36 C
Dhaka
Wednesday, January 27, 2021
No menu items!

ধনী ও মধ্যবিত্তদের হাত বেঁধে ত্রাণ দিন

মুজিব রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ওএমএস ডিলার মো. শাহ আলমের কাণ্ড বিস্ময়কর ও নজিববিহীন নয়। তিনি ভিক্ষুকসহ হত-দরিদ্রদের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকায় স্ত্রী, মেয়েসহ স্বজনদের নাম দিয়েছেন। বিষয়টি মিডিয়াতে আসায় জেলা ওএমএস কমিটির সভায় শাহ আলমের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ৮৪ ধনী ব্যক্তি ও দ্বৈত নাম, এক ঘরের দুইজনের নাম, ঠিকানা খোঁজে না পাওয়া এমন আরো সাতজনসহ মোট ৯১ জনের তালিকাও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এই ৯১ জনের সকলেই মধ্যবিত্ত বা ধনী। হত দরিদ্রদের টাকা হাতিয়ে নেয়া এ দেশে অহরহই ঘটে। ভিক্ষুক-হত দরিদ্রদের টাকা হাতিয়ে নেয় দরিদ্ররা, দরিদ্রদের টাকা হাতিয়ে নেয় মধ্যবিত্তরা, মধ্যবিত্তদের টাকা হাতিয়ে নেয় ধনীরা। টাকা হাতিয়ে নেয়ার এক সিঁড়ি। আর ধনীরা বলে, হত দরিদ্রদের টাকা সাহায্য দিলে তা কোন কাজে আসে না। আসলে খাতা কলমে টাকাটা দেয়া হলেও বাস্তবে তা হত দরিদ্রদের হাতে যায় কি না তার খোঁজ নেয়া দরকার।

করোনাভাইরাস পাদুর্ভাবের কারণে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারো খাটের তলায় শত শত তেলের বোতল, কেউ ১২শ বস্তা চাল রেখেছেন জামাত নেতার গোডাউনে, কেউ বিক্রি করে দিয়েছেন পাইকারদের কাছে। হতদরিদ্রের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বহুবিধভাবে। বস্তা বস্তা চাল সরানো ছাড়াও মাপে কম দেয়ার অভিযোগ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই। ১৫ কেজির পরিবর্তে দেয়া হয় কয়েক কেজি করে কম। উত্তোলনকৃত অর্ধেক চাল বিতরণ করে বাকি অর্ধেক বিক্রি করে দিচ্ছে খোলা বাজারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত হতদরিদ্র মানুষেরা চাল না পেলেও চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মনোনীত পছন্দের ব্যক্তিরা চাল পেয়েছেন। চাল বিতরনের সময় ট্যাগ অফিসারও উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত থাকেন না। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে চাল খাদ্য গুদাম থেকেই সরাসরি ব্যবসায়ীদের দোকানে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কোথাও নির্বাহী কর্মকর্তাও ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগে প্রত্যাহৃত হয়েছেন। মানে হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাতের সাথে মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারি কর্মকর্তা সকলেই জড়িত। তারা হত দরিদ্র-ভিক্ষুকদের চাল আত্মসাৎ করে কোনরূপ লজ্জা পান না। ধরা পড়লে বিভিন্ন অজুহাত দেন।

