36 C
Dhaka
Friday, January 22, 2021
No menu items!

জীবন থেকে পালানো

দিলারা জামান দীয়া

দূরপাল্লার বাসে যেতে কিছু আয়োজন লাগে। শীতের কাপড় চোপড়গুলো গুছিয়ে নিয়েছি। তবে অন্যমনস্ক থাকার কারণে কী নিয়েছি আর কী নেইনি বুঝতে পারছিনা। আমার গন্তব্য শ্রীমঙ্গল। বাসে মাত্র জনা দশেক প্যাসেঞ্জার উঠে উত্তরা থেকে। পিছনের সিটের থেকে সামনের দিকটাই ভালো, ঝাকুনি কম, তাই সামনের সিটেই বসে পড়লাম। শীতের শেষদিকে ঘুরাঘুরি করার লোকজনও বেড়ে যায়।

এই যাঃ! তাড়াহুড়াতে রাতের খাবারের জন্য কিছুই নেয়া হয়নি। অগত্যা বেশি দামে বাইরের খাবারই কিনে আনতে হলো।

বাস ছুটে চলল। রাত গভীর হতে থাকলো। আমার দু’চোখের পাতা কোনভাবেই এক হচ্ছিল না। গতবার যাওয়ার সময় আমার গায়ে ঠাণ্ডা লেগেছিলো বলে গায়ে চাদরটা জড়িয়ে দিয়েছিল নিলয়। আর ভাষাহীন ভালোবাসায় আমাকে জড়িয়ে বুকের কাছে চেপে রেখেছিলো। আমি ঘুমিয়েছিলাম কতক্ষণ তাও মনে নেই।

মাঝ স্টপেজ থেকে অনেকগুলো প্লাস্টিকের প্যাকেট নিয়ে বাসে উঠেছে মা , মেয়ে। মনে হয় বাহিরের কোন দেশ থেকে বাংলাদেশ ঘুরতে এসেছে। তবে বাংলাদেশি। দেখেই বুঝা যাচ্ছে। উঠেই পাগলের মত বসার জায়গা খুঁজছে। ভারি আশ্চর্য, আমাদের দেশের লোকেরা ভাবে যে বাসে যেমন করেই হোক বসার জায়গা পেতেই হবে তা জায়গা থাক বা না থাক। অন্যদের পা মাড়িয়ে বা ধাক্কা মেরে হলেও। কিন্তু ওরা তা মোটেও করলো না। এদিক ওদিক তাকিয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো। সামনের স্টপেজে একসাথে দুটো সিট খালি হলে ওরা গিয়ে বসলো।

এক বছর আগেও এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছি এখনো যাচ্ছি। লাক্সারিয়াস বাসের টিকিট নিয়েছিলো নিলয়। আমি বলেছিলাম, কেন এত দাম দিয়ে টিকিট নিতে গেলে? উত্তরে বলেছলো, তোমাকে নিয়ে তো সবসময় কোথাও যাওয়া হয়না। আবার কখন আসা হয় তার তো ঠিক নেই।

এসব কথা মনে হতেই নিজের অজান্তে চোখের কোণ ভিজে উঠছিলো। চশমাটা সরিয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের কোন মুছছিলাম। এক ফাঁকে কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই শ্রীমঙ্গল পোঁছাতে আর কতক্ষণ লাগবে? ঠিক তখনই দেখি নীরা আমাকে বলছে এই তুই রীয়া না! বললাম আরে নীরা…. না? বাপরে কত বছর পর দেখা বল তো। তোর শরীরের এ কী হাল হয়েছে? নীলয়দা মানে তোর বর কেমন আছেন? হুড়মুড় করে বাসে উঠেই নীরা আমার ইন্টারর্ভিউ নেওয়া শুরু করল।

দাঁড়া, দাঁড়া। একসাথে অনেক গুলো প্রশ্ন করার অভ্যেসটা তোর গেলো না। আগে বল তোর শরীরের এই অবস্থা কেন? আমাদের ক্যাম্পাসের আইডল ছিলি রিয়া। তোকে এমন অবস্থা দেখে আমি মানতে পারছিনা। নীরা আইডল বলে কিছু নাইরে। তোরা আমাকে সবাই ভালোবাসতি তাই এমন করে বলছিস। ছাড় ওসব। বল এখন একা কোথায় বা কেন যাচ্ছিস?

ওই আর কী! এখন একা চলার অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। আচ্ছা, এতদিন পরে দেখা। বাসে বসে আড্ডা দিতে দিতে সেলিব্রেট করি। আমি চা করে এনেছি গরম গরম পরটা খাব আর চা খাব।

একদমে কথাগুলো বলে থামল নীরা। এখন বল তোর কথা…. চা খেতে খেতে রীয়া ভাবতে লাগলো নীরা কে বলে আর কি হবে! কষ্ট বললে আরো বাড়ে… যে “নীলয়” আমাকে চোখের সামনে না দেখলে পাগলের মতো আচরণ করতো, অফিস ছুটির পর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতো কখন আমি আসবো আর একটু এক জায়গায় বসে আড্ডা দিবে– সে নিলয়ের এখন কত ব্যস্ততা! সময়ই হয় না আমাকে সময় দেওয়ার।

সময় কত বদলেছে। জীবনটাই হয়তো এমন, সময় হারিয়ে যায় সময়ের কাছে। নীরবে কত যে চোখের পানি ঝরে কতজনের! কার এত সময় আছে ঝরা জলের কাহিনী লিখবে!

