36 C
Dhaka
Wednesday, January 27, 2021
No menu items!

মানুষ হিসেবে আমাদের অপরাধসমূহ

সাজ্জাদুর সিরাজ নিবিড়
জন্তুর পেটে জন্ম নেয় জন্তু। কিন্তু মানুষ তার ব্যাতিক্রম। মানুষের থেকে জন্ম হয় অতিমানুষ এবং অমানুষের। কিছু মানুষ মহাকালকে পরাজিত করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “সোনার তরী” কবিতার মূল্ভাবের মত। তাঁরা তাদের কর্মের মাধ্যমে হয়ে উঠে অবিনশ্বর। আজ থেকে দুইশত বছর পূর্বে ইংল্যান্ডে জন্ম হয় ল্যাডি উইথ দ্যা ল্যাম্প খ্যাত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ১৮৫৩-১৮৫৬ সালের ক্রিমিয়া যুদ্ধে যুদ্ধাহত সৈনিকদের সেবার জন্য ইতিহাসে তিনি অবিস্মরণীয়। নিজের সর্বস্ব জনকল্যানে বিলিয়ে দিয়ে সুখ খুঁজে নিয়েছিলেন হাজী মোহাম্মদ মহসীনের মত দানবীর। ইরান থেকে বাংলায় আসা এ জনহিতৈষীর কথা মানবকুল শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে।

১৯২০ সালে অর্থাৎ শতবর্ষ আগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপারায় জন্ম হয় খোকা ডাক নামের এক শিশু। তিনি ছিলেন হিমালয়ের ন্যায় দৃঢ়, বাঙ্গালির অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন আপোষহীন , শোষিত মানুষের জন্য ছিল তার হৃদয়ে পৃথিবী সমান ভালোবাসা। বন্দুকের নলের ডগায় দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চারণ করেছেন বাংলার মানুষের অধিকারের কথা, শ্রেষ্ঠ কবির ন্যায় আবৃত্তি করেছে ৭ই মার্চের বিদ্রোহী ভাষণ। বাঙ্গালীর জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ পালিত হচ্ছে বিশ্বের ১৯৫ টি দেশে। পৃথিবীর মানচিত্রে অঙ্কন করা বাংলাদেশের জন্য তিনি স্মরণীয় হবেন আজীবন।

মুদ্রার অপর পিঠের ন্যায় মানুষের অবয়বেই জন্ম নেয় রাষ্ট্রদ্রোহী, প্রতারক , ধর্ষক, নেতা রুপী চোর। মীরজাফরের ক্ষমতার লোভের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশ ১৯০ বছর শোষণ করেছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা। শিল্পবিপ্লবের নীলের যোগান দিতে না খেয়ে মরেছে বাংলার চাষা। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বা ১৭৭০ ইংরেজি সনের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে না খেয়ে মারা যায় বাংলার ১ কোটি মানুষ। বাংলার জমিতে তখন ধান চাষ হয়নি, হয়েছিল নীল। সারা পৃথিবী শোষণ করে তাঁরা গড়ে তুলেছে রাজপ্রাসাদ, উন্নত রাষ্ট্র। বাংলার শেষ নবাব বধ হয় মীরণের হাতে, মীরণ ছিল বাংলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধ থামানো প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন প্রাণ দেয় এক আমেরিকান আততায়ীর গুলিতে। মহাত্না খ্যাত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী হিন্দু উগ্রবাদী নথুরামের গুলিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। যার তর্জনীর ইশারায় স্বাধীন হয় বাংলাদেশ, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তাঁর পরিবারের সকলকে প্রাণ দিতে হয় তাঁরই বেতনভুক্ত সেনাবাহিনীর কতিপয় পথভ্রষ্ট অফিসারদের কাছে। বঙ্গবন্ধুর দশ বছরের রাসেল প্রাণ হারায় ঘাতকের বুলেটে। একজন রাষ্ট্র নায়কের জানাযায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি তাঁর দেশের মানুষ। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে কয়ের যুগ পিছিয়ে পরে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ।

