসেন শিমুলিয়া ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বেশ কিছু যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ঢাকায় ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারপরও যাত্রীরা ঘাটেই বসে আছেন অপেক্ষায় পদ্মা পারাপারের।

সরেজমিন দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার ঈদ ঘরমুখো মানুষ শিমুলিয়া ঘাটের বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থান করছে। নারী-পুরুষ ও শিশু যাত্রীদের বিচ্ছিন্ন জটলা। নৌরুট পারাপারে অপেক্ষায় থাকা এসব যাত্রীদের চোখ কখনও খরস্রোতা পদ্মা বুকে আবার কখনও ঘাটের অদূরেই পদ্মায় নোঙরে থাকা দু’টি ফেরির দিকে। এভাবেই তাকিয়ে থেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে হাজার হাজার ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের। রাজধানী ও আশপাশ এলাকা থেকে রওনা হয়ে শিমুলিয়া ঘাটে পৌছতেই এসব যাত্রীদের পথে পথে বাঁধা ও দুর্ভোগের পোহাতে হয়েছে।

মাদারীপুরগামী যাত্রী মাহমুদুল জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে পরিবারের ৩ সদস্যকে নিয়ে গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে প্রথমে প্রাইভেটকারে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সড়কের কুচিয়ামোড়া পর্যন্ত পৌছান। সেখান থেকে ১৫০০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি স্কুটারে শিমুলিয়া ঘাটে রওনা হয়ে পথিমধ্যে মহাসড়কে ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশের বাঁধা মুখে পড়েন। এরপর আভ্যন্তরীন গ্রামের সড়ক ঘুরে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে পৌছেন তিনি।

শিমুলিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলেও মাহমুদুল হাসান আরও জানান, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ ছাড়া ফেরি ছাড়া হবে না বলে বিআইডব্লিউটিসি, লৌহজং উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে । এ অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ নৌরুট পারাপার কিভাবে হবে। তারা বলছে ঢাকায় ফিরে যেতে। চাকুরী নেই, সামনে ঈদ। তাই দিশেহারা হয়ে গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। পথিমধ্যে এসে ফেঁসে গেলাম। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। যদি সম্ভব হতো, তাহলে সাতাঁর কেটেই পদ্মা পাড়ি দিয়ে চলে যেতাম।

আবুবক্কর সিদ্দিক নামের অপর এক যাত্রী জানান, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে ঘাটে এসেছি। তিন দফা গাড়ী পরিবর্তন করে অনেক দুভোগের শিকার হতে হয়েছে শিমুলিয়া ঘাটে আসতে। এখন কষ্ট হচ্ছে, রোজা রেখে শিশু সন্তান নিয়ে রৌদ্রে মধ্যে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ধরে বসে আছি ঘাটে কিন্তু ফেরি ছাড়বে বলে জানা গেছে। শাহীন মাদবর নামের এক যাত্রী বললেন, ফেরি বন্ধ জেনেও বসে আছি বুক ভরা আশা নিয়ে। কোনো কারনে যদি ফেরি ছাড়ে, তাহলে তো নিজ বাড়ী যেতে পারবো।

হোসেন মাদবর নামের যাত্রী জানান, করোনাভাইরাসে যতটা না কষ্ট দিচ্ছে, তার থেকে বেশী কষ্ট পাচ্ছি দুর্ভোগের কবলে পড়ে। ৩ দফা গাড়ী পরিবর্তণ, অনেকটা পথ পায়ে হেটে শিমুলিয়া ঘাটে এসেছি। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বরিশালের গ্রামের বাড়ী রওনা হয়ে চরম বিপাকে পড়ে আছেন মন্তব্য করে বলেন, এখন ঢাকায়ও যেতে পারছি না, গ্রামের বাড়ীও যেতে পারছি না। এ অবস্থায় কি করবো কোন কুল কিনারা পাচ্ছি না। কাপড়ের দোকানে চাকুরী করেন। করোনা ভাইরাসের কারনে সেই দোকানও বন্ধ, পকেটেও বেশি টাকা নেই।

সর্বশেষ

ফেসবুকে আনন্দ খোঁজা নিছক মেকি বা প্রহসনের নামান্তর

নজরুল ইসলাম তোফা:: প্রেম, পুলক, উল্লাস, আহ্লাদ, পূর্ণতা, পরিতোষ প্রভৃতি একক, একাধিক বা সম্মিলিত অণুভুতিকে আনন্দ/সুখ বলে। জীববিদ্যা, মনঃস্তত্ত, ধর্ম ও দর্শনে...

এবার মুন্সীগঞ্জে নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার

কাজী দীপু, মুন্সীগঞ্জ: এবার মুন্সীগঞ্জে নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার। আসন্ন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও...

মুন্সীগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যার বিচার পাওয়া তো দুরের কথা, জীবন নিয়েই শঙ্কায়

কাজী দীপু মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান খান হত্যা মামলার আসামী আইয়ুব খান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বাদীপক্ষ ও স্বাক্ষীদের প্রতিনিয়ত...

বাগেরহাটে হতদরিদ্রদের মাঝে গরু বিতরন

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় হতদরিদ্রদের মাঝে গরু(বকনা) বিতরন করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ । রবিবার দুপুরে সরকারী সিএস পাইলট মডেল...

মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার, দায় কার?

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোংলা বন্দরের জেটিতে দুটি বিদেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বন্দর জেটিতে প্যানাডার (রাবার বা কাঠজাতীয় প্রটেকশন)...