কী হ’ল রীয়া বসে বসে অতো কি ভাবছিস? আচমকা নীরার ডাকে চমক ভাঙলো। এই যে, দেখ চোখের কোনটায় সবসময় ভিজে থাকে। কী যে হয়েছে! বলে অন্যদিকে ফিরে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে নেয়।

আমাকে এমন ভেঙ্গে পড়া মানায় না, আমার আর কত পথ একা চলতে হবে! হয়তো বা বাকী জীবন একা একাই চলতে হবে। আমার তো ভালোবাসা ছিলো। মন ছিলো। যে মন সারাক্ষণ একটু ভালোবাসা পাওয়ার অপেক্ষায় কেটে যেত। এখনো অপেক্ষা আছে কিন্ত সেই ভালোবাসা নেই।

আচ্ছা রীয়া বলতো তখন থেকে দেখছি! এতো কী ভাবছিস বলতো! নীরার কথায় সম্বিত ফিরে এলো। বললাম, আচ্ছা বলতো “কষ্টের রঙ সবখানেই কী একইধরনের হয়”? ছোটবেলায় তো ছোট কোন বিষয় নিয়ে শুধু কান্না করলেই কিছু একটা সমাধান হয়ে যেতো। এখন কেন কষ্টগুলো বুকের মাঝে সেটে থাকে! যেতেই চায়না!

কিছুক্ষণ দু”জনেই চুপ। এর মাঝে নীরা বলল, রীয়া, আমরা সবাই আসলে সুবিধাবাদী। এই যে তুই এত কথা বললি, আমার মাথায় কিন্তু কিছুই ঢোকেনি। তোর কথায় তাল মিলিয়ে নিজের কথাই ভেবেছি। আজ এমন করে তোর সাথে দেখা না হলে আর কখনো তোর সাথে দেখা হত কী না কে জানে!

আমার কিন্তু সেই কলেজ জীবনে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। রীয়া আজকাল রাজনীতি নিয়ে যেরকম নোংরামী হচ্ছে তখন অন্তত সে সব হতো না।

আচমকা নীরাকে প্রশ্ন করে বসলাম, আচ্ছা তোর মাঝে মাঝে সবকিছু ছেড়ে একদম একা হয়ে যেতে ইচ্ছে করে? মনে কর তোর সাথে মতের অমিল কিংবা তোকে কেউ খুব অবহেলা করলে মরে যেতে ইচ্ছে করে? আমার করে। আমার মনে হয় এমন স্বার্থপর মানুষদের কাছ থেকে পালিয়ে মরতে পারলেই বাঁচি। দীর্ঘশ্বাস ফেলে রীয়া বলল সব কেমন যেন উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো, তাইনা নীরা।

এরইমধ্যে নীরার নামার সময় হয়ে এলো। নীরা উঠে দাঁড়াতেই আমি ওর হাত চেপে ধরলাম বললাম নীরা…… ! আমার চোখের কোণের পানি টলটল করছিলো দেখে নীরা বাস থেকে দ্রুত নেমে পড়লো। বিহ্বলের মতো ওর চলে যাওয়া দেখছিলাম! আমিও তো কয়েকদিন থাকার জন্য শ্রীমঙ্গল যাচ্ছিলাম। কিন্ত জায়গা বদল হলেই কী কষ্ট কমে! দূরে কোথাও গেলেই কী কষ্টকর জীবন থেকে পালানো যায়!

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবার তার গৌরব ফিরে পাক: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় আবার তার গৌরব ফিরে পাক। এখানে জ্ঞানের...

দির্ঘদিন পরে বগুড়ায হত্যা মামলার আসামী সোহাগ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আলোচিত সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলার পলাতক আসামী সোহাগ সরদার (৩৪) কে দির্ঘদিন...

প্রশ্নবাইরের বিনিয়োগকারীরা তাহলে কেন আসবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে ঢাকা নিবাসী বগুড়ার শিল্প উদ্যোক্তা ইউনিসন ফার্মা (ইউনানী) লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর মোহাম্মদ ৮ বিঘা জমির একটি প্লট...

বাগেরহাটে ২৯ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার অন্তর্গত দিগরাজ বাজার ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৯ পিস ইয়াবা ও ০১ টি মোবাইলসহ...

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘর পাচ্ছেন বাগেরহাটের ৪৩৩ ভূমিহীণ পরিবার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বাগেরহাটের ৪৩৩ পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ ঘর নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। আগামী শনিবার (২৩...