ফেনীতে মাসুদ উদ্দিন, নিজাম হাজারী ও আলা উদ্দিনসহ ৩৫১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশ : 2024-08-21 16:13:44১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

ফেনীতে মাসুদ উদ্দিন, নিজাম হাজারী ও আলা উদ্দিনসহ ৩৫১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়গুলিতে শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমদ শিহাব নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রধান করে ফেনী-১ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য আলা উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়লস্কর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলনসহ ১৫১ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে ফেনীতে ছয়টি হত্যা মামলায় করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) নিহত শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমদ শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে ১৫১ জনকে আসামি করে আরও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।নিহত ওয়াকিল আহমদ শিহাব ফেনী সদর উপজেলার দক্ষিণ কাশিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। নিহত সিহাব জায়লস্কর স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

মাহফুজা আক্তার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নীচে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আসামিদের অতর্কিত ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিতে মহিপাল প্লাজার সামনে সিহাব গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠিসোটা, লোহার রড়, রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে আমার ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মহিপালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচীতে গনহত্যা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ১ ও ২ নম্বর আসামির নির্দেশে বাকি আসামিরা ফেনী পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে তাদের সঙ্গে থাকা একাধিক ট্রাভেলিং ব্যাগ থেকে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র তাদের হাতে প্রকাশ্যে তুলে দেন এবং আসামিদেরকে মহিপালে অবস্থানরত নিরস্ত্র ছাত্রজনতার ওপর সশস্ত্র হামলার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহতের ঘটনায় করা পৃথক মামলায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করিম উল্লাহ বিকম ওরফে রেন্সু করিম, যুবলীগ নেতা জিয়া উদ্দিন বাবলু প্রমুখ।

গত ৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। একই সময়ে শহরের ট্রাংক রোডে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টার দিকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহিপাল ফ্লাইওভারের দিকে এগোতে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় মুহুর্মুহু গুলি, ককটেল বিস্ফোরণে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত থেমে থেমে সেখানে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মহিপালের পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও ইটপাটকেলের আঘাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। এ ঘটনায় ফেনীতে এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।