তখন গ্রামের এক অফিসে চাকরি করি। আমার অফিস কক্ষ ঝাড়ু দেন এক বৃদ্ধ দম্পত্তি। দুজন মিলেই কাজ করেন যদিও স্বাভাবিক ভাবেই স্ত্রীকে মাসে ৩০০ টাকা করে দেয়া হতো। বিস্মিত হলাম জেনে যে, তাদের আর কোন আয় নেই। এ দিয়েই খুব কষ্টে সংসার চালান। তাদের বয়স্কভাতার কার্ড নেই। কদিন পরেই বয়স্ক ও বিধবাভাতা দিতে গিয়ে বিস্মিত হলাম। একেকজন ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলা। একজন জানালেন, এই বাজারের অর্ধেকের মালিকই তিনি। বললাম, তবে বয়স্কভাতা নেন কেন? এটা তো গরীবদের জন্য। তিনি আরো বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘আরে কি কন? এটা হল সরকারি সম্মান!’ বিধবাভাতার কার্ডধারী আরেক ভদ্র মহিলার অভিজাত চেহারা ও পোষাক দেখে বললাম, আপনার সন্তানরা কি করে? তিনি জানালেন, ‘বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী’। পরে স্থানীয় মেম্বারকে হুমকি দিলাম, যদি আমাদের ঝাড়ুদারদের বয়স্কভাতার কার্ড না দেন তবে, সব ফাঁস করে দেবো। পরে খবর নিয়ে জেনেছি হুমকিতে কাজ হয়েছিল। মহিলাকে বয়স্কভাতার কার্ড দিয়েছিল। আরেক শাখায় ভাউচার চেক করতে গিয়ে দেখলাম, বয়স্কভাতাধারী একজনের হিসাবে থাকা ৯০০০/- টাকা হতে ৩০০০/- টাকা ডেবিট করা হয়েছে কিন্তু ভাউচার নেই। সন্দেহ হলে চেক করে দেখলাম আমারই একজন প্রিন্সিপাল অফিসার বয়স্কভাতার হিসাব ডেবিট করে তার নিজের চেক সংযুক্ত করে টাকাটা আত্মসাৎ করেছেন। খুব রাগ হল। আমি আমার বসকে জানালাম বিষয়টি। তদন্ত করতে বললাম। ওই ছেলেটি অনেক টাকাই বেতন পায়। তার এক ভাইও সরকারি চাকরি করে। পিতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। কিভাবে পারল? কিন্তু আমার বস বললেন, ও সরকারি দলের ছাত্র রাজনীতি করতো এবং বাড়ি ওই জেলায়। বাদ দেন, উল্টো বিপদে পড়বেন। কিছুই করা গেল না। অনুরোধ করে টাকাটা শুধু ওই হিসাবে ফেরত দেয়ালাম।

কৃষি ঋণের সুদের হার কিছুটা কম বলে, কিছু শাখা ব্যবস্থাপক বিভিন্ন নামে বেনামে কৃষি ঋণ নিয়ে নেন। এগুলোতে তারা টাইমবার্ড (তিন বছরে অন্তত একবার জমা না দিলে ওই ঋণ টাইমবার্ড বা তামাদি আইনে বারিত হয়) ঠেকাতে ১০ টাকা বা ২০ টাকা জমা দিয়ে রাখেন। ভবিষ্যতে সুদ মওকুফ বা ঋণ মওকুফের সুযোগও পেয়ে যান। এখানেও দরিদ্র কৃষকদের জন্য বরাদ্দ লুট করা হয়। আবার কৃষকদের নামে ধনী অকৃষকদের কৃষিঋণ দেয়ার অভিযোগও কম নয়।কম সুদ বলে ধনীরা লুটতে চায় দরিদ্র কৃষককে দেয়া সুবিধা।

ত্রাণ আত্মসাত বন্ধের জন্য সরকার ও চোরদের মধ্যে ইঁদুর বিড়াল খেলা চলে। সরকার এজন্য আগে দরিদ্রদের জন্য গম বরাদ্দ দিতো। ডাক্তারগণ ধনীদের দুবেলা রুটি খাওয়ার পরামর্শ দিলে গরীবের ত্রাণের গম ধনীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। তারা বলতো ত্রাণের গম নাকি বেশি ভাল। গম লুট হতে থাকায় আসে নিম্ন মানের চাল বিতরণ। সেই চাল ধনীরা বা মধ্যবিত্তরা খেতে পারবে না। ফলে গরীবের চাল গরীবেই পাবে। কিন্তু ধনী বা মধ্যবিত্তদের রয়েছে বহুবিধ কৌশল। তারা ত্রাণের চাল বস্তা ধরেই বিক্রি করে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের কাছে। সেখান থেকে নগদ টাকা নিয়ে কিনে খাচ্ছেন ভারতীয় বা পাকিস্তানি বাসমতি চাল। ধনীদের অনুপযুক্ত ত্রাণ হলেই ধনীরা তা আত্মসাৎ করবে না তার নিশ্চয়তা রইল না। সরকারি-বেসরকারিভাবে নিম্নমানের যাকাতের কাপড় দরিদ্রদের দেয়ার প্রচলন রয়েছে। ভাবা হয় এই কাপড় ধনী-মধ্যবিত্তদের স্ত্রী-মা-বোনরা পড়বে না। একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জানলাম, ২ কোটি টাকার সরকারি ত্রাণের টেন্ডার পেতে তাকে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। তাকে ৫০ লক্ষ টাকা লাভ করতে খুবই নিম্নমানের কাপড় সাপ্লাই দিতে হয়। এখানে হত-দরিদ্রদের কাপড় সরাসরি আত্মসাৎ না হলেও আগেই ৫০% লুট হয়ে যায়।

