36 C
Dhaka
Thursday, January 21, 2021
No menu items!

ভিনগ্রহের নভোযান

বিপুল কৃষ্ণ দাস

যার সৃষ্টি আছে তার ধ্বংসও আছে । কত হরপ্পা মহেঞ্জোদারো ধ্বংস হয়েছে এই পৃথিবীতে, তার কতটুকু খবর রাখে মানুষ ? আবিস্কৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে বুঝা যায়, মানুষ তার কিছু অংশ উদ্ধার করতে পেয়েছে মােটে। প্রকৃতি যখন ভারসাম্যহীন হয়ে পরে, তখন প্রকৃতিই প্রকৃতির ভারিসাম্য রক্ষা করে।

বড় জ্যাঠামশাইর এই সব জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা সব সময় ভাল লাগে না। আজ সন্ধ্যে ছটায় বন্ধুদের সঙ্গে মেসেঞ্জারে গ্রুপ চ্যাটিং। বিজ্ঞানের বিভাগের ছাত্র ঋষভের এ সব শুনতে বেশ ভালই লাগে। কিন্তু বন্ধুরা যে সব অপেক্ষা করছে। ঋষভ কাচুমাচু হয়ে মাথা চুলকাতে-চুলকাতে বলে,”জ্যাঠামশাই, আজ আমার একটু কাজ আছে, পরে–“ঋষভের মনের কথা পড়তে সময় লাগে না পার্থ বাবুর। — ঠিক আছে যাও। কাজ শেষ করে এসে বাকিটা শুনে যেও।

ঋষভ দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এই লকদাউনের মধ্যে ঘরে বসে কতক্ষণ ভাল লাগে। দিনের মধ্যে কয়েক দফা বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করতে না পারলে যেনো পেটের ভাত হজম হয়না। রাত ন’টার পর নিয়ম মতো রাতের খাবার শেষ। ফেসবুক ছাড়া ঋষভের এখন আর কোন কাজ নেই। হঠাৎ জ্যাঠামশাই কথা মনে পড়ে। বাকিটা শুনার জন্য যেতে বলেছিলেন। যাওয়া হয়নি।

আজকে জ্যাঠামশাইর সাব্জেক্টটা কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল, শোনা হয়নি। তখনই ঋষভ জ্যাঠামশাইর ঘরে ছুটে যায়। জ্যাঠামশাই তখন বালিশে হেলান দিয়ে আরাম করে একটা মোটা বই খুলে পাতা ওল্টাচ্ছিলেন। ঋষভ ঘরে ঢুকে চেয়ারের উপর বসে পরে। — বলো জেঠু বাবু, তখন কি বলছিলে?

পার্থবাবু তার বালিশের তলা থেকে একটা ইংরেজি ম্যাগাজিন বের করে ঋষভের হাতে দিয়ে বলে, — পৃথিবীর কোন অংশ যে কবে কখন ধ্বংস হবে তা বলা মুশকিল। তবে এ সব নিয়েও বিস্তর গবেষণা হচ্ছে। এই দেখ একটা সায়েন্স জার্নাল। এখানে একটা আসন্ন ধ্বংসের কতগুলো ম্যান মেড কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটা পড়ে কাল একবার আসিস। তখন কথা হবে।

বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যতবানী। যেন অংক কষে কষে পৃথিবী নামক গ্রহটির ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা দেখানো হয়েছে। কী ভয়ংকর পরিনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছি আমরা এই পৃথিবীটাকে! ভাবতে ভাবতে অনেক রাতে হয়ে যায়। ঘুম আসে না চোখে। তারপর আধো আধো ঘুমের ভিতরে উজ্জ্বল কিছু দেখতে পায়। এবার দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা আলোর ঝলক দেখতে পায় স্পষ্টত ঋষভ। ক্রমশ তা স্পপষ্ট হয়ে আরও নীচে নেমে আসে।

সে আরও কাছে থেকে দেখতে পায়, কলকাতার আকাশ জুড়ে এক অতিকায় রশ্মি প্রদক্ষিণ করছে । মনে হয় এলিয়েনদের একটা নভোযান নেমে এসেছে কলকাতার আকাশে। অবতরনের পূর্বে কিছু একটা পরীক্ষা – নিরীক্ষা করছে । অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ যানটা একটু সময় নিয়ে খুব ধীর গতিতে নেমে এলাে ভূমিতে।

শব্দ থেমে গেলাে। কিন্তু ঝলমলে আলাের বলয়টি যেন ঘুরছে হাতে হাত ধরে। নভােযানের দরজা খুলে গেলাে সটান। একটি উজ্জল সোপান অসমতল মাটি স্পর্শ করলো । দুজন নভোচারী নেমে এলাে চক্রাকার আলোক রশ্মির নিরাপত্তা – বলয়ের মধ্যে ।

