মাটিবাহী ট্রলি চলাচলে বাধা, সড়কে গাছ ফেলে ভাটা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশ : 2025-02-26 10:08:00১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

মাটিবাহী ট্রলি চলাচলে বাধা, সড়কে গাছ ফেলে ভাটা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

লক্ষ্মীপুরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইটভাটা শ্রমিকরা। ইটভাটার মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচলে এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার করাতিরহাট সড়কের সবুজের গোজা এলাকায় তারা এ বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয়রা জানান, কাদিরাগোজা-করাতিরহাট সড়কের আশপাশে কয়েকটি ইটভাটা রয়েছে৷ এসব ভাটায় আশপাশের ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরি করা হয়। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একাধিকবার জরিমানা করলেও বন্ধ করেনি। ভাটাগুলোতে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে ট্রলি মাধ্যমে। এসব ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে এসব ঘটনায় স্থানীয়দের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করার জন্য পরামর্শ দেয়।

পরবর্তীতে চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও একই ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আলী হোসেন সরকারসহ স্থানীয় লোকজন ট্রলি চলাচলে বাধা দেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মো. হৃদয় নামে এক চালক বাধা দানকারীদের ট্রলি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা হৃদয়কে মারধর করে। তবে মারধরের সময় আলী ঘটনাস্থল ছিলেন না।

চালক হৃদয় মেসার্স ইকবাল ব্রিকস কাজ করেন। চালককে মারধরের ঘটনায় ভাটা মালিক কামাল উদ্দিন ইকবাল বিএনপি নেতা আলীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের দিয়ে বিক্ষোভ করান বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা গাছের গুঁড়ি ফেলে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়ক থেকে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আলী হোসেন বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানা অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করতে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য স্থানীয় লোকজন ট্রাক্টর বন্ধ করতে বলেছেন। ট্রাক্টরচালক লোকজনকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা চালককে মারধর করেন। পরে ভাটা মালিক ইকবাল তার শ্রমিকদের দিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে রাখেন। আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ইটভাটা মালিক কামাল উদ্দিন ইকবাল বলেন, বিএনপি নেতা অযথা ট্রাক্টর চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। তাকে যদি ইউএনও নির্দেশ দেন তিনি আমাদের নিয়ে বসতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে লোকজন দিয়ে ট্রাক্টর চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। কারণ জানতে চাইলে একজন চালককে আমার ভাটার সামনেই দুই দফা মারধর করা হয়৷ এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি সরাসরি আমার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেননি। বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় আমি জড়িত নই।

এ বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কা/আ