যে ধনিক শ্রেণি ত্রাণ লুট করে তারাই আবার ত্রাণ দেয় কেন? আত্মীয়-স্বজনদের ত্রাণ দেয়ার পেছনে বংশানুগত সম্পর্কিতদের রক্ষা করার জৈব তাড়না থাকে। এগুলো তারা গোপনেই দেন অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু অনাত্মীয়দের কেন দেন? শুধু কি পরকালের পুণ্যি অর্জনের জন্য? নাকি এখানে সমাজসেবক হিসেবে আত্মপ্রসাদ লাভ বা জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য। অনেক ধনী শিল্পপতিই বিভিন্ন সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দেন। বিশ্বসাহিত্য সংস্থাটি চলে বিভিন্ন ধনী মানুষের চাঁদায়। কেন ধনীরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে চাঁদা দেয়? সরাসরি না জানলেও অনুমান করি, তারা জ্ঞানমুখী সমাজ বা আলোকিত সমাজ দেখতে চায়। সেই চাওয়া পূরণ করতেই দান করেন। যখন দেখেন তাদের দানে মানুষ বই পড়ছে, জ্ঞান আহরণ করছে তখন আনন্দ লাভ করেন। এটা দোষের নয়। আমরা ফেসবুকে দেখি ১টি কলা চারজন মিলে একজন দীন-দুঃখিকে দিয়ে আবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। কম আয়ের মানুষেরও দাতা হতে মনে চায়। খারাপ নয়। কয়েকজন দুঃখি মানুষকে বহুজন মিলে ত্রাণ দিয়ে তা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছিল। তখন কিছু মানুষ নিন্দা জানানো শুরু করে। এতে আবার এই প্রবণতা হ্রাস পায়। ইনকাম ট্যাক্স থেকে রক্ষার জন্যও অনেকে দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যায়। দাতাও হওয়া যায় আবার ইনকাম ট্যাক্সও কম দেয়া যায়।

শ্রমিক শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ঠকে তাদের কারখানা থেকেই। তাদের শ্রমের তুলনায় বেতন অনেক কম দেয়া হয়। এ নিয়ে কার্ল মার্ক্সের উদ্বৃত্ত বেতন ও উদ্বৃত্ত শ্রম তত্ত্ব রয়েছে। অর্থাৎ একজন শ্রমিক হয়তো দৈনিক ২ ঘন্টা শ্রম দিয়েই যে পণ্য উৎপাদন করেন তা তার মজুরীর টাকার সমান। হয়তো আরো দুঘণ্টা শ্রম দেন প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য। বাকি ৪ ঘণ্টা আত্মসাৎ করে নেয় মালিক পক্ষ। শ্রমিকের উদ্বৃত্ত শ্রমের টাকায় ফুলে ফেঁপে উঠে ধনিক শ্রেণি। সেই টাকারই কিছু অংশ তারা ফিরিয়ে দেয় দান খয়রাত করে বা ত্রাণ দিয়ে। দান করে আনন্দ লাভ করাটাও তাদের তাড়িত করে। আবার ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে অনেকে পর্যাপ্ত যাকাত দেন। সেই যাকাতের টাকায় তারা আড়ম্বর করে কম দামের যাকাতের শাড়ি বিতরণ করেন। এই বিতরণে প্রতিবছরই কমবেশি দরিদ্র মানুষ পদদলিত হয়ে মারা যায়। বেসরকারি দানগুলো অধিকাংশই যায় দাতাদের স্বজনদের দখলে, তারা হতদরিদ্র না হলেও।