বাংলায় প্রবাদ আছে, বিপদে বন্ধুর পরিচয়। যত কঠিন বিপদ, তত ভালো বন্ধু। সারা বিশ্ব আজ বন্ধুত্বের পরিক্ষা দিচ্ছে। কিউবার মত সমাজতান্ত্রিক দেশ সাহায্য পাঠাচ্ছে পুঁজিবাদের দেশ ইটালিতে। পরাশক্তি চীন আরেক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে হাত বাড়িয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে দক্ষিন কোরিয়া। ইয়েমেনের উপর বোমা হামলা বন্ধ করেছে সৌদিআরব।

আমাদের দেশের মানুষ তাদের পরিচয় দিচ্ছে ভিন্নভাবে। বৈশাখের প্রথম দিনে করোনা সন্দেহে মাকে সখীপুরের বনে ফেলে গিয়েছে সন্তানেরা। রিপোর্ট দেখে হয়ত দুঃখ লাঘব হয়েছে নিসন্তান দম্পতির। তারা অন্তত নিজের ভিটাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারবেন। রাতের পরে রাত নির্ঘুম থেকে যে মা পালন করেছেন সন্তান। সেই সন্তান আজ রাতের আঁধারেই ত্যাগ করছেন মাকে।

অতীতে রাজারা গুপ্তধন লুকিয়ে রাখতো ভূগর্ভে। বাংলাদেশের ভূগর্ভে এখন মজুদ হচ্ছে গরিবের ত্রানের চাল। অনাহারে থাকা জনগনের কাছে ভাত হীরার থেকেও মূল্যবান। ত্রানের চাল বাজারে বিক্রির জন্য সদা তৎপর এক শ্রেণির পশুর ন্যায় হিংস্র নেতা। তাদের মানব বলার চেয়ে দানব বলাই শ্রেয়। জাতির পিতা যেমন আক্ষেপ করে বলেছিলেন সাত কোটি কম্বল আসলো আমার কম্বল কই? তিনি আরো বলেছিলেন, “দেশ স্বাধীন করলে সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি”। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদের বিরুদ্ধে সর্বচ্চো পদক্ষেপ নিবেন।

দুনিয়া জুড়ে খ্যাতনামা ডাক্তার যুদ্ধ করছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে। বিশেষজ্ঞরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের। বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লোকেরা যুদ্ধ করছে দেশীয় অস্ত্র হাতে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরের জবাবে তারা জানাচ্ছে তারা দূরত্ব মেনে মেতে উঠেছে এই রক্তের হলি খেলায়। এরা আমাজনের বনের আদিম মানুষের চেয়েও অধম। এক জানযায় দুই লক্ষাধিক লোকের জন্য গিনেস বুক অফ ওয়াল্ডে এবার নাম উঠিয়ে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে বসাবে তারা।

টেলিভিশনের চ্যানেলে এমন একটা হেডলাইন হওয়া উচিৎ ছিল, “খাটের নিচে বিশ্বে প্রথম আবিষ্কার হলো তেলের খনি।“ টিসিবির পণ্য যা থাকার কথা ছিল মানুষের ঘরে, তা পাওয়া যাচ্ছে খাটের তলায়। ঠিক যেমন আমাদের মনুষ্যত্ব গিয়ে ঠেকেছে তলানিতে। এখন আমি খুব শঙ্কিত বোধ করছি, করোনার পরে না আমেরিকা আমাদের দেশের তেলের খনির জন্য আক্রমন করে বসে।

কী আশ্চর্য আমার দেশের মানুষ! মার্চের ৮ তারিখে বাংলাদেশে যখন প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়লো ১০ টাকার মাস্ক সেঞ্চুরি করলো। টাকা আছে তবুও মাস্ক নেই। যে ব্যাক্তির বা ব্যাক্তিদের সাধারণ সচেতনতাটুকু নেই তারা ছুটলেন হ্যান্ডস্যানিটাইজার কিনতে। এখানে আমি কাউকে ছোট করছি না। আমার বলার উদ্দেশ্য হলো ঢাকা শহরের বাতাসের যে অবস্থা তাতে প্রতিটা সচেতন মানুষেরই মাস্ক ব্যবহার করা উচিৎ, তা না করে একদিনে আমরা সচেতন জাতি হিসেবে বিশ্বে নাম লিখালাম। যারা তিনবেলা খাওয়ার আগে ঠিক মত হাত ধোয় না তারা গেলেন হ্যান্ডস্যানিটাইজার কিনতে। বাজারে দেখা দিল সংকট।

