36 C
Dhaka
Sunday, January 17, 2021
No menu items!

করোনাকালে আমার অনুভূতি

অভিজিৎ বড়ুয়া অভি

করোনাকাল। লকডাউন বন্দিদশায় আজ ৪৭ দিন। জানালা পাশে লেখার টেবিলে বসে। এই সমুদ্র নগরে বাহিরে বইছে পূর্বদিকপ্রান্ত হতে সমুদ্র ঢেউকে দলিত মথিত করে বেগবান বারিগর্ভ হাওয়া। আসছে এলো বৃষ্টি, শুধুই বৃষ্টি। তর্জন গর্জন সমুদ্র স্রোতের। পঞ্চমস্তক নাগ ফণা মহাজাগতিক মহাসাগরের সর্প আনান্না নাগের ফণার মতন ঢেউ আছড়ে পরছে সৈকতে। উড়ন্ত মৈনাগগিরির বিপুলাকার রূপ। ঘন নীলবর্ণের মেঘ ঢেকে দিল প্রকৃতি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতনগর আজ পর্যটক শূন্য। কোথাও নেই তাদের গতায়াত। হোটেল- সৈকত- নগর মুখরিত আজি মেঘরাজের উন্মত্ত চুম্বনে। সারাবিশ্বে মানুষ করোনায় বন্ধি। চারিদিকে ভয়াবহ চিত্র মৃত্যুমিছিল। এ হতে পারে কোন পরাশক্তির ষড়যন্ত্র। আসলে এযেন প্রকৃতির প্রতিশোধ।

মনে কি পরে গত বছরগুলোতে পৃথিবীর পরাশক্তিগুলো অস্থির হয়ে উঠেছিল, যুদ্ধ মানবতার চরম বিপর্যয়। পৌঁছে গিয়েছিলো পারমাণবিক যুদ্ধের সন্নিকটে। সিরিয়ার মানুষের করুন মৃত্যুর আর্তনাদ। অভুক্ত শিশুর মৃত্যুর কান্না। দুইটি মাস্ক। রাসায়নিক বোমার আঘাতে শ্বাস নিতে কষ্ট, ভাই পরম মমতায় নিজের মাস্ক খুলে পড়িয়ে দেয় ছোট্ট বোনের মুখে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। উদ্ধারকারী দল যখন তাকে উদ্ধার করে, সে হাসে , ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। যেন মৃত্যুর আগে হেসে সে পরিহাস করে গেলো এই মানবসভ্যতাকে। পরাশক্তির লোভকে, হিংসা বিদ্বেষ কে। আজ তাদের মাস্ক প্রয়োজন। মনে কি পড়ে সিরিয়ার সে মৃত্যুর মিছিলের কথা। বিষাক্ত গ্যাস, এতটুকু বাতাসের অভাবে মৃত্যু। ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য সমুদ্র পথে কত চেষ্টা। তারা স্থান দেয়নি। ক্ষুধায় তেষ্টায় তাদের মৃত্যু। মনে কি পরে সমুদ্রের সৈকতে ভেসে থাকা সে ছোট্ট মৃত শিশুর কথা। ইয়েমেনের রুমাহ শহরের ১৯ বছর বয়সী মুনতাহা লিখছিলো, ”গত ১৮ ঘণ্টায় এখানে খাবার পানি আসেনি। আমি গত ১ দিন আগে শেষ রুটি খেয়েছি। আজ সকালে দু’টো খেজুর, দুপুরে এখন পর্যন্ত কিছু খাইনি। অনেক কষ্ট করে এখানে হেঁটে এসে একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের অনেক হাত পা ধরে আপনাকে এই মেইল পাঠাচ্ছি। বাবা-মা দাঁড়াতে পারে না। গত এক সপ্তাহ ধরে চার পায়ের জন্তুর মত মাটিতে হাটে, এত ক্ষুধা তাদের। গত কয়েক সপ্তাহ টক গাছের পাতা সিদ্ধ করে ভর্তা করে খেয়েছিলাম। এখন সে পাহাড়ের গাছগুলোর পাতা ও শেষ হয়ে গেছে। সামনে রমাদান আসছে! জানিনা কিভাবে সাহরি করব কি দিয়ে ইফতার করব!! আপনারা যারা এসেছিলেন যদি দয়া করে রমাদানের আগে আরেকবার আসেন! অন্তত একটু খাবার পানি নিয়ে আসেন! অথবা, ৫কেজি আটা দেন যাতে আমি, আমার মা আর বাবা রমাদানের রোজাগুলো রাখতে পারি। মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি, যদি আল্লাহ আকাশ থেকে কোন খাবার পাঠাতো! আমাদের দুঃখ গুলো শুধু আমাদের আশপাশের পাহাড় ছাড়া কেউ দেখেনা। “

