36 C
Dhaka
Sunday, January 17, 2021
No menu items!

বাংলা সাহিত্যের পটভূমি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শ্যামল কুমার রায়

ভারতবর্ষের অবিভক্ত বাংলায় জোরাসাকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ৭ই মে এবং ১২৬৮ বঙ্গাব্দ ২৫শে বৈশাখ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন বাঙ্গালি মনিষী কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পনের সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন চর্তুদশতম। রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ চার ভাই যথাক্রমে দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ, হেমেন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান। রবীন্দ্রনাথের জীবনে এই চার ভাইয়ের প্রভাব পড়েছিল খুব বেশী। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ঠাকুরবাড়ী ছিল সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও সঙ্গিতের পিঠস্থান।

রবীন্দ্রনাথ শিশু বয়সে ভর্তি হয়েছিলেন ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে। কিন্তু সেখানকার পড়াশুনা ভাল না লাগায় অল্প কিছুদিন পরেই সেখান থেকে গেলেন নর্মাল স্কুলে। তখনকার সময়ে বিচিত্র বিষয় নামে একটি শিক্ষাবিষয় ছিল। দেবেন্দ্রনাথ ছেলেদের সর্ব বিষয়ে পারদর্শী করে তোলার জন্য বাড়ীতে বিচিত্র শিক্ষার আয়োজন করেছিলেন। ভোর বেলা পালোয়ানের কাছে কুস্তি শেখার পরে গৃহ শিক্ষকের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে পড়া, এরপরে স্কুল। বিকালে ছবি আকা ও জিমনাষ্টিক, রুটিন মাফিক পড়াশুনা সবকিছু পুরা সপ্তাহের কার্যক্রম ছিল এই বিচিত্র বিষয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায়।

এখানেও রবীন্দ্রনাথ রুটিন মাফিক বাধাধরা পড়াশুনার চাপে হাপিয়ে উঠেন। ১৮৭৩ সালে প্রথম মুক্তির স্বাদ পেলেন রবীন্দ্রনাথ। এই সময় ১১ বছর বয়সে পিতা দেবেন্দ্রনাথের সাথে বোলপুর শান্তিনিকেতনে গেলেন। বোলপুর তখন নিতান্তই এক গ্রাম। শান্তিনিকেতনে এসে সেই প্রথম প্রকৃতির সাথে পরিচয় হল। খোলা প্রকৃতির আলিঙ্গনে এখানেই বালক কবির কাব্য রচনার সুত্রপাত। চার মাস পশ্চিমের ভ্রমন শেষে কোলকাতায় ফিরে আসেন। স্কুল তার আর ভাল লাগেনা, তাই বাড়ীতেই শিক্ষক, স্থির হল পড়াশুনা আর কবিতা লেখা। তের বছর বয়সে অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রথম স্বনামে কবিতা ছাপা হল “হিন্দুমেলার উপহার”। ১৮৭৭ সালে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রনাথের সম্পাদনায় ভারতী পত্রিকা প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত লিখে চলেন। ১৬ বছর বয়সে লিখলেন ভানুসিংহের পদাবলী।

ধীরে ধীরে কৈশোর উত্তীর্ণ হলেো কিন্তু অভিভাবকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও স্কুলের গন্ডি উত্তীর্ণ হতে পারলেন না রবীন্দ্রনাথ। স্থির হল মেজভাই সত্যেন্দ্রনাথের সাথে বিলেত পাঠিয়ে দেবার ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য এবং যথারীতি তাই হল। লন্ডন গিয়ে প্রথমে পাবলিক স্কুলে তারপরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন কিন্তু পড়াশুনায় মন নেই। বেশিরভাগ সময়কাটে সাহিত্য চর্চা আর নাচগানে। দেড় বছর বিলেতে কাটালেন কিন্তু যে উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন কাজের কাজ তার কিছুই হল না। এমতাবস্থায় পিতার নির্দেশে দেশে ফিরে এলেন। রবীন্দ্রনাথ তখন উনিশ বছরের এক টগবগে যুবক। নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য ব্যকুল হয়ে উঠলেন। লিখলেন গীতিনাট্য বল্মীকি প্রতিভা। এর পর থেকে ঝর্না ধারারমত কবিতা লেখা চলতে থাকে। প্রকাশিত হল ভগ্নহৃদয় ও রুদ্রচন্ডু। কবির প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ না ঘটলেও এ দুটি কবিতা তখন বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