আরেক শ্রেণির অর্থলোভী পিশাচ হাসপাতালের পুরনো মাস্ক ধৌত করে বিক্রি করলো বাজারে। কেরানিগঞ্জে তৈরী হলো নকল হ্যান্ডস্যানিটাইজার। এই শ্রেণির মানুষ টাকার জন্য তার বউ-মা-মেয়েকে বিক্রি করতে প্রস্তুত। এদের ঠিক কোন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ফেলা যাবে তা বোধহয় সমাজ বিজ্ঞানীরা ও জানবেন না।

সারা বিশ্বে যখন হাহাকার বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের দেশে তখন নয় বছরের শিশু ধর্ষিত হচ্ছে। ফেসবুকের লাইভে এসে স্ত্রীকে খুন করছে স্বামী। দেশের মানুষ যখন অভুক্ত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তখন ভরে উঠছে উচ্চবিত্তদের সুস্বাদু খাবারের ছবিতে। সেই খাবারের ঘ্রাণ ঢেকে দিবে না খেয়ে মারা যাওয়া মানুষের গন্ধ।আমাদের দেশের বাড়ির মালিকেরা নাকি ডাক্তার আর নার্সদের বাড়ি ছাড়ার হুকুম দিয়েছে।

১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলে দৈনিক ইত্তেফাকের একটি সংবাদের শিরোনাম ছিল, “ একদিকে মানুষ অনাহারে দিন যাপন করিতেছে, অপরদিকে সরকারি গুদামের গম কালোবাজারে বিক্রি হইতেছে।“ দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, সরকারি গুদামে কোটি কোটি টন খাদ্য মজুদ রয়েছে। অথচ সরকারি ত্রানের সুষ্ঠু বন্টন না হওয়ায় মানুষের কাছে ত্রান যাচ্ছেনা। সরকার যদি এখন যথাযথ পদক্ষেপ না নেয় তবে করোনা আক্রান্তের চেয়ে না খেয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি হতে পারে। যাদের ঘরে খাবার থাকবে না, তারা কোনভাবেই ভাইরাসের ভয়ে ঘরে বসে থাকবে না। এই অবস্থা তৈরী হওয়ার পূর্বেই আমাদের সচেতন হতে হবে। সরকারকে যথাযথ এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্বদেশের উপকারে নেই যার মন, কে বলে মানুষ তারে পশু সেই জন। ত্রান চোর এই সকল পশুদের চিড়িখানার ন্যায় হাজতে বন্দি করা হোক। করোনা পরবর্তী ধরণীতে তাদের অস্তিত্ব বিলিন হোক। পৃথিবী হোক মানুষের। যে পৃথিবীতে কিশোর কবি সুকান্তের মত কেউ বিদ্রোহ করে বলবে না, “পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।“

সর্বশেষ

এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখের অপেক্ষা

নিউজ ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত, প্রকাশ ও সনদ বিতরণের...

বাইডেন-পুতিনের প্রথম ফোনালাপে যে কথা হলো

নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছেন জো বাইডেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে প্রথম...

ভবিষ্যতে পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার হতে চাই: রশিদ খান

স্পোর্টস ডেস্ক: রশিদ খানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় স্পিনার হিসেবে। শুরু থেকে দুর্দান্ত লেগ ব্রেকে ব্যাটসম্যানদের জন্য যেন সাক্ষাৎ ‘যমদূত’ হয়ে ওঠেছেন...

৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ টিকা পাবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ বা ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৬ কোটি...

বাংলাদেশের জন্য ম্যাকগ্রা-গিলেস্পিদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে উইন্ডিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ২০০৪ সালে ভারত সফরের কথা। ভারতকে তাদের আঙিনায় হারাতে গ্লেন ম্যাকগ্রা ও জেসন গিলেস্পি বিশেষ পরিকল্পনা সাজান। মিডল স্টাম্প বরাবর...