মাদারীপুরের বেকার যুবকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে মৌচাষ

প্রকাশ : 2026-02-21 12:22:53১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

মাদারীপুরের বেকার যুবকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে মৌচাষ

মাদারীপুরের বেকার যুবকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে মধুচাষে। চলতি রবি শষ্য মৌসুমে ধনিয়া,সরিষা,কালিজিরার ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করে নতুন উদ্যেক্তা তৈরি হচ্ছেন বেকার যুবকরা। তারা ভ্রাম্যমাণ মৌ চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পাশাপাশি খাটি মধুর চাহিদা পাচ্ছেন এলাকাবাসী। 

ইব্রাহীম মিয়া কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগরে সরিষা ক্ষেতের পাশে ৩০০টি বাক্স বসিয়ে এ বছর ভ্রাম্যমাণ মধুচাষ করছেন। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৮ লাখ টাকার ব্যবসার আশা করছেন। শুধু ইব্রাহিম মিয়াই নন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা, ধনিয়া ও কালোজিরাসহ রবিশস্যের ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসানো হয়েছে। কম পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই এই পেশায় ঝুঁকছেন। এতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় তারাও সন্তুষ্ট। মৌচাষী খলিলুর রহমান জানান, মাদারীপুর জেলায় বর্তমানে প্রায় ২ শতাধিক ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি রয়েছেন। খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যেকেই এই মৌসুমে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। বছরের ৬ থেকে ৮ মাস মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটান তারা।

মাদারীপুর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ধনিয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৯৬৭ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৭৮ হেক্টর। কালোজিরার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৩৪২ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ২ হাজার ৪৫১ হেক্টর। আর সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার হেক্টর, যা ৫৬০ হেক্টর বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬০ হেক্টরে।

মধু বিক্রেতা সায়ান সৈকত জানান, আমি এসব খামারিদের কাছ থেকে খাটি মধু সংগ্রহ বিভিন্ন এলকায় বিক্রি করে এতে মধু চাষীরাও যেমন লাভবান বা আগ্রহ প্রকাশ করে তেমনি আমি খাটি মধু বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি।মধু ক্রেতা তামিম আদনান জানা, আমি প্রতিবছর ক্ষেত থেকে মধু কিনে খাই। খাটি মধু সারা বছরি বাসায় রাখি।

মধুচাষী মোয়াজ্জেম হোসেন সরদার জানান, চাষির, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা বাড়লে বিদেশে মধু রফতানি করে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষা, ধনিয়া ও কালিজিরার ফলন বেড়েছে, পাশাপাশি উৎপাদিত হচ্ছে খাঁটি মধু। বাড়ির পাশেই ভালো মানের মধু পাওয়ায় ক্রেতারাও খুশি এবং কিনতে ভিড় করছেন। মৌচাষি রাতিন ইসলাম জানান, ছয় মাসের আয় দিয়েই সারা বছরের সংসার চালাই। প্রতিবছর খরচ বাদে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা লাভ হয়। খামারে চারজন কাজ করেন।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের  উপপরিচালক ড. রহিমা খাতুন জানান, ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সবসময় তাদের পাশে আছে। আগে অনেক প্রান্তিক চাষির ধারণা ছিল মৌমাছি চাষ করলে ফসলের ক্ষতি হয়। কৃষি বিভাগ সেই ভুল ধারণা দূর করেছে। পাশাপাশি মৌচাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।