সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত মাদারীপুরের সোবহান খানের মরদেহ আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা পরিবারের

প্রকাশ : 2026-04-14 20:23:15১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত মাদারীপুরের সোবহান খানের মরদেহ আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা পরিবারের

ভ্যান চালিয়ে পাঁচ সন্তান নিয়ে সংসার চালাতো সোবহান খান। কিন্তু সংসারের অভাব ঘোচাতে সুখের আশায় ৭ মাস আগে ৫ লাখ টাকা ধারদেনা করে পাড়ি জমান সৌদি আরব। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সৌদিআরবে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন পরিবারের আয়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম সোবাহান খান। পরিবার প্রধানের এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ পুরো পরিবার। শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। নিহত সোবহানের লাশটি দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। 

মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া এলাকার ইউসুফ খানের ছেলে সোবহান খান সংসারের হাল ধরতে ধারদেনা করে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর মাসে সৌদিআরবে পাড়ি জমান। তবে সেখানে গিয়ে প্রথম কয়েক মাস কোনো কাজ না পাওয়ায় আরো ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। প্রায় দুই মাস আগে একটি নির্মাণ কোম্পানীতে কাজে যোগ দেন। সেই কাজ করতে গিয়েই একটি বহুতল ভবনের উপর থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ আগস্ট (শনিবার) মারা যান সোবহান খান। পরিবারের প্রধানের এমন মৃত্যুর সংবাদে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো পরিবারটি। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সোবহানের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার । পরিবারটিকে ঋণের বোঝা থেকে বের হতে ও মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর।

তিনি আরো জানান, ঋণ করে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভালো কিছুর আশায়। কিন্তু তিনি কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। এখন ৬ সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলবো, কিছুই বুঝতে পারছি না। আর স্বামীর মরদেহও আনব কিভাবে?

নিহত সোবাহানের  মেয়ে মিম খান ও নুর নাহার বলেন, আমার বাবাই ছিল আমাদের উপার্জনকারীর একমাত্র বটবৃক্ষ। আজ পাঁচ দিন হলো আমাদেরকে কেউ মা বলে ডাকছে না। আমার কোন বড় ভাই নেই যে সে আমাদের সংসার চালাবে। কে আমাদের সংসার চালাবে আল্লাহই ভাল জানে। আমরা আমাদের বাবার লাশ দেশে দেখতে চাই।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব জানান, মরদেহ আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সাহায্য ও সহযোগিতার করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

নিহত সোবহান খানের মরদেহ দ্রæত দেশে আনতে এবং পরিবারটি ঋণের দায় হতে মুক্তি পেতে সহযোগিতা করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।