36 C
Dhaka
Friday, January 22, 2021
No menu items!

ভার্চুয়াল কোর্ট চলবে যে প্রক্রিয়ায়–


এডভোকেট মিল্টন বসু অপু

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে আসামি, সাক্ষী এবং আইনজীবীদের সশরীরে উপস্থিতি ছাড়াই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম চলবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ অনুসরণ করেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের চেম্বারজজ ও হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এছাড়া আইনজীবীদের ভার্চুয়াল আদালত ব্যবহারের বিষয়ে ‘আমার আদালত: ভার্চুয়াল কোর্টরুম ব্যবহার ম্যানুয়াল’ নামে আলাদা একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এই ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার জন্য এরইমধ্যে একটি ওয়েবপোর্টাল চালু করা হয়েছে।আবেদন, শুনানি সবই হবে এ পোর্টালের মাধ্যমে।

virtual court in bangladesh

‘আমার আদালত’
ভার্চুয়াল আদালতে বাদী/বিবাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য একজন আইনজীবীকে নিজের নাম, ছবি, ইমেইল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধন ও অন্যান্য কাজটি হবে ভার্চুয়াল আদালতের ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে। রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে আইনজীবী ভার্চুয়াল কোর্ট পোর্টালে ঢুকতে পারবেন।

সেখানে জামিন আবেদন ও বেইল বন্ড দাখিল সংক্রান্ত দুটি ঘর থাকবে। কোনো আইনজীবী জামিন আবেদন করতে চাইলে জামিন সংক্রান্ত ঘরে প্রবেশ করে মূল জামিন আবেদন, ওকালতনামা ও সংযুক্ত নথিপত্র পৃথক তিন ধাপে স্কান করে আপলোড করবেন।

আবেদন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কর্মকর্তা এ আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সংশ্লিষ্ট বিচারকের অনুমোদনের পর আইনজীবীর ইমেইলে শুনানির সময় জানিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের জন্য একটি লিংক দেয়া হবে।

নির্ধারিত সময়ে ওই লিংকে ঢুকে আইনজীবী বিচারকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন এবং নিজের আবেদনের ওপর শুনানি করবেন। জামিন মঞ্জুর হলে একই পোর্টালে বেইল বন্ড দাখিল করবেন আইনজীবী।

এভাবে আসামি, সাক্ষী এবং আইনজীবীদের স্ব শরীরে উপস্থিতি না হলেও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের যুক্ত করার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালতগুলোকে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশে’।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাই থাকুক না কেন, যেকোনো আদালত এই অধ্যাদেশের ধারা ৫ এর অধীন জারিকৃত প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) সাপেক্ষে, অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষরা বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীর ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করে যেকোনো মামলার বিচার বা বিচারিক অনুসন্ধান বা দরখাস্ত বা আপিল শুনানি বা সাক্ষ্যগ্রহণ বা যুক্ততর্ক গ্রহণ বা আদেশ বা রায় প্রদান করতে পারবে।”

অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষ বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীর ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি বা ক্ষেত্রমতে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। এতদিন বিচারিক আদালতে সাংবিধানিকভাবে বিচারকার্য চালাতে আসামি, সাক্ষী এবং আইনজীবীদের সশরীরে উপস্থিতি প্রয়োজন হতো।

এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলেই তা সশরীরে আদালতে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য হবে। ভার্চুয়াল উপস্থিতির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, অডিও ভিডিও ই -কোর্ট বা ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় একজন আইনজীবীর কিছু উপকরণ জরুরি।

প্রথমত একটি স্মার্টফোন, একটি ল্যাপটপ / কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার কাম স্ক্যানার। টাইপিং, হেয়ারিং এর জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপ গুলি ডাউনলোড করা।

ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সঙ্গে যখন ফটোককপিয়ার যুক্ত হবে তখন প্রয়োজনীয় কাগজ, কাজ চালানোর মত উল্লেখিত জিনিসগুলি কিনতে একজন আইনজীবীর ৮০/৯০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে অনেক আইনজীবীর জন্যই এ সময়ে এই টাকাটা জোগাড় করা দুঃসাধ্য।

কিন্তু এই ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার আইনজীবীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তরুণ আইনজীবীদের বেশিরভাগই এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানালেও প্রবীণ আইনজীবীরা এ প্রক্রিয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন।

বয়সজনিত কারণে প্রযুক্তিগত বিদ্যায় জ্ঞানের অভাব, অনভ্যস্ততা, তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব ইত্যাদি কারণে মূলত প্রবীণ আইনজীবীরাই এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। অভিযোগেরও অন্ত নেই তাদের।

ট্রেনিং, ট্রেনিং, ট্রেনিং—!

