36 C
Dhaka
Tuesday, January 26, 2021
No menu items!

ঢাকা থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের চেষ্টা করলেই ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গাড়ি

নিউজ ডেস্ক: রাজধানী থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের চেষ্টা করলেই গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ঘরমুখো মানুষের বেশির ভাগ যানবাহন ফিরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম দুই পয়েন্ট নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এই চিত্রই ধরা পড়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছেঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ মঙ্গলবার ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ অনেকটা কম রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য বিপুল পরিমাণ যানবাহন বের হয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনাঘাট ও সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যক্তিগত যানবাহন প্রাইভেটকার মাইক্রোবাস সিএনজি মোটরসাইকেল চরে যে সব যাত্রী ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন এবং যারা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন সেসব গাড়ি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার জন্য যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারলে এসব যানবাহনকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম জানান, ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় যাতে কোনও যানবাহন প্রবেশ বা ঢাকা থেকে বের হতে না পারে সেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আটটি জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া যেসব গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ করছে তাদের ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসহ যৌক্তিক কারণ যেসব যাত্রীরা দেখাতে পারছেন তাদের ঢাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ঘাট, লাঙ্গলবন্দ, মদনপুর, কাঁচপুর, সাইনবোর্ড, শিমরাইলসহ নারায়ণগঞ্জ অংশে আটটি চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকার প্রবেশ ও বাহিরের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। যাতে করে ঈদকে সামনে রেখে সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনও যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ ও বের হতে না পারে।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইল মোড়, কাচপুর, মদনপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক লোকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদকে সামনে রেখে এসব যাত্রীরা ঢাকা থেকে বের হওয়ার জন্য বিভিন্ন যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু মহাসড়কে গণপরিবহন না থাকার কারণে এসব যাত্রীরা ছোট ছোট যানবাহন মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি, রিকশা ভ্যান সহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে মহাসড়কের পাশে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও পরিবহন না পেয়ে ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম জানান, প্রতিদিনই করোনার ভয়াবহতা বাড়ছে। এ অবস্থায় যদি যানবাহনকে ঢাকার বাইরে ও নতুন করে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয় তবে পরিস্থিতি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনার ভয়াবহতা রোধে আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনও গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ বা ঢাকা থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।

গাজীপুরের সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চারটি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদের পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত এ তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ সময় পুলিশ যাত্রীবাহী যানবাহন ঢাকার দিকে প্রবেশে বাধা দেয়। তবে জরুরি প্রয়োজনের কাজে ব্যবহারের যানবাহন চলতে দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যবাহী যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধ বহনকারী যানবাহন আওতামুক্ত থাকবে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) মহানগরের টঙ্গী, গাজীপুর বাইপাস-গাউছিয়া সড়কের মীরের বাজার, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা (বিআরডিসি গেইট) ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী এলাকায় এসব চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন চলাচলে কঠোর নজরদারি করছে। গাজীপুর দিয়ে যাতে রাজধানী ঢাকায় যানবাহন প্রবেশ ও বের হতে না পারে এজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার আনোয়ার হোসেন।

শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা রওনা হয়েছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যেতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু মহাসড়কের টঙ্গী এলাকায় পুলিশ আমার প্রাইভেটকার আটকে দেয়। প্রয়োজনীয় প্রমাণ না দেখাতে পেরে পুলিশ আমাকে ফিরিয়ে দেয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, যাতে কোনও যাত্রীবাহী পরিবহন রাজধানী ঢাকার দিকে প্রবেশ করে করোনাভাইরাস না ছড়ায় সেই কারণে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

সালনা হাইওয়ে থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নিত্য পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সব পরিবহন চেক করা হচ্ছে যাতে কোনও যাত্রী চলাচল না করতে পারে।

কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আল মামুন জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যাতে নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হয়, সে জন্য আমরা লোকজনকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করতে দিচ্ছি না। এ ব্যবস্থার জন্যই আমাদের তল্লাশি। আমরা চাই সবাই ভালো থাকুন।

এছাড়া জেলার শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায়ও পুলিশকে তল্লাশি করতে দেখা গেছে।