রবীন্দ্রনাথের চতুর্থ ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও বৌদি কাদম্বরী দেবী তখন ছিলেন চন্দন নগরে। কোলকাতা থেকে কবি সোজা চলে এলেন চন্দন নগরে। এখানে এসে কবির ভাল লেগেছিল। বাড়ীর পাশেই গঙ্গা নদী, এখানে বসেই কবি প্রথম উপন্যাস লিখলেন “বৌঠাকুরাণীর হাট”। ১৮৮৩ সালে ভারতী পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হতে থাকে। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ চন্দননগর থেকে চলে এলেন সদর ষ্ট্রীটের বাসাবাড়ীতে। এখানে কবির জীবনে ঘটে এক নতুন উপলদ্ধি। এই অপূর্ব অনুভুতির মধ্য দিয়েই জন্ম হল কবির অর্ন্তস্থিত কাব্যসত্তার। সেই দিনই লিখলেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।

১৮৮৩ সালে ৯ই ডিসেম্বর খুলনার বেনীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে ভবতারিণীর সাথে রবীন্দ্রনাথ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন, বিবাহের পরে নতুন নাম হলো মৃণালিনী দেবী। বিভিন্ন সময়ে লেখা কবিতাগুলো নিয়ে ১৮৯০ সালে প্রকাশিত হল মানসী। বাংলা কাব্য জগতে এ এক নতুন সংযোজন। পিতামহ দারকানাথ ঠাকুরের জমিদারি বিস্তৃত ছিল উত্তরবঙ্গ ও পূর্ব বঙ্গব্যাপী। জমিদারি দেখাশুনার কাজে তখন রবীন্দ্রনাথকে নিয়মিত আসতে হত শিলাইদহে। এখানকার মানুষের ছোট ছোট সুখ-দুঃখের আলোয় একের পর এক সৃষ্টি করতে থাকেন ছোট গল্প, দেনা-পাওনা, গিন্নি, পোষ্ট মাষ্টার, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্ররা এ সময় বের করেন সাধনা নামক একটি পত্রিকা এতে কবির ধারাবাহিক গল্পের জোয়ার প্রকাশিত হতে থাকে। প্রথমে লিখলেন খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন এরপরে সম্পত্তি সমর্পন, কঙ্কাল, জীবিত ও মৃত, স্বর্ণমৃগ, জয়পরাজয়। ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় কবি বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন এগুলোর মধ্যে “ইংরেজ ও ভারতবাসী”, “ইংরেজের আতঙ্ক”, “সুবিচারের অধিকার”, “রাজা ও প্রজা” উল্লেখযোগ্য।

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে (১৩০১ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হলে শুরু থেকেই এর সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁরই উদ্দ্যোগে পূর্ববঙ্গে ছড়া সংগ্রহের কাজ প্রথম শুরু হয়। এ সময় দক্ষিণারঞ্জন মজুমদার রচনা করেন ঠাকুরমার ঝুলি। রবীন্দ্রনাথের পুরাতন ভিত্য ও দুইবিঘা জমিতে বাংলার অবহেলিত নির্যাতিত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা ফুটে উঠেছে। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে (১৩০৮ বঙ্গাব্দ) নতুন করে প্রকাশিত হয় বঙ্গদর্শন পত্রিকা। রবীন্দ্রনাথ কবিতার পাশাপাশি লিখলেন নতুন উপন্যাস চোখের বালি। শিলাইদহে সপরিবারে বহুদিন থাকার পরে চলে গেলেন শান্তিনিকেতনে। সেখানে প্রতিষ্ঠা করলেন আবাসিক বিদ্যালয়। এ সময় স্ত্রী মৃণালিনী দেবী অসুস্থ হয়ে পড়েন, নিয়ে আসা হল কলকাতায় কিন্তু দুর্ভাগ্য তিনি আর সুস্থ হলেন না। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ত্রিশ বছর বয়সে মৃণালিনী দেবী সকলের মায়ামমতা ছেড়ে চলে যান পরপাড়ে। রেখে যান তিন কন্যা মাধুরীলতা, রেণুকা, মীরা এবং দুইপুত্র রথীন্দ্রনাথ ও মনীন্দ্রনাথ। মৃণালিনী দেবীর মৃত্যুর অল্প কিছু দিন পরেই মেজ কন্যা রেণুকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু চেষ্টা করেও কবি বাচাতে পারলেন না তার আদরের সন্তানকে। এসময় কবি স্ত্রী ও কন্যার মৃত্যু শোকে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছিলেন।