আগে এনজিওগুলোও বিদেশি সহযোগিতায় ত্রাণ বিতরণ করতো তাদের গ্রুপ সদস্যদের মাঝে। এতে গ্রুপ ঐক্য ধরে রাখা সহজ হতো এবং সংখ্যা বাড়ানো সহজ হতো। এনজিওগুলো যত মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারবে ততই সুবিধা। তাদের উচ্চ সুদে ঋণ দিয়ে লাভ করাই এনজিওগুলোর প্রধান কাজ। এখন এনজিওগুলোতে বিদেশি সাহায্য কমে গেছে। তারা টিকে আছে শুধু দরিদ্র মানুষদের উচ্চ হারে ঋণ দিয়েই। ফলে তাদের ত্রাণও আর দেখা যায় না। তাদের ত্রাণেও বহুবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি বন্ধ করা কি আদৌ সম্ভব? ত্রাণ লুটের অভিযোগ রাজনৈতিক কর্মীদের বা নেতাদের বিরুদ্ধেই বেশি। এবার ১০ টাকা মুল্যের চাল যারা আত্মসাৎ করে সমালোচিত হয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই সরকারি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা জন প্রতিনিধি। আগেও এমনটাই হয়েছে। সরকারও দলীয় নেতা-কর্মীদের খুশি রাখতে তাদের দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করতে চায় বা তাদের সম্পৃক্ত রেখে তা করতে চায়। এতে কর্মীরা দলীয় সমর্থকদের ত্রাণ দিতে পারবে। দলীয় লোকদের খুশি রাখতে চায় তারা। এতে বহু হত দরিদ্র ত্রাণ পায় না দলীয় সমর্থক না হওয়ার কারণে। আবার দলীয় লোকেরা দুর্নীতি করলে তাদের রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। তাই ত্রাণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক ভাবেই বিতরণ করতে পারলে দুর্নীতি করবে। এজন্য অবশ্য হতদরিদ্র ও ভিক্ষুকদের জন্য কার্ড করা দরকার। এই কার্ড দিয়ে তাদের নিয়মিত রেশনও দেয়া যায়। এমন দুর্দিনে ত্রাণ বিতরণ করাও সম্ভব হবে। যদি কেউ ভুয়া হতদরিদ্র কার্ড ব্যবহার করে তবে জেল জরিমানার বিধান করতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামোতে ত্রাণ বিতরণ করলেও মাঠ-পর্যায়ে কাজ করবে সেই চেয়ারম্যান-মেম্বারগণই। দুর্নীতির অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেও কম নয়। শাস্তির বিধান থাকলেই তারা দুর্নীতি কম করে কাজ করবে। এজন্য প্রশাসনিক নজরদারী কঠোর করতে হবে। ইউএনও, সমাজসেবা, সমাজকল্যাণ ও খাদ্য কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। দরিদ্রদের ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ প্রদানের ব্যবস্থাও করা যায়। এতে তারা সরাসরি ব্যাংক হতে টাকা উত্তোলন করতে পারবে। আবার হিসাবধারী সকলেই হত দরিদ্রই হবে তার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। বহু মধ্যবিত্তই ঢুকে পড়বে। শাস্তির আওতায় না আনলে এতে মধ্যবিত্তদের নিরবে হত দরিদ্রদের টাকা আত্মসাৎ করা সহজ হয়ে যাবে।

মধ্যবিত্তরা খারাপ অবস্থায় আছে, তারা লজ্জায় চাইতেও পারে না- এমন প্রচারণা তুলে মধ্যবিত্তরাও সুবিধা তুলে নিচ্ছে। আমরা পত্রিকায় দেখেছি কিছু ধনাঢ্য মানুষও তারা সংকটে আছে, ঘরে খাবার নেই বলে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা ত্রাণ দিতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন যে, তারা অঢেল সম্পদের মালিক। হদ-দরিদ্রদের ত্রাণ দেখে তাদেরও লোভ হয়েছে মাত্র। যেনো ত্রাণ নিয়ে টানাটানির একটি প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় হত দরিদ্র মানুষের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব। কারণ রাজনৈতিক নেতাদের কাছে হোক, জন প্রতিনিধিদের কাছে হোক হত দরিদ্রদের ক্ষমতা-যোগ্যতা-প্রয়োজনীয়তা খুবই নগণ্য। তারা কেবলই অসহায়। তারা বঞ্চিত হলে মিছিল করতে পারে না, হুমকি দিতে পারে না, সংবাদ কর্মীদের টেলিফোন করতে পারে না, প্রশাসনকে অবহিতও করতে পারে না। সর্বোচ্চ চোখের পানি ফেলতে পারে।

রাজার হস্ত সমস্ত কাঙালের ধন চুরি করার জন্য যেনো লড়াইতে নেমেছে। সেই লড়াইতে ঢাল তলোয়ারহীন হত দরিদ্ররা পেরে উঠবে না। তাই ধনী ও মধ্যবিত্তদের হাত না বেঁধে দরিদ্রদের সাহায্য দেয়ার প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ সফল হবে না।