আইনজীবীদের জন্য, বিচারকদের জন্য এবং আমাদের কোর্টের স্টাফদের জন্য।এই ট্রেনিং কিন্তু ভার্চুয়ালিও হতে পারে। এই ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম কে কিছু কিছু জেলার আইনজীবীগন গ্রহন করতে অনিহা দেখাচ্ছেন। আবার অনেক আদালতে এটা শুরু হয়ে গেছে এবং প্রায় ৫০০ অধিক আসামীর জামিন বিভিন্ন আদালত মঞ্জুরও করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবীগনেরও প্রাথমিক অবস্থায় এ আইন সম্পর্কে অনিহা ছিল। তাদের অভিমত ছিল এ কোর্টে শুধু শুনানী হবে ভার্চুয়ালি, কিন্তু সংশ্লিষ্ট আদালতের নথির আনুসংগিক সংগ্রহ করতেও আইনজীবী বা তার ক্লার্কে যেতে হবে আদালতে।

আসামীর আত্মীয় স্বজনগন যোগাযোগ করবে আইনজীবীর সাথে। তাই স্যোসাল ডিসস্টেন্স বজায় থাকবে না আইনজীবীদের। তাই তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন মুন্সীগঞ্জের আইনজীবীরা। তার উপর স্লো নেটের সমস্যা তো আছেই। এতে সুরক্ষিত থাকবে শুধু বিচারকগন।

তাই স্যোসাল ডিসস্টেন্স বজায় থাকবে না আইনজীবীদের। তাই তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন মুন্সীগঞ্জের আইনজীবীরা। তার উপর স্লো নেটের সমস্যা তো আছেই। তদুতার উপর স্লো নেটের সমস্যা তো আছেই। এতে সুরক্ষিত থাকবে শুধু বিচারকগন।

তদুপরি আসামীদের সমস্যার কথা চিন্তা করে আজ থেকে ভার্চুয়েল কোর্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইন জীবীগন। কিন্তু এ ভার্চুয়েল কোর্টে আপাতত নতুন আসামীদের সারেন্ডার করাতে আদালত অনিহা প্রকাশ করেছেন। এবং আপাতত দেওয়ানী সংশ্লষ্ট কোন বিষয়ে ভার্চুয়েল কোর্টে কোন আবেদন নেয়া হচ্ছে না।

তথাপিও বর্তমান সময়ের আঙ্গিকে এ ছাড়া কোন উপায় নেই। আমি এ ভার্চুয়েল কোর্টের সফলতা কামনা করি।

সর্বশেষ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় বাগেরহাটে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ৪৩৩ ঘর

বাগেরহাট প্রতিনিধি : মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে বাগেরহাটে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ৪৩৩টি ঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের...

৭ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে সাত বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনাম শেখ (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি)...

শরণখোলা ছাত্রলীগে বিভক্তি সংবাদ সম্মেলনে কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতারা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: তিন বছর পর হঠাৎ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগ। জেলা কমিটি থেকে এক সংবাদ...

বাগেরহাটে সরকারী রাস্তার গাঁছ বিক্রি করছে একটি চক্র

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের কচুয়ায় সরকারী রাস্তার পাশের গাঁছ কেটে বিক্রি করছে গাছ খোকো একটি চক্র। কিছু অসাধূ ব্যাক্তির সাথে গোপনে আতাঁত করে...

বাগেরহাটে মাছের খামারে ঘুরে দাড়িয়েছে বনানীর সংসার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারীতে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পে’র ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এ উপজেলার বেকার যুবক-যুবতী, গৃহিণী ও...