কবির ভাবনা বিকশিত হয়ে উঠে শান্তিনিকেতন আর শিলাইদহে, এরই সাথে গীতাঞ্জলির গান লেখা। প্রবাসী পত্রিকার সম্পাদক রমানন্দ চট্রোপাধ্যায়ের অনুরোধে লিখতে শুরু করলেন “গোড়া” উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথের এক শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এই গোড়া উপন্যাস। হিন্দু সমাজ জীবন, তার দর্শীয় সংকৃীর্ণতা, জাতিভেদের উর্দ্ধে এক সত্যের ইঙ্গিত যেন ফুটে উঠেছিল গোড়া উপন্যাসে। এরপরে শান্তিনিকেতনে বসেই কবি লিখেছেন “ডাকঘর”। অতঃপর পুত্র, পুত্রবধুকে সাথে নিয়ে কিছু দিনের জন্য গেলেন বিলেতে। বিলেতে গিয়ে কবির সাথে পরিচয় ঘটে ইংরেজ কবি ইয়েটস এর সাথে। ইয়েটস রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি অনুবাদ পড়ে মুগ্ধ, তিনি এর ভুমিকা লিখলেন। ইন্ডিয়া সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হল গীতাঞ্জলি। ইংল্যান্ডের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে হৈচৈ সাড়া পড়ে গেল। পত্রিকায় উচ্ছসিত প্রশংসা। কবি লন্ডন থেকে আমেরিকা হয়ে ফিরে এলেন শান্তিনিকেতনে। ১৫ই নভেম্বর ১৯১৩ সালে সন্ধ্যে বেলায় শান্তিনিকেতনে বসেই সংবাদ পেলেন কবি সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথই প্রথম প্রাচীনবাসী যিনি এই পুরস্কার পেলেন। বাংলাভাষা, বাংলা সাহিত্য ও বাঙ্গালি জাতিকে বিশ্বদরবারে সমাদৃত করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। কবি আখ্যায়িত হলেন বিশ্ব কবি হিসাবে।

রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে যেমন ভাবা যায় না তেমনি বাংলা সাহিত্যের পটভুমিকে বিশ্লেষণ করতে হলে রবীন্দ্রনাথের পূর্ববর্তী চারজন সাহিত্যিক ও পরবর্তী দুইজন বাংলাভাষাবিদ পন্ডিত ব্যক্তিত্বের সামান্য স্মৃতিচারণ এখানে প্রাসঙ্গিক ভাবে তুলে ধরা হলো।

