রুচিশীল বাগানবিলাসীদের পছন্দের তালিকায় বনসাই

প্রকাশ : 2022-10-17 14:18:50১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

রুচিশীল বাগানবিলাসীদের পছন্দের তালিকায় বনসাই

অনেকে শখের বসে বারান্দায় আও ছাদে গাছ লাগিয়ে থাকেন। সাধারণ গাছের পাশাপাশি বনসাই বেশ জনপ্রিয়। যার মাধ্যমে বাগানবিলাসিকতার সাথে বাড়ির মালিকের উন্নত রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলাদেশেও প্রায় দুই দশক ধরে উন্নত মানের বনসাই কালচার চালু রয়েছে। এখন এসব বিদেশেও রপ্তানি হয়৷ বনসাই বলতে বুঝায় বৃক্ষ জাতীয় গাছকে (ফলজ ও বনজ) তার আকৃতি ঠিক রেখে সেগুলোর নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন প্রকার টবে ধারণ করা৷ বনসাই চাষের মাধ্যমে অল্প পরিসরে প্রকৃতিকে উপলব্ধি করা যায়৷ এর মাধ্যমে আনন্দ খোঁজাই বনসাই কালচারের উদ্দেশ্য। 

বনসাই শক্ত কাণ্ড রয়েছে এমন গাছের খর্বাকৃতি করার শিল্পকে বনসাই বলা হয়। শক্ত কাণ্ড বিশিষ্ট গাছকে নান্দনিক ভাবে ক্ষর্বাকৃতি করার যে শিল্প।গাছের গড়ন নির্ণয় থেকে শুরু করে তাতে পানি দেয়া তথা বাঁচিয়ে রাখা এবং যে পাত্রে বা টবে তা চাষ করা হয় তা নির্ধারণ এবং প্রতিস্থাপন সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

প্রাচীন চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে জাপানী ‘বনসাই’ শব্দের উৎপত্তি। বনসাই করতে ব্যবহৃত ট্রের মত যে পাত্র ব্যবহার করা হয় তাকেই সাধারণভাবে ‘বন’ বলা হয়। পাশ্চাত্যে পাত্রে ক্ষর্বাকৃতির গাছ বলতে ‘বনসাই’ বোঝায়।

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় পাত্রে বা টবে গাছ বা বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা উৎপাদনের কথা জানা যায়। ৪০০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দের রাজনৈতিক নথিপত্র থেকে পাথর কেটে তৈরি করা পাত্রে গাছ চাষের হদিস পাওয়া যায়। প্রচুর মন্দিরে ফারাও তৃতীয় রামেসেস পাত্রে লাগানো জলপাই, খেজুর এবং অন্যান্য গাছের বাগান দান করেছিলেন। প্রাচীন ভারতে ঔষধ আর খাবারের জন্য টবে বা পাত্রে গাছ লাগানোর প্রচলন ছিল।

২৬৫ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৪২০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যবর্তী জিন সাম্রাজ্যের সময়ের লেখালেখিতে প্রথম ‘পেনজাই’ শব্দের উল্যেখ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে চীন দেশের নানা জায়গায়, জাপানে, কোরিয়াতে, ভিয়েতনামে এবং থাইল্যাণ্ডে ভিন্ন আকারে এর চর্চা বিস্তার লাভ করে। চৈনিক ছং রাজবংশের সময় জাপানে পাত্রে উৎপাদিত গাছের জনপ্রিয়তা পায়। জাপানের সাংস্কৃতিক বিনির্মাণের এই সময়ে তারা বেশকিছু চীন দেশীয় বৈশিষ্ট্য নিজেদের মত করে আত্মস্থ করে নেয়। পাত্রের ক্ষুদ্র গাছকে এই সময় ‘গামলার গাছ’(হাচি-নো-কি) বলা হত। জনৈক জাপানী জেন পুরোহিত, কোকান শিরেন-এর লেখা ‘ক্ষুদ্রাকৃতি বৃক্ষরাজির বাগান নিয়ে লেখা গদ্য’ বইয়ে ‘বনছেকি’ বা বনসাই এর নান্দনিক বৈশিষ্ট্য ও বাগান পরিকল্পনার আলোচনা পাওয়া যায়।

প্রথম প্রথম জাপানীরা পাত্রে জন্মানো বামনকৃত গাছ ঘরবাড়ী আর গাছ সাজাতে ব্যবহার করত। টকুযাওয়ার সময়ে বিস্তৃর্ণ বাগান তৈরি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ধনীদের অবসরে বিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠে আজালিয়া এবং ম্যাপলের মত গাছ পালন করা। বামনকৃত গাছ পাত্রে পালন করাও জনপ্রিয় ছিল। মোটামুটি ১৮০০ সালের দিকে জাপানীরা তুলনামূলকভাবে কম গভীর পাত্রে ক্ষুদ্র গাছ পরিচর্যা করার সাথে সাথে চৈনিক ‘পেনজাই’ শব্দের উচ্চারণ পরিবর্তন করে ফেলে।

টোকিওর রাজশিক প্রাসাদে থাকা অনেক পুরানো জীবিত একটি বনসাইকে জাপানের জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যে সকল গাছের বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয়। গাছের কাণ্ড মোটা হয়। বছরে একবার পাতা ঝরে। গাছের বয়স হলে গাছের ছাল মোটা হয়। গাছের ঝুরি নামে এমন গাছ, শিকড় কেটে দিলে ঝুরি গাছের শিকড়ের কাজ করে। গাছ অনেকদিন সতেজ থাকে এবং গাছের বয়স অনুযায়ী বেঁচে থাকে। যেখানে বা যেদেশে বনসাই করা হবে সে স্থানের আবহাওয়া উপযোগী হতে হয়।(বট,বকু্‌ল,শিমুল,পাকুড,তেঁতু্শি‌রিষ,বাবলা,পলাশ ইত্যাদি)

বনসাই বিডি বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত একটি বনসাই নার্সারি আছে। তারা বাংলাদেশের বনসাই প্রজাতির অন্যতম বড় আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী।

অনেক গাছ পছন্দের হলেও বাসায় এনে রাখার উপায় থাকে না। একটা আস্ত বটগাছ বা কৃষ্ণচূড়া বছরের পর বছর বাসার বারান্দায় বা ছাদে রাখার উপায়ও আছে। বড় গাছকে ছোট করে রাখার এই বিশেষ পদ্ধতির নাম বনসাই। কদম, অশ্বত্থ, তেঁতুল, করমচা বা পাকুড়ের মতো গাছও বিশেষ কৌশলে বনসাই করে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন বাসার ভেতরে। আর বিশেষ এই কাজটি দীর্ঘদিন ধরেই করে যাচ্ছেন ঢাকার একদল বনসাই আর্টিস্ট। বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি নামে সংগঠিত হয়ে কাজ করছেন তাঁরা। বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি (বিবিএস)১৯৯৯ সালের মে, বনসাইয়ের জীবন্ত শিল্পের প্রচারের জন্য যাত্রা শুরু করে। বিবিএস-এর উদ্দেশ্য হল এই দেশে বনসাই শিল্পকে উন্নত করা এবং জনপ্রিয় করা।