মাদারীপুরে দু'পক্ষের সংঘর্ষের জেরে সেচপাম্প ভাঙচুর, সেচ কাজ থেকে বঞ্চিত কৃষকরা

প্রকাশ : 2026-03-07 15:19:54১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

মাদারীপুরে দু'পক্ষের সংঘর্ষের জেরে সেচপাম্প ভাঙচুর, সেচ কাজ থেকে বঞ্চিত কৃষকরা

মাদারীপুরে দু'পক্ষের সংঘর্ষের জেরে সেচপাম্প ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় সেচ কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি দু'পক্ষের হামলার জেরে সেচপাম্প ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে । এতে পানির অভাবে অর্ধশত বিঘা জমির বোরো ধানের ক্ষেত নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে দক্ষিণ দুধখালী মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদের সংস্কার কাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আলমগীর মুন্সির সঙ্গে একই এলাকার সিদ্দিক মুন্সি, কামাল মুন্সিসহ কয়েকজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মামলার পর থেকেই আলমগীর মুন্সির লোকজন দক্ষিণ দুধখালী হাওরের প্রায় অর্ধশত বিঘা জমিতে পানি সরবরাহকারী সেচপাম্পটি জোরপূর্বক ভেঙে ফেলে। এরপর থেকে ওই এলাকার কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রচণ্ড খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে ধানের গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর এসব জমিতে অন্তত এক থেকে দেড় হাজার মণ বোরো ধান উৎপাদন হয়। কিন্তু এ বছর সেচের অভাবে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষক নিজাম মুন্সির স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিশ্রম করে অন্যের এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছি। ধানও ভালো হয়েছিল। কিন্তু গত ১২-১৩ দিন ধরে ধানে পানি দিতে না পারায় প্রায় সব ধানই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর কয়েকদিন এভাবে থাকলে কোনো ধানই পাওয়া যাবে না। মামলা-মোকদ্দমা হতে পারে, কিন্তু তাই বলে ধানের পানি কেন বন্ধ করে দেয়া হলো? এতে আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।

একই গ্রামের কৃষক কামাল মুন্সি বলেন, মামলার পর সেচপাম্পটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। অনেক চাষিকে মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রামছাড়া করা হয়েছে, তাই জমিতে আসতেও পারছি না। সেচপাম্প মেরামত করতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। আমাদের জীবিকা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চাই- মামলার বিচার আদালতে হোক, কিন্তু ধানের সেচ যেন বন্ধ না থাকে।

মামলার বাদী আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টি পুলিশ ও আদালত বুঝতে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলা হলেই যে সেচপাম্প বন্ধ করে দেবে, এটা ঠিক না। সেচপাম্প বন্ধের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ধানের যেন ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফসল নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। যে বা যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।