আঠার শতকের শেষের দিকে মোগল শাসনের অবসানের পরে ভারতবর্ষ পাশ্চাত্য সভ্যতার আলো থেকে যখন অনেক দূরে, ইংরেজরা তখন ভারতে বানিজ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে জেঁকে বসেছে শাসনকর্তা হিসাবে। চারিদিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন, এই অন্ধকার অবস্থার মধ্যে ও কয়েকজন মহামানব ভারতবর্ষের হিন্দু মুসলমান তথা সর্বধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করে আলোর পথ দেখিয়েছেন তাদের মধ্যে মহৎপ্রান এক বাঙ্গালি তিনি হলেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩)। রামমোহন রায় ছিলেন সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও পন্ডিত ব্যক্তিত্ব। নিজ মাতৃভাষার পাশাপাশি সংস্কৃত, পার্সি, আরবী, হিন্দি ও ইংরেজী ভাষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। সাহিত্যিক হিসাবে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষাকে নতুন গদ্যরুপ উপহার দেন। এর আগে বাংলাভাষা ছিল বিদ্যাপতির পট, পুরনো দিনের কবিতা, কবিয়ালি পুঁথি ও পদাবলী গান সর্বোস্ব। গদ্যভিত্তিক বাংলা সাহিত্য লেখার জন্য তিনিই সর্ব প্রথম বাংলা ব্যাকরণ তৈরী করেন। যাহা গৌড়িয় ব্যাকরণ হিসাবে পরিচিত ছিল। সংস্কৃতভাষা থেকে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষাকে আলাদা করে সুশৃঙ্খল করে তুলেছিলেন। রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মীয় উপনিষদ ও বেদ বেদান্তের অসংখ্য শাস্ত্রীয় খন্ডকে সংস্কৃতভাষা থেকে পৃথক করে বাংলাভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। বিভিন্ন ভাষায় তিনি ৩০টি গ্রন্থ প্রকাশ করে গেছেন। বাংলা ভাষায় সংবাদ পত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেও রামমোহন রায় প্রথম পথিকৃতদের একজন ছিলেন। ১৮২১ সালে রামমোহন রায় সম্বাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৮৩০ সালে দিল্লীর সম্রাট্রের প্রতিনিধি হিসাবে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে ভারতীয়দের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখার জন্য বিলেত গমন করেন। সে সময় দিল্লীর সম্রাট তাকে রাজা উপাধিতে ভুষিত করেন।

রাজা রামমোহনের পরে অবিভক্ত বাংলায় শিক্ষানুরাগী অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী হিসাবে বাংলাভাষা ও বাংলা সাহিত্যকে আরেক ধাপ যিনি এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি হলেন ঈশ্বর চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২০-১৮৯১)। একাধারে তিনি ব্যাকরণ , সাহিত্য , কাব্য অলংকার , বেদান্ত শাস্ত্র, স্মৃতি শাস্ত্র, জ্যোতিষ এবং ন্যায়শাস্ত্রে অগাধ পড়াশুনা করে পন্ডিত ব্যক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। স্মৃতি শ্রেণীতে অভাবনীয় কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। বিদ্যাসাগর অনুভব করেছিলেন অন্ধকার ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বাঙ্গালিদের আলোর পথে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। তাই তিনি নিজস্ব অর্থায়নে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে একাধারে শিক্ষাদান করে গেছেন। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিদ্যাসাগর অনন্য দৃস্টান্ত রেখে গেছেন। মাতৃভাষায় তিনিই প্রথম প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম তৈরী করেছিলেন। বাংলাভাষার বর্ণ পরিচয় পুস্তক সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে। তার সময়ে হিন্দু বিধবাদের সমাজে কোন স্থান ছিল না। বিধবারা ছিল সমাজে নির্যাতিত। তিনিই প্রথম বিধবা বিবাহের প্রচলন ঘটিয়ে সমাজের সংস্কার এনেছিলেন। বিদ্যাসাগর ছিলেন বাঙ্গালির প্রেরণার উৎস। আজীবন তিনি পুরো ভারতবর্ষের মানুষের কর্মের প্রেরণা হয়ে বেচে থাকবেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে সীতার বনবাস, ভ্রান্তি বিলাস, বেতাল পঞ্চবিংশতি এছাড়াও বর্ণ পরিচয়, কথামালা, বোধদয় এবং আখ্যানমঞ্জুরী প্রভৃতি গ্রন্থগুলো শিক্ষার অপরিহার্য সহায়ক হিসাবে বিবেচিত ছিল। ১৮৪১ সাল থেকে ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত কোলকাতার বিখ্যাত ফোর্ড উইলিয়াম কলেজ ও সংস্কৃত কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপনা করেন। অগাধ পান্ডিত্যের জন্য বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়ে থাকে। ১৮৮০ সালে ভারত সরকার বিদ্যাসাগরকে সি, আই, ই উপাধিতে ভূষিত করেন এর পূর্বে তিনি ইংল্যান্ডের রয়াল এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মিলিত সদস্য হয়েছিলেন।