আমার দেশে লোভী দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের সীমাহীন লুটপাট। ব্যাংক লুট, নারী শিশু ধর্ষণ নির্যাতন, কিছু ধান্দাবাজ রাজনীতিবিদের, দোসরদের মিথ্যা অহমিকা, শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মকর্তাদের বেতন আত্মসাৎ মালিকের, লাম্পট্য, আবার তারাই ভন্ড সমাজসেবক। ধর্ম নিয়ে অধর্ম পৌঁছে গিয়েছিল চরমে, মানুষের মনুষ্যত্ব দিন দিন কমছিল।

আজ আমরা কি দেখছি না মৃত্যুর কোলে ঢলে পরা, মৃত্যুর পর স্ত্রী পুত্র সংসার সমাজ স্পর্শ করছে না। করোনা আক্রান্ত ছুটছে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। আশ্রয় চিকিৎসা নেই। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু। লাশ হয়ে পরে থাকা রাস্তায়। স্ত্রী পুত্র কন্যা সন্তান পরিবার সমাজ কারো শেষ দর্শনের উপায় নেই।

আজ বর্তমান মানবসভ্যতাও বাঁচার জন্য, এতটুকু শ্বাস নিয়ে বাঁচতে চায়। কিন্তু প্রতিদিন মানবতার যে নিষ্ঠুর মৃত্যু হয়েছে তা হতে আমাদের মুক্তি কোথায়। আমরা কেউ অংশ নিয়েছি, কেউ নিশ্চুপ থেকেছি, কেউ তামাসা করেছি। প্রতিবাদ কেউ করিনি। অভিশাপ হতে মুক্তি নেই। আজ আমরা মুখ ঢাকছি। অর্থ ,বিত্ত, লাম্পট্য , রাজনীতি নামে ভণ্ডামি, লুটপাট, নারী শিশু নির্যাতন, ক্ষমতা দাপট, পরাশক্তির অস্ত্র মহড়া সবই মূল্যহীন। বাহিরে যাওয়া বারণ। সবসময় ভয়-আতংক। একটি ঔষধের অপেক্ষায়। আজ রাশিয়া আমেরিকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলো , ব্রিটিশরা হাহাকার করছে, সাথে সারা মানবজাতি। আজ মানবসভ্যতা গৃহবন্দি, প্রকৃতি দিল অবসর, একটুও ভাবার ভালো মন্দের ভেদাভেদের, জাগ্রত করতে মানবতা মানুষের মাঝে।

গৃহবন্দি মানুষ প্রকৃতি মুক্ত, ডলফিন সাঁতার কাটছে সৈকতে, সাগরলতা ফুলে ভরা সৈকত, লাল কাঁকড়া ঝাঁক, কচ্ছপ সৈকতে ডিম পাড়ায় ব্যস্ত। বিভিন্ন দেশে শহরে আজ বন্যপ্রাণীর প্রকাশ্যে বিচরণ, পাখির সরব কলরব, যে প্রকৃতিকে প্রতিনিয়ত আমরা অপরিষ্কার করেছি তাকে আজ পরিষ্কারে ব্যস্ত। যতটুকু দৃষ্টিপাত নিবিড় ঘন শ্যামলিমার বিপুল আয়োজন, সবুজ সজীব বৃক্ষ, হাওয়ায় আন্দোলিত। দূর পাহাড়ের নগর পথের প্রান্তরে বীথিকায় উদ্দ্যানগুলো উচ্ছ্রিত সবুজে, ভারে ভারে সবুজ বহু রঙে বর্ণ ছায়ায়, তাম্রাভ সবুজ, নতুন কদলী পত্রের সবুজ থরে বিথরে। প্রকৃতি সজীব পরিচ্ছন্ন সহর্ষ প্রাণময়। সমুদ্র বহমান জলরাশি, দূর বহু দূর দুষ্ট পাখির মিষ্টি গান, যৌবন মত্ত যুবা কোকিলের কুহুতান, কে বলে কোকিল শুধু বসন্তে ডাকে যৌবন মত্ত কোকিল সকল ঋতুতে কুহুরে। চারিদিক পাহাড় ঘেরা এই সমুদ্র নগরে প্রবাহিত অলক অশরণ মিষ্টি মধুর সমীরণ। দিগন্ত রেখায় সূর্য হরেক রঙের বিচ্ছুরণ। আদিত্য সূর্যের আদীপ্ত রূপ। মাথার উপর উড়ন্ত মৈনাকগিরির রূপ, নীলবর্ণ মেঘরাজের বয়ে যাওয়া। পূর্ণিমার অজস্র তারায় ভরপুর আকাশ, দিক সুন্দরীরা যেন অমলনীল বসন্ত পরে হীরককুচির আবরণে সজ্জিত। পুষ্পিত তরু, নীপতরুর সুভাসসিক্ত সমীরণ। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে, কার্বন নিঃসরণ কম, বরফ গলা কমছে।

