36 C
Dhaka
Sunday, January 17, 2021
No menu items!

ত্রাণ ছাড়াও প্রতিদিন ২৪ হাজার মানুষকে খাবার দিচ্ছে বিদ্যানন্দ

নিউজ ডেস্ক: এই করুণ করোনাকালে ক্ষুদ্র এক ভাইরাস যখন দাবড়ে বেড়াচ্ছে দুনিয়াময়, তখনও কিছু মানুষ ক্ষুধা পেটে ঘুমিয়ে যায়। ভাইরাস নয়, তাদের একমাত্র চিন্তা আগামীকাল কী খাবে? আমরা যখন সাধারণ ছুটি বা লকডাউন কাটাতে ঘরে বসে আছি, তখন কিছু মানুষের ঘরে খাবার নেই। তবে তাদের যেন ক্ষুধা পেটে ঘুমাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে ঘুম নেই কিছু তরুণের চোখে। তারা ভুলে গেছে আরামের ঘুম, খাওয়া কিংবা বিশ্রাম। দিনরাত কেউ খাবার বা ত্রাণ নিয়ে ছুটছেন, কেউ আবার ছুটছেন শহরময় জীবাণুনাশক ছেটাতে। কেউ আবার ব্যস্ত তদারকিতে, যেন সবকিছু সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়।

ত্রাণ ছাড়াও তারা ঢাকা ও চটগ্রামে প্রতিদিন ২৪ হাজার মানুষের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। ঢাকার খিলগাঁওয়ের শাহাজাহানপুরে রান্না হয় এই বিপুল পরিমাণের খাবার। বিশজন পেশাদার বাবুর্চির সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা।

এসব বাজার মূলত ঢাকা থেকেই কেনা হয়। এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে আনা হচ্ছে, যা দিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় খোলাবাজার ব্যবস্থা চালু করেছেন। খোলাবাজার মানে সেখানে কোন কেনাবেচা নাই। পিকআপ ভর্তি সবজি বা ফলমূল ঢেলে রাখা হয়। সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রয়োজন মতো নিয়ে যায়।

রান্না করা খাবারের সঙ্গে তারা ডিম ও মুরগির মাংস দেন। এর জন্য তাদের দিনে ৬০০ কেজি মুরগির মাংস কিনতে হতো। এখন থেকে একটা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে মুরগির মাংস দেবেন বলে জানালেন সালমান। আর বিদ্যানন্দের ‘এক টাকায় আহার’ প্রকল্পের সময় থেকেই প্রতিদিন ডিমের চাহিদা পূরণ করে দেশের একটি নামকরা এগ্রো ফার্ম লিমিটেড। এখন এই করোনার সময়ে তারা প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ হাজার পিস ডিম সাপ্লাই দিচ্ছেন। এছাড়াও কেউ এসে সবজি দিয়ে যান, কেউ চাল, কেউ ডাল আর কেউ বা কয়েকটা মুরগি। যার যতটুকু সামর্থ্য তাই নিয়ে দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে।

এই তরুণ শিক্ষার্থীদের দল যুক্ত আছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। আনন্দের সঙ্গে বিদ্যার্জনের নীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। মূলত সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু বা বস্তির শিশুদের জন্য কাজ করত তারা। তাদের লেখাপড়া শেখানো ও খাবারের বন্দোবস্ত করাই ছিল মূল কাজ। কিন্তু যে শিশুদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে চান, তারা যেন মাথা উঁচু করে বাঁচে তাই শুরু হলো ‘এক টাকায় আহার’ নামের অভিনব এক উদ্যোগ। শিশুরা এক টাকার বিনিময়ে খাবার কিনে খেতে পারে সেখান থেকে। আছে নিজেদের বিদ্যানন্দ প্রকাশনী। এছাড়াও তারা শুরু করেছিল পাঁচ টাকায় বাসন্তি স্যানিটারি প্যাড নামের আরও এক উদ্যোগ। বিদ্যানন্দের কার্যালয়েই সুবিধাবঞ্চিত নারীরা নিজস্ব বাসন্তী গার্মেন্টসে এই প্যাড বানায়। তাদের সর্বশেষ উদ্যোগ ছিল শুধুই মেয়েদের জন্য ‘বাসন্তী নিবাস’ নামের ক্যাপস্যুল হোটেল।

দেশে করোনা শুরু হতেই মানুষের জন্য ত্রাণ ও সাহায্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তখনই টার্গেট নিয়েছিল, দুই লাখ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেবে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার পরিবারের কাছে তারা ত্রাণ পৌঁছে দিতে পেরেছেন বলে জানালেন বিদ্যানন্দের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান সালমান খান ইয়াসিন।

এসব ত্রাণ বিতরণে প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা পাচ্ছেন তারা। পুলিশবাহিনী তো বটেই, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও র‍্যাবের মাধ্যমে দেশব্যাপী মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে তারা। প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও ত্রাণ বিতরণে সাহায্য করছে।

সালমান জানালেন, এই মুহূর্তে ত্রাণের চাহিদা অনেক। তারা হয়তো দুই শতাংশ মানুষের ত্রাণের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন। অনেকে এগিয়ে এলেও তা যথেষ্ট নয়। দিনে হয়তো একশটা ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে ত্রাণের জন্য কল আসে, কিন্তু সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না। যে এলাকায় একসঙ্গে অনেকগুলো চাহিদা আসে সেখানেই যান তারা। যেগুলো বাকি থেকে যায়, তাদের জন্য কষ্ট ঠিকই হয়। এক্ষেত্রে মন খারাপ হলেও কিছুই করতে পারেন না তারা। এমন অবস্থায় আরও মানুষ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলে ভালো হতো বলে মনে করেন সালমান।

