36 C
Dhaka
Tuesday, January 26, 2021
No menu items!

আড়িয়ল বিলের সুখ দুঃখ—!

আবদুর রশীদ খান

নামকরণ ও ভৌগলিক সিমানা ও বর্তমান অবস্থা—-

মুন্সিগঞ্জ এবং ঢাকা জেলার শ্রীনগর, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার ১ লাখ ৬৭ হাজার একর জায়গা নিয়ে পদ্মা, ধলেশ্বরী ও ইছামতির মাঝখানে আড়িয়ল বিলের অবস্থান। লম্বায় ২৬ কিলোমিটার ও পাশে ১২ কিলোমিটারের এ বিলের প্রাচীন নাম ছিল ‘চুড়াইন বিল’।

প্রাচীন বিক্রমপুর গ্রন্থ হতে জানা যায়, আড়িয়াল খাঁ নামে ব্রহ্মপুত্রের ১ টি শাখা নদী বিক্রমপুরের উপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল, প্রাচীন বিক্রমপুরের অংশ মাদারীপুরে এখনো আড়িয়াল খাঁ নদীর অস্তিত্ব আছে।

গঙ্গা ও ব্রম্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তিত হলে নদীর এ অংশটুকু মৃত নদীতে রুপান্তরিত হয়ে বিলের রুপ ধারন করে। পূর্ব নাম চুড়াইন বিল বদলে আড়িয়াল খাঁ নদীর নামানুসারে বিলের নাম ‘আড়িয়ল বিল’ হয়ে যায়। বিলের সীমানা- দক্ষিণে দয়হাটা, শ্যামসিদ্ধি, প্রাণীমণ্ডল,সেলামতি, মত্তগ্রাম, গাদিঘাট, রাড়িখাল ও মাইজপাড়া।

উত্তরে শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, আলমপুর শেখরনগর, মদনখালি, সুতারপাড়া ও তেঘরিয়া। পূর্বে হাঁসাড়া, ষোলঘর, কেয়টখালী, লস্করপুর, মোহনগঞ্জ । পশ্চিমে কামারগাঁও, বালাসুর, জয়পাড়া, জগন্নাথ পট্টি, কাঁঠালবাড়ী, মরিচপট্টি, মহুতপাড়া গ্রামগুলো অবস্থিত। বিলে ছোট বড় মিলে প্রায় হাজার খানেক জলাধার, ডোবাও ডাঙা (পুকুর) থাকলেও বড় বড় ডাঙাগুলো পূর্বে স্থানীয় জমিদার বা রাজারা খনন করেছিলেন।

বিলের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডাঙার ( দিঘি) নাম হল- নৈমুদ্দিন, বাগমারা, সানাইবান্ধা, সাগরদিঘী, বৈরাগীর ডাঙা, খালেকসাব ডাঙা, মনসা, কালাচান দিঘি, বসুমালা, বসুর হাওলা, মাধবী, লালদিঘী, ঘোড়াপট্টি, টঙ্গীবাড়ি, হাসিমুল্লাহ, বন্ধপুকুড়িয়া, সাদকালী, বালিবুইন্না, ছলেমনদিঘী, বড়খোলা, সাহাবদিঘী, নন্দকুমার, বাউডারডাঙা, কালিশান, পালের ডাঙা, কলাগাছিয়া, নারকেলগাছিয়া, তালগাছিয়া, ঝড়ঝড়িয়া, পরশুরাম, আঠারোপাখি, সাচরাতি, গাউচ্ছাভিটা, বাগবাড়ি, মইতপাড়া ও মত্তগ্রাম ইত্যাদি।

ডাঙার মাছ স্টীমারে করে কলকাতা পর্যন্ত যেত, এ জন্য পালেরা বিল সংলগ্ন বালাসুরে খালের পড়ে বড় আরেকটি বরফকল নির্মাণ করেছিলেন। এ বিলে প্রথম দিকে শুধু মাত্র মাছ ধরা যেত, ক্রমান্বয়ে বিল পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেলে শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ হত। সে সংগে শীতকালে অপেক্ষাকৃত উপরাংশে রবিশস্য ও মাটি কেটে ভিটিতে করল্লা, খিরাই, টমেটো, কুমড়া, লাউ ইত্যাদি শাকসবজির আবাদ হতে থাকে।

বিলে অসংখ্য দেশিও বিদেশি পাখির আনাগোনা ছিল, বুনো হাঁসগুলো সকালে পদ্মার চরে আশ্রয় নিত সন্ধ্যা হলেই দল বেঁধে আবার বিলে ফিরে আসত। বিলের চারপাশে মাছ ও সবজীর দৈনিক সাপ্তাহিক হাট বসতো, আমাদের নিকটবর্তী মাইজপাড়া সংলগ্ন ‘অদেরপাড়ের হাট’ থেকে গ্রামের লোকজন বর্ষাকালীন ছয় মাসের কুমড়া কিনে এনে ঘরের চৌকির নিচে রেখে দিত।