অন্য যানটিতে রয়েছে আরাে দু’জন। যারা ঢাকায় অবতরণ করেছে। দু ‘ দিক থেকেই একে অপরের সাথে যােগাযােগ রক্ষা করে চলছে তারা। ধ্বসস্তুপের জঞ্জাল ঘেটে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করছে তারা। একজন পকেট থেকে কিছু ছবি বের করে মিলিয়ে নিচ্ছে তারা সঠিক জায়গায় অবতরণ করেছে কিনা। ইটের স্তুপ দেখেই ওরা বুঝতে পারে এক সময় এটা খুব সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। একসময় কোনাে বুদ্ধিমান প্রাণীর বাস ছিল এখানে। নভোচারীরা তাদের কন্ট্রোল রুমে বার্তা পাঠায়।

“ধ্বংসাবশেষ থেকে কলকাতা ও ঢাকা নামে দুটো শহরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন শহর দুটো ধ্বংসের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আমরা নিরাপদে অবতরণ করেছি।”

এই মর্মে বার্তা পাঠানোর পর ধ্বংসের কারণ অনুসন্ধান করতে থাকে নভোচারীরা। তারা মানুষের মাথার খুলি দিয়ে প্রথম পরীক্ষাটি করে। অনেক গুলো মাথার খুলি তুলে নিয়ে পর পর একটা মেশিনে দিয়ে পরীক্ষা করতে থাকে। এই গ্রহে কী ধরণের প্রাণী ছিল, মাথার খুলিগুলো দিয়ে দ্রুত তাদের মেমোরি রিকভার করা হয়।

বহু যুগ আগে ধংস হয়ে যাওয়া মানুষ নামের এই প্রাণীটির মনোজগত পড়তে বেশি সময় লাগে না ওদের। গবেষণায় নেমে এরপর এই ভিন গ্রহের নভােযানটি মানুষের ধ্বংসের কারণ অনুসন্ধান করতে থাকে। যার ফলাফল দেখে নিয়ে ঢাকার নভোচারীদের সাথে তথ্য মিলিয়ে নিচ্ছে ওরা।

ওরা দেখে অবাক হয়। এই জনপদটি ধ্বংস হয়েছে মাত্র ছ’শ বছর আগে । এই ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এখনো অনেক কিছুই অবিকৃত হয়েছে। রেডিয়েশনের মাত্রা কমতে থাকলে উদ্ভিদ মাথা তুলেছে , খুবই সামান্য। বাকি সব পোড়া মাঠ ও মরুমির মতো। মাটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা অত্যাধিক।

ঢাকার নভোজানটিও মাথার খুলি বিশ্লেষণ করে মানুষের মেমোরি রিডিং থেকে একই তথ্য দিচ্ছে। তাদের তথ্য বলছে– প্রকৃতির উপর মানুষের যে নির্মম অত্যাচার চলছিল তার বিষাক্ত দূষণের অতি মাত্রা এই ধ্বংসের কারণ। কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল সেই দূষণ । ঢাকা-কলকাতার প্রাথমিক রিপোর্ট তাই বলছে। তবে দ্বিতীয় কারণটি আরো ভয়ংকর। মানুষের তৈরি অতি তেজস্ক্রিয় কোন রাসায়নিক অস্ত্র ও চুল্লী মজুদ ছিল পৃথিবীতে । যা এই গ্রহকে দশ বার ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ই সেই সব রাসায়নিক চুল্লি ও মারনাস্ত্র একই সংগে প্রলয় ডেকে আনে, এটাই ধ্বংসের মূল কারণ।

স্বপ্নের ঘোরে আচ্ছন্ন ঋষভ চিৎকার করে ওঠে,–তা হলে তো আমরা মৃত! ভূত? ঘুম ভেঙে আলো জ্বালিয়ে নিজের শরীরে চিমটি কেটে দেখে। হাতের রেখাগুলোও সব ঠিকঠাক আছে। তখনো স্বপ্নের ঘোর কাটেনি ঋষভের।

সর্বশেষ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

নিউজ ডেস্ক: মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয় লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাইসউদ্দিনের ইন্তেকাল, বিসিবির শোক

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি রাইসউদ্দিন আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।...

ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ক্রিকেটারদের জন্য ভ্যাকসিন আনা হবে: পাপন

স্পোর্টস ডেস্ক: বৃহস্পতিবার (২১জানুয়ারি) ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ২০ লাখ করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার যে ভ্যাকসিন...

হোয়াইট হাউস ত্যাগ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষবারের মতো হোয়াইট হাউস ত্যাগ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে...

জিতলেও ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই গেল

স্পোর্টস ডেস্ক: টিভি পর্দায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় দেখে অনেকে চিনতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে রঙ্গ-রসিকতাও হয়েছে।