36 C
Dhaka
Saturday, January 23, 2021
No menu items!

আমাদের কথা

তৃপ্তি সাহা

আমাদের চার ভাইবোন। যদিও বাবার আদি নিবাস ছিল নোয়াখালীতে কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক বাবা খুব অল্প বয়সেই রাজশাহীতে বসবাস শুরু করেন। রাজশাহীতে বাবার বর্ণিল জীবন ছিল। আমরাও ছিলাম রঙিন।

আমরা চার ভাইবোন সেখানে ছিলাম। সেখানে অর্থাৎ রাজশাহীর আড়ানী গ্রামে, যেখানে পালান সরকার বই বিলি করে আলোকিত মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আমাদের ছোট দুই ভাইবোনের জন্ম রাজশাহীর মিশন হাসপাতালে।

বড়দার, বড়দির পড়াশোনাটা রাজশাহীতে শুরু হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে ছিল। বাবা ছিলেন বিডি মেম্বার(বর্তমানে ইউনিয়ন কাউন্সিলর) ফাতেমা জিন্নাহ’র পক্ষের লোক ছিলেন। তাঁকে নির্বাচন করতে হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ বা ৬৯ এ -সঠিক সন তারিখ ঠিক মনে নেই। তবে শরৎত্রিবেদী নামে এক জেঠাকে যখন হত্যা করা হলো খাবার দাওয়াত এর কথা বলে ডেকে নিয়ে দিনে দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলেন। তারপর বাবা আমাদেরকে সাথে নিয়ে রাজশাহীর পাঠ চুকিয়ে চাঁদপুর এসে বসবাস শুরু করেন । সেই থেকে পথ চলা, এর পর স্বাধীনতা। পায়ে পায়ে বিপদের সাথে কাটিয়ে এই বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আবার শুরু। আবার চাঁদপুর। তাই কেউ যখন জিজ্ঞেস করে আপনার বাড়ি কোথায়? তখন বলি পুরো বাংলাদেশ আমার বাড়ি। আমার বাবা চন্দ্র কান্ত সাহা। মা দুলালী প্রভা সাহা। দুই ভাই দুই বোন। ভাই বোন ভাই সবার ছোট আমি।

সেই বড় ভাই ড. সমীর সাহা। যিনি করোনা ভাইরাস এর জিনোম সিকোয়েন্স উদ্ভাবক। দিদি কবিতা সাহা চিটাগং ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ছিলেন। ছোটদা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে পাস করেন। গান/নাচ দুই পারদর্শী ছিলেন। কিছুদিন ক্যাডারেও চাকুরী করেন।

আমি অধম ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করি। আজ বাবার কথাটাই বেশি বলতে ইচ্ছে করছে। বাবা অনেক বেশি খুশি হতেন, আনন্দ পেতেন। যদিও তিনি জানতেন দাদা অনেক দূর যাবেন। আপনারা যেনে অবাক হবেন আমার বাবা তাঁর মৃত্যুর পর কীভাবে কার্য সম্পাদন হবে সব কিছু সুন্দর করে লিখে গেছেন। তাঁর ধর্ম ছিল; ছিলোনা অন্ধত্ব, গোড়ামী।

আমাদের যা কিছু অর্জন বাবা মায়ের জন্য। বাবার পেশা ছিলো ব্যবসা। কিন্তু বাবার প্রজ্ঞা, মেধা, জ্ঞান, সাংস্কৃতিক চেতনা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, উদারতা, মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, অমায়িক ব্যবহার সর্বোপরি ব্যবসায়িক জ্ঞান ও সততা বাবাকে আর সবার থেকে আলাদা করেছে। প্রচারবিমুখ ছিলেন বাবা। বাবার সৌন্দর্য বোধের কাছে আমরা এখনো পৌঁছাতে পারিনি। মায়ের ছিলো সরলতা আর, দিয়ে আনন্দ পাবার মত মানুষিকতা।

আর তাই আজ বিজ্ঞানী দাদাকে নিয়ে নয় অনেক একজন ভালো, মানবিক দাদাকে নিয়ে গর্ব করার অনেক বেশি করে ইচ্ছে করছে। বাবা ১৯৯৬ তে মারা যাবার পর কষ্ট হয়েছে কিন্তু শুন্যতা ঘিরে ধরে নি। কারন দাদা বৌদি। দাদা বৌদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের থেকে পাস করে বেনারসি তে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। তাঁদের দুই ছেলে মেয়ে। বড়টি মেয়ে সেঁজুতি, ছোটটি সুদীপ্ত। সেঁজুতি টরেন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন, সুদীপ্ত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রেজুয়েশান করে।

সেঁজুতিও শৈশবে চাঁদপুর কাটিয়েছে। ওদের সাফল্য বাংলাদেশের সাফল্য। আমরাও গর্বিত। সবাই ভালো থাকুক। পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাস মুক্ত হোক। মৃত্যু মিছিল থেমে যাক। প্রকৃতির মাঝে আমরা যেন বেঁচে থাকি।

আমরা সবাই দোয়া /আশীর্বাদ প্রার্থী। ঘরে থাকি ভালো থাকি। সবাই ভালো থাকবেন।

সর্বশেষ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় বাগেরহাটে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ৪৩৩ ঘর

বাগেরহাট প্রতিনিধি : মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে বাগেরহাটে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ৪৩৩টি ঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের...

৭ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে সাত বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনাম শেখ (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি)...

শরণখোলা ছাত্রলীগে বিভক্তি সংবাদ সম্মেলনে কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতারা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: তিন বছর পর হঠাৎ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগ। জেলা কমিটি থেকে এক সংবাদ...

বাগেরহাটে সরকারী রাস্তার গাঁছ বিক্রি করছে একটি চক্র

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের কচুয়ায় সরকারী রাস্তার পাশের গাঁছ কেটে বিক্রি করছে গাছ খোকো একটি চক্র। কিছু অসাধূ ব্যাক্তির সাথে গোপনে আতাঁত করে...

বাগেরহাটে মাছের খামারে ঘুরে দাড়িয়েছে বনানীর সংসার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারীতে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পে’র ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এ উপজেলার বেকার যুবক-যুবতী, গৃহিণী ও...