চিংড়ী ও ইলিশ মাছ মিশিয়ে রান্না করা কুমড়ার স্বাদ ভুলবার নহে। ষাটের দশকে দেখেছি, বিলে ২০/২৫ হাত পানি হত, বিশাল বিশাল ঢেউ উত্তর দিকে আছড়ে পড়তো। গরুর খাবারের জন্য অনেকে ‘মনকা’ বা ‘ময়না’ নামের দল জাতীয় ঘাস বড় নৌকায় করে বিল হতে তুলে নিয়ে বাড়ির পাশে পানিতে ভিজিয়ে রেখে মজিয়ে গরুকে খাওয়াতো।

বিলের ঢেউ এর কারনে উত্তরের জনপদ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত। উঁচু বাড়ির মাটি ভেঙে পড়ত, আমন ধান ঢেউয়ের তোড়ে অথবা কচুরি পানায় নষ্ট হয়ে যেত। এজন্য ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন একত্রিত হয়ে ব্রিটিশ সরকারের নিকট ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষার আবেদন জানালে সরকার বাহাদুর আলমপুর পুটিমারা হয়ে মরিচপট্টি পর্যন্ত প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার গজারি গাছের খুঁটি পুঁতে কয়েক স্তর মোটা তার লাগিয়ে দেন।

ফলে বেড়ার দক্ষিণ পাশে জমে থাকা কচুরির স্তুপের কারনে ঢেউ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দুর্বল হলে উত্তরের জনপদে স্বস্তি নেমে আসে। আগে রাড়িখাল সংলগ্ন বিলে গেলে উত্তর দিকে তাকালে সারি সারি খুঁটির কালো রেখা দেখা যেত, খাল দিয়ে যেতে আলমপুরের একটু আগে কাছ থেকে খুটিগুলো দেখা যেত। এরশাদের আমলে ‘৮০-৮২ সাল হতে খুঁটিগুলো আর দেখা যায় নি।

শুনেছি, এগুলো নানান কায়দায় বেহাত হয়ে গেছে। বিলের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে ব্যর্থ SMB বাঁধ এবং KRB বাঁধের কারণে পদ্মার জোয়ারের পানি ঢুকার সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে আছে। এমন কি শ্রীনগর- ভাগ্যকূল সড়কের আগের ৭টি কাঠের ও ১টি লোহার পুল তুলে ফেলে সে স্থানগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

এ বিলে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমান বন্দর হবার কথা ছিল, এলাকার কিছু লোক ও পরিবেশবাদী আড়িয়ল বিল রক্ষায় আন্দোলনে নামেন, সরকার ও এখান থেকে সরে দাঁড়ায়। তাই বলে ভুমি দখলদারদের আগ্রাসন মোটেও থেমে নেই, দিন দিন নুতন নুতন বসতির লোকালয়, ইটের ভাটা, ইট তৈরীর জন্য বিলের উর্বর টপসয়েল কেটে নেয়া ইত্যাদি বাঁধাহীন ভাবেই চলেছে এবং তা প্রায় অক্টোপাসের মতো চারপাশ থেকে।

এখন বিলে কোন অতিথি পাখির আগমন নেই, বিলের উত্তর পাশ দিয়ে ইছামতি ও ধলেশ্বরী নদী দিয়ে কিছু পানি ঢুকলেও তা পর্যাপ্ত নহে, ভরা বর্ষায় পদ্মায় যে জোয়ার আসে তা অনেক পথ ঘুরে বিলে ঢুকতে ঢুকতে ভাটার টান শুরু হয়ে যায় ফলে পানির উচ্চতা বাড়ে না।

পুরো বিলের পানি দেখতে কালোই থেকে যাচ্ছে। পদ্মার পলি না পড়ায় জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ ও শাপলা তার আগের চরিত্র হারাচ্ছে। পানির অভাবে ডাঙাগুলোতে এখন প্রাকৃতিক মাছ সেভাবে পাওয়া যায় না বিধায় বাধ্য হয়ে জেলেরা কৃত্রিম পোনা ছাড়ছে। এ ভাবে চলতে থাকলে আড়িয়ল বিল আগামী কয়েক বছরে তাঁর ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।( চলবে)

সর্বশেষ

মার্চের প্রথম সপ্তাহে খুলবে ঢাবির হল

নিউজ ডেস্ক: মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে শুধুমাত্র অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষার্থীর মধ্যে যারা আবাসিক (শিক্ষার্থী) তাদের জন্য হল খুলে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত...

বগুড়ায় আলোচিত তুফান সরকারের ভাই সোহাগ সরকার গ্রেফতার

বগুড়া প্রতিবেদক: ৯৯৯এ কলপেয়ে বগুড়ায় ট্রাক মালিককে আটকে রেখে মারপিট ঘটনায় আলোচিত তুফান ও মতিন সরকারের ভাই সোহাগ সরকার(৪০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।...

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে খুলতে পারে সরকারি প্রাথমিক: প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে...

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী

নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে এবার কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবে না। তবে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্যারেডে...

দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে দেশে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রাথমিক কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই নিবন্ধনের জন্য অনলাইন...