বাংলা গদ্য সাহিত্যকে যিনি বহুমাত্রিক ইতিহাসে প্রথম তুলে ধরেছেন তিনি হলেন প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)। বাংলা গদ্য সাহিত্যের আজ চলিত লেখ্যরীতি যে গৌরব অর্জন করেছে তার সার্থক সুচনা হয়েছিল প্যারীচাঁদ মিত্রের হাতে। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম চলিত গদ্যরীতির উপন্যাস লিখেন “আলালের ঘরের দুলাল”। এই উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্রের লিখনিতে যে ভাষা ছন্দ ব্যবহার করেছেন তাহা বাংলা সাহিত্যে আলালিভাষা হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ গীতাঙ্কুর, আধ্যাত্মিক উপন্যাস অভেদী, জীবনীমুলক গ্রন্থ ডেভিড হেয়ার জীবনচরিত এবং সমাজসংস্কার মুলক গ্রন্থ যৎকিঞ্চিৎ। ১৮৭৭ সালে তিনি নিউ ইয়র্কের থিয়োসোফিক্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৮৭৭-৮১ সাল পর্যন্ত লন্ডনের স্পিরিচুয়ালিষ্ট, আমেরিকার ব্যানার অব লাইট, বোম্বের থিয়োসফিষ্ট পত্রিকায় প্যারীচাঁদের অনেকগুলো প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। ১৮৭৩ সালে তিনি মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের অনারারী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পরে বোর্ডের জাষ্টিস পদেও নিয়োজিত হয়েছিলেন।

বাংলাভাষা ও বাংলা সাহিত্যকে যিনি বিদেশি সাহিত্যের সমান উচ্চতায় উন্নত করে দিয়ে গেছেন তিনি হচ্ছেন বঙ্কিম চন্দ্র চট্রোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)। বাংলা সাহিত্যে ভাষার কারিগরি কৌশল ও দক্ষতার জন্য বঙ্কিম চন্দ্রকে সাহিত্য সম্রাট হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তার লেখা বন্দেমাতরম গানটি পরাধীন ভারতবাসীকে স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা জাগিয়েছিল। চৌদ্দ বছর বয়স থেকেই তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কবিতা লিখতেন। উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে কপালকুণ্ডলা, ইন্দিরা, দুর্গেশ নন্দিনী, কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজলক্ষ্মী এবং বঙ্গদর্শন নামে মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করে গেছেন। মেধাবী এই সাহিত্য সম্রাট মাত্র ছাপ্পান্ন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

বাংলাভাষা ও সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে ভারতবর্ষে সেই সময়ে যারাই দাপড়িয়ে বেড়িয়েছেন তারা সকলেই তাদের নিজস্ব গন্ডির ভেতরেই আবদ্ধ ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে বাংলা সাহিত্যকে তার নিজস্ব গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে জায়গা করে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল ইহাতে কোন সন্দেহ নাই।

সাহিত্যে নোবেল অর্জনের পরে রবীন্দ্রনাথ নতুন কবিতা লিখলেন “ছবি”। তারপরে পরে একে একে লিখলেন ঝড়ের খেয়া, বলাকা,শঙ্খ, শাজাহান। কবির অপরুপ সব সৃষ্টি সবুজপত্র পত্রিকায় নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯২৫ সালে সবুজপত্র পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে লিখেন “ঘরে-বাইরে” উপন্যাস। কবি রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও তার লেখনী ও গানের সুর ও বানী প্রেরণা যুগিয়েছে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ও পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরযোদ্ধাদের স্বাধীনতা অর্জনে। ১৯১১ সালের ১৩ই এপ্রিল ইংরেজ সৈন্যরা জালিয়ানওয়ালাবাগে ৩৭৯ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় কবির হৃদয় ক্ষোভে ঘৃণায় জ্বলে উঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে কবি বড়লাট চেমসফোর্ডকে লেখা এক খোলা চিঠিতে ইংরেজ সরকার প্রদত্ত নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করার ঘোষনা দিয়েছিলেন। এসময় কবি বিশ্বভ্রমনে বেড় হয়েছিলেন। জাপান, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানিসহ যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই তুলে ধরেছেন ভারতবর্ষের ইতিহাস ঐতিহ্য আর বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে।

রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা সাহিত্য ও বাংলাভাষা নিয়ে যারা গবেষণামুলক কাজ করে দুই বাংলায় ভাষাতত্ত্ব ও ধ্বনিতত্ত্বের উপরে আভিধানিক ব্যবহারসহ বাংলাভাষাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তারা হলেন ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯) এবং ডঃ সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায় (১৮৯০-১৯৭৭)। দুজনেই ভাষাতত্ত্বের উপরে ফ্রান্সের সরোবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিদ হিসাবে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেন। দুজনেই কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখপাধ্যায়ের আহবানে সাড়া দিয়ে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেছিলেন। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ একুশটি ভাষা জানতেন। তার গবেষণামুলক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ সংখ্যা চল্লিশটি। এছাড়াও ৪১টি পাঠ্যবই লিখেছেন এবং ২০টি বই সম্পাদনা করেছেন।

ভাষাবিজ্ঞানী ডঃ সুনীতিকুমার চট্রোপধ্যায় ১৯১১ সালে ইংরেজীতে অনার্সসহ এম এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করে বিদ্যাসাগর কলেজে ইংরেজীর অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। পরের বছর কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ ক্লাশের ইংরেজীর অধ্যাপক হিসাবে যোগদিয়ে ১৯১৯ সালে সেখান থেকে ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে ইউরোপ যান। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্বন্নিতত্ত্বে ডিপ্লোমা ও ১৯২১ সালে বাংলা ভাষাতত্ত্ব গবেষণায় ডি-লিট উপাধী লাভ করেন। এখানে তিনি ধ্বনিতত্ত্ব, ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব, ফরাসি সাহিত্য, পুরাতন আইরিশ, ইংলিশ ও গোথিক ভাষা বিষয়ে ব্যপক পড়াশুনা করেন। পাশাপাশি ভারতীয় আর্যভাষাতত্ত্ব, প্রাচীন সগডিয়ান ও মোটানি ভাষা, গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষার ইতিহাস। এভাবেই সুনীতিকুমার হয়ে উঠেছিলেন বহুভাষাবিদ পন্ডিত।

১৯২২ সালে দেশে ফিরে এসে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বের প্রথম অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হয়ে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করে অবসর গ্রহণের পর এমেরিটাস অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন।তার বিখ্যাত গ্রন্থ ODBL অর্থাৎ Origin of Development of the Bengali Language দুই খন্ডে প্রকাশিত হওয়ার পরে চর্তুদিকে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুমাত্রা, জাভা, বর্মী ও শ্যাম দেশ পরিভ্রমন করেন। কবিগুরু এসময় সুনীতিকুমারকে তার সঙ্গে নিয়ে যেতেন। ভারতের শিল্প সংস্কৃতি বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কবিগুরুর সাথে সুনীতিকুমার কে বক্তৃতা করানোর জন্য। ভাষাতত্ত্বের উপরে সুনীতিকুমার ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আলোচনায় অংশগ্রহণ ও ভাষণ দেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধি হিসাবে যোগদান করে বাংলা ও বাঙ্গালি জাতিকে সম্মানিত করেছেন। কবিগুরু ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্রোপধ্যায়কে ভাষাচার্য উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। সারাজীবনে তিনি ৩০০ টিরও অধিক পাণ্ডিত্যপূর্ণ গ্রন্থ লিখেছেন।