এভাবে প্রতিদিন তারা ৮ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রতি পরিবারের জন্য তাদের খরচ ১০১ টাকা। আর আট হাজার পরিবারের জন্য মোট খরচ ৮ লাখ ৮ হাজার টাকা। এই বিপুল অংকের টাকার পুরোটাই আসে মানুষের ডোনেশন থেকে। দেশ ও বিদেশের বাংলাদেশিদের দেওয়া টাকা থেকেই চলে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ। ব্যক্তি পর্যায়ে ছাড়াও দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ব্যাংক, এনজিও থেকেও আসে বড় অংকের অনুদান। এই করোনাকালে সেই প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে দশ লাখ থেকে কোটি টাকা।

কথায় কথায় জানতে চাইলাম সর্বনিম্ন অনুদানের পরিমাণ কেমন হতে পারে। সালমান জানালেন এক টাকা! অবাক হলাম। তখন তিনি ভেঙে দিলেন ব্যাপারটা। বিকাশ অ্যাপে বিদ্যানন্দকে ডোনেশনের একটা অপশন আছে। সেখানে এক টাকা, দুই টাকা বা পাঁচ টাকা পাঠান অনেকে। আর এভাবেই সংখ্যাটা দাঁড়ায় লক্ষাধিক। আবার স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টাকা তুলে পাঠান তাদের কাছে। এছাড়াও তাদের বিকাশ নম্বরে ব্যক্তিগত অনুদান তো পৌঁছাচ্ছেই। এসব টাকার হিসেবের ব্যাপারে ভীষণ সজাগ তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন কত টাকার কী কিনলেন তার মূল্য তালিকা।

মানুষের এইসব ভালোবাসা আর ভরসার প্রতিদান দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা। নিজেদের সুখ, সুবিধা, আরাম-আয়েশ তো বটেই, পরিবারের নিরাপত্তার জন্য দিনের পর দিন ঘরেও ফিরছেন না তারা। এই রোজার মাসে রাতভর ত্রাণ ও খাবার বিলি করে নিজেরা হয়ত ধারে বসেই খেয়ে নিচ্ছেন এক প্যাকেট ত্রাণের খাবার।

শুধুই ত্রাণ নয়, মার্চের শুরু থেকেই তারা শহরময় জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন নিজ উদ্যোগে। সালমান জানালেন, জীবাণুনাশক দিচ্ছে দেশের নামকরা একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি। তাদের সাহায্যেই বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৬ হাজার লিটার জীবানুনাশক ছিটাচ্ছেন। বিশেষত হাসপাতালগুলোর আশেপাশে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, তারা সারারাত ত্রাণ ও খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। দিনের বেলায় ছিটাচ্ছেন জীবাণুনাশক। তাহলে এই ছেলেগুলো খায় কী? ঘুমায় কোথায়?

বিদ্যান্দের কার্যালয় এখন লকডাউন। নারী স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে অবস্থান করছে। যোগাযোগ থেকে শুরু করে পেছনের সমস্ত কাজ তারাই সামলাচ্ছে। আর এদিকে পথে পথে ছুটে বেড়াচ্ছে যে ছেলেগুলো তারা থাকছেন খিলগাঁওয়ের শাহাজাহানপুরের এক মাদ্রাসায়। সেখানেই তাদের খাবার রান্না হয়। করোনার সাধারণ ছুটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসাটিও বন্ধ। ছাত্র না থাকায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তাদের জন্য কিছু ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ছেলেগুলো সেখানেই মেঝেতে ঢালাও বিছানায় ঘুমায়।

বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবীদের সবাই যে ঢাকার বাসিন্দা তা কিন্তু না। বাইরে থেকেও তাদের সেরা সব স্বেচ্ছাসেবকদের ঢাকায় আনা হয়েছে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে। প্রত্যেকেই শিক্ষার্থী। বয়সও কম। তাদের এই তরুণ কাঁধেই যেন তুলে নিয়েছে মানবতার ভার। এভাবেই তারা এগিয়ে যাবে, প্রত্যাশা সবার।

সর্বশেষ

লৌহজংয়ে আ’মীলীগের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরন

লৌহজং (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সহযোগিতায় ও নির্দেশে লৌহজং উপজেলার খিদির পাড়া ইউনিয়ন আ’মীলীগের উদ্যোগে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের...

পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখা যায় এমন সিনেমা তৈরি করুন

নিউজ ডেস্ক: সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এমনভাবে সিনেমা তৈরি করতে হবে, যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখতে পারি।

চলচ্চিত্রে যতটুকু পাওনা ছিল, বোধহয় তার ইতি হলো: সোহেল রানা

নিউজ ডেস্ক: দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯ তুলে দেওয়া হয়েছে বিজয়ীদের হাতে। এ বছর চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় যুগ্মভাবে...

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু

নিউজ ডেস্ক: সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। রোববার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন...

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সহধর্মিণী মারা গেছেন

নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সহধর্মিণী বুলা আহম্মেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।