সংঘর্ষে বারবার প্রাণহানি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিআইজি

প্রকাশ : 2026-03-11 16:13:57১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

সংঘর্ষে বারবার প্রাণহানি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিআইজি

মাদারীপুর শহরের নতুন মাদারীপুর এলাকা যেন দিন দিন পরিণত হচ্ছে এক রক্তাক্ত জনপদে। কিছুদিন পরপরই সেখানে ঘটছে সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনা। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান দ্বন্দ্বে বারবার ঝরছে প্রাণ, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিরীহ সাধারণ মানুষ।সম্প্রতি আবারও এই এলাকায় ঘটেছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার সকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আলমগীর হাওলাদারকে নামে এক লোক কে। তিনি সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে মঙ্গলবার রাতেই এলাকায় আবারও সহিংসতার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আলমগীর হাওলাদারের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৪০টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বুধবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

মাদারীপুর শহরের নতুন মাদারীপুরে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এই এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সদর উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি শাকিল মুন্সিকে, যিনি মাদারীপুর ২ নং ওয়ার্ড পৌর বিএনপি'র সভাপতি হাসান মুন্সির ভাই। প্রায় এক বছর পর একই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় এবার নিহত হলেন তার প্রতিপক্ষ আলমগীর হাওলাদার।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ চৌকিদার বলেন, প্রতিবার সংঘর্ষের পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পরে আবার নতুন করে শুরু হয় সহিংসতা।স্থানীয় আরেক বাসিন্দা কুরসুম বানু বলেন বাড়িতে আতংকে থাকি ককন জানি বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।নতুন মাদারীপুরের সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এই রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।