রবীন্দ্রনাথ কবিতা ও সাহিত্যের সীমানা অতিক্রম করে শিল্প, সঙ্গীত, নাটক চলচিত্রে অভিনয় ও চিত্রনাট্য কাহিনী লিখেছেন। লন্ডনে থাকাবস্থায় পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সুর ও তাল তারমধ্যে একধরনের প্রভাব সৃষ্টি করেছিল। সেই অনুভুতি থেকেই ভিন্ন ধারার সঙ্গীত সৃষ্টি করে নিজস্ব সুরে সুরারোপিত করে সঙ্গীত জগতে রবীন্দ্র সঙ্গীত নামে উপহার দিয়ে গেছেন বাঙ্গালি মানষপটে এক শক্তিশালী সুর ও সঙ্গীত। ছোটগল্প অবলম্বনে তৈরী হয়েছে বহু চলচিত্র ও নাটক। শেষ বয়সে কবি প্রচুর শিল্পকর্ম ছঁবি একেছেন। ছঁবির মাধ্যমেও কবি ভারতবাসী তথা বাঙ্গালি জাতিকে তুলে ধরেছেন। স্রষ্টা প্রদত্ত অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী কবিগুরুর রচিত সঙ্গীত ভান্ডার থেকে নিয়ে ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা এই তিন দেশের জাতীয় সঙ্গীত মর্যাদালাভ করেছে। বৃদ্ধ বয়সে এসে কবি ডুবে থাকতেন গান আর ছঁবি আঁকায়। তারই ফাঁকে ফাঁকে লিখলেন শ্যামলী, সেঁজুতি, আকাশ প্রদীপ ও শ্যামা নৃত্যনাট্য।

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে ভাষণ দেবার জন্য কবির ডাক এলে চিরাচরিত প্রথা ভেঙ্গে কবি বাংলায় বক্তৃতা দিলেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে শান্তিনিকেতনে কবিকে শেষ বয়সে এসে ডক্টরেট উপাধি দেয়া হল। কবির স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়েছে তবুও বিছানায় শুয়ে কবি বলে যেতেন অন্যে লিখতেন। এমতাবস্থায় লিখলেন কবির সেই বিখ্যাত গল্প ল্যাবরেটরি। কবিতাগুলো সংকলিত হয়ে প্রকাশিত হল “রোগশয্যায়”। শান্তিনিকেতন থেকে কোলকাতায় নিয়ে আসা হল কবিকে অপারেশন করানোর জন্যে। অপারেশনের আগে বললেন জীবনের শেষ কবিতা।

“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছে আকীর্ণ করে
বিচিত্র ছলনা জালে হে ছলনাময়ী”

১৯৪১ সালের ৭ই আগষ্ট বাংলা ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ ২২শে শ্রাবণ অপারেশনে কবি জ্ঞান হারালেন সেই জ্ঞান আর ফিরে এলনা। সকলের মাঝ থেকে মহাপ্রস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা হল। বাঙ্গালি বিশ্বমানচিত্রে যতকাল থাকবে ততকাল ভাস্বর হয়ে রবি উদিত হবে বাঙ্গালির হৃদয়পটের আকাশ জুরে।

শ্যামল কুমার রায়
সাবেক ছাত্রনেতা ও রাজনীতি বিশ্লেষক।

সর্বশেষ

লৌহজংয়ে আ’লীগের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরন

লৌহজং (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সহযোগিতায় ও নির্দেশে লৌহজং উপজেলার খিদির পাড়া ইউনিয়ন আ’মীলীগের উদ্যোগে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের...

পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখা যায় এমন সিনেমা তৈরি করুন

নিউজ ডেস্ক: সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এমনভাবে সিনেমা তৈরি করতে হবে, যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে পারি।

চলচ্চিত্রে যতটুকু পাওনা ছিল, বোধহয় তার ইতি হলো: সোহেল রানা

নিউজ ডেস্ক: দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ তুলে দেওয়া হয়েছে বিজয়ীদের হাতে। এ বছর চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় যুগ্মভাবে...

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু

নিউজ ডেস্ক: সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। রোববার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন...

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সহধর্মিণী মারা গেছেন

নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সহধর্মিণী বুলা আহম্মেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।