ভিক্ষুক ভিক্ষার অর্থ দান, শ্রদ্ধেয় মানবিক ডাক্তার স্বল্প দিনে স্থাপন করছে করোনা ফিল্ড হাসপাতাল সাথে সহযোদ্ধা যুবক তরুণ। শ্রদ্ধেয় মানবিক পুলিশ , প্রশাসন , আর্মি জীবন বাজি রেখে করোনা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে। শ্রদ্ধেয় সকল ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত সকলে শত বৈরী পরিবেশে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে সেবা দিতে ব্যস্ত। তরুণ প্রজন্ম তার তারুণ্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত স্বেচ্ছাশ্রমে ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যস্ত। এই তরুণ, যুবা, মানবিক ভিক্ষুক, ডাক্তার, আর্মি, মানবিক পুলিশ, প্রশাসন তাদের মাতাপিতা, স্ত্রী, স্বামী, পুত্র কন্যা পরিবার গৃহে রেখে এই মহান দায়িত্বে ব্যস্ত। গৃহে তাদের মাতা পিতা , স্ত্রী, স্বামী, পুত্র কন্যা পরিবার বুক ধুকধুক চরম অনিশ্চয়তায় থাকে অপেক্ষায় প্রতিক্ষায়।

সরকারের এত এত যুগোপযোগী ও সময় উপযোগী পদক্ষেপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেত্রীত্বে সরকারের সকল বিভাগ, আমাদের অহংকার সেনাবাহিনী, মানবিক পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য সকল বাহিনী, আমাদের অহংকার অকুতোভয় ডাক্তার ও সেবা সৈনিকরা কাজ করে যাচ্ছে এই মহামারী মোকাবিলায়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো মাঠে- রাস্তায় এই রোদ্দুর মাঝে মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। আমরা আমেরিকা, ইউরোপীয় নই। আমরা বাঙালি, বাংলাদেশী । আমরা আমাদের সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, সকল বিভাগ সবার ওপরে ভরসা রাখতে চাই, নিশ্চিন্ত থাকতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। শুধু এসময় নয় সবসময় মহাদুর্যোগে মানুষ ঘরে আশ্রয় নেয় বা নিরাপদ স্থানে, পরিবারের সাথে নিরাপদে থাকতে চায়, ঠিক তখনই অকুতোভয় বীর তারা তাদের আপনজন প্রিয় মুখ পেছনে ফেলে রাস্তায় নেমে আসে। আজ যেমন ডাক্তাররা। আপনাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা কৃতজ্ঞতা হাজার সালাম। তেমন আমাদের অহংকার মানবিক পুলিশ, সেনাবাহিনী, এবং সকল প্রশাসন, আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ, জানাই হাজার সালাম। ।

এই সব দেখে কি দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটপাটকারী, শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মকর্তাদের বেতন আত্মসাৎকারী, ধর্ষক নারী শিশু নির্যাতনকারী, ত্রাণ লুটপাটকারী, ভন্ড মানবতাবাদী সমাজসেবক রাজনীতিবিদ, মিথ্যাচারকারী, আপনারা লজ্জিত হচ্ছেন না, বিবেক জাগ্রত হচ্ছে না?

এখন সময় ঐক্যবদ্ধ মানবতার, খাবার ভাগ করে খাওয়ার, পুজো-ঈদের এবং নিজের পরিবারের বিলাসিতার অর্থ বাঁচিয়ে মানবতায় ক্ষুধার্ত মানুষের শিশুর পাশে দাঁড়ানোর।

সর্বশেষ

লৌহজংয়ে আ’লীগের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরন

লৌহজং (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সহযোগিতায় ও নির্দেশে লৌহজং উপজেলার খিদির পাড়া ইউনিয়ন আ’মীলীগের উদ্যোগে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের...

পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখা যায় এমন সিনেমা তৈরি করুন

নিউজ ডেস্ক: সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এমনভাবে সিনেমা তৈরি করতে হবে, যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে পারি।

চলচ্চিত্রে যতটুকু পাওনা ছিল, বোধহয় তার ইতি হলো: সোহেল রানা

নিউজ ডেস্ক: দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ তুলে দেওয়া হয়েছে বিজয়ীদের হাতে। এ বছর চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় যুগ্মভাবে...

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু

নিউজ ডেস্ক: সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। রোববার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন...

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সহধর্মিণী মারা গেছেন

নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সহধর্মিণী বুলা আহম্মেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।