নির্বাচনী হাওয়া - পঞ্চগড়- ১
প্রকাশ : 2025-08-04 11:56:23১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
নির্বাচনী হাওয়া - পঞ্চগড়- ১
বিএনপিত ঐক্যের বন্ধন জরুরী
মোঃ কামরুল ইসলাম কামু প্রতিনিধি পঞ্চগড় \
রাজনীতিতে টানাপোড়েন আর অস্থিরতা বাড়লে ও নির্বাচনী তফশিল ঘোষনার অপেক্ষায় বর্তমান বড় দল বিএনপি। বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়-১ আসনে ভোটের হিসাব নিকাশ এখন তৃনমূলে। সাধারন জনগনের বিশ্লেষন বিএনপিতে ঐক্যের বিকল্প নেই। বিগত ১/১১ এ তত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন করার পর বিএনপির কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে যায়
পঞ্চগড়- ১ আসনটি।
এরপর চলে যায় দেড় দশক। সময়ের সাথে নানা ইস্যুতে রাজনীতিতে তৈরী হয় বৈরিতা। জাতীয় রাজনীতি থেকে বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা সহ তৃনমূলে এক অভাবনীয় দৈন্যতা সৃষ্টি হয়। রাজপথের আন্দোলন থেকে সর্বস্তরে এক সঙ্কটময় পরিস্থিতি বিরাজ করে। বিগত দেড় দশক অগ্নিপরীক্ষার মুখে দিন কাটাতে থাকে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও সর্মথকরা। ১/১১ এ রাজনৈতিক পট পরিবর্তন পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির ঐক্য অটুট থাকলে ও প্রতিপক্ষের নানা কারিশমায় তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিভীষিকায় পরিস্থিতির মূখে পড়ে। সে কারনে সরকার গঠনে বঞ্চিত হয়ে পড়ে বিএনপি।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরেই বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত
আসনটিতে বিএনপির নেতাকর্মী ও সর্মথকরা হতাশ হয়ে পড়েন। নানা আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিলেও দমন নীতির দাপটে পড়ে তারা ঘরমূখী কেউবা নিজেকে গুটিয়ে রাখেন।
দেশের রাজনীতির অঙ্গনে উত্তরের শেষ জেলা এক অত্যন্ত সম্ভবনাময় পঞ্চগড়। শিল্পাঞ্চল গড়ে না ওঠলে ও পঞ্চগড়-১ আসনটি সংসদীয় আসন হিসেবে বেশ গুরুত্ব বহন করে। এখানে রয়েছে বাংলাবান্ধাস্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন সুবিধা। রয়েছে চা শিল্প পাথর বালুর ব্যবসা। পঞ্চগড়ে জেলায় স্বগৌরব হিসেবে তার পরিচিতি যুগ-যুগান্তরে। এখানে জন্ম হয়েছে দেশ বরেন্য ও বর্ষীয়ান নেতা সাবেক আইন ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ। এছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্পিকার , শিক্ষামন্ত্রী জেলার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দেশ বরেণ্য
প্রবীণ নেতা এবং অস্থায়ী রাস্ট্রপতি ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দীন সরকার। পাকিস্তান শাসন ব্যবস্থার অবসান হওয়া পরের ধাপে ছিলেন গমির উদ্দীন প্রধান ও কমির উদ্দীন মুক্তার। তাদের নাম, এখনো প্রবীনদের মূখে শোনা যায়। রাজনৈতিক হালচালের মাঝে ২০১৪ সালে পঞ্চগড়-১ আসনে জাসদের প্রার্থী নাজমুল হক প্রধান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারো এ আসনটিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের প্রার্থী মজহারুল হক প্রধান। এরপর আওয়ামীলীগ সরকারের সর্বশেষ ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। নাজমুল হক প্রধান যেহেতু একজন সাবেক সংসদ সদস্য বাড়ী পঞ্চগড় শহরের পাশে। তারও ভোট রয়েছে। এখন সময় দিচ্ছেন নিজ এলাকায়। ২০০৮ সাল থেকে বিএনপি রাজনৈতিক দমন নিপীড়নের কৌশলে পঞ্চগড়- ১ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। বর্তমান পট পরিবর্তনে রাজনীতির মাঠে বিএনপি বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এছাড়া নানা প্রতিকূলতার কারনে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দল গোছানোসহ রাজনীতির মাঠে সরব ছিল না। ছিলনা অন্যান্য ইসলামী ও দলগুলো। তবে এদের কয়েকটি দল সামাজিক আন্দোলনে কিছুটা ভূমিকা রেখেছিল। তবে এখন তারাও রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেছে। তারা ইতিবাচক রাজনীতির পথে হাটছে। এছাড়া অন্যান্য দলের মনোয়ন প্রত্যাশীরাও তাদের মাঠ গোছাতে সচেষ্ট আছেন।
এদিকে বড় দল হিসেবে বিএনপি জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যন্ত নানা প্রত্যাশা নিয়ে রাজনীতিতে বেশ সরব হয়ে উঠেছে। তৃনমূল নেতাকর্মীরা বেশ ইতিবাচক সাড়া পেতে দলের নানা কর্মসূচী গুলো পালন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে নারী ভোটারের পাশাপাশি তরুণদের ভোট বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি নির্বাচনে না থাকলে আওয়ামী লীগের ভোটারদেরও একটা ভূমিকা থাকতে পারে সামনের নির্বাচনে। বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অস্থায়ী রাস্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকারের পুত্রকেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির পঞ্চগড় -১ আসনের জাতীয় নির্বাচনে একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন ঘোষনা না আসলেও তিনি এ আসনে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন নেতাকর্মী সর্মথক সাধারন ভোটারদের অনেকে। তিনি তার পিতার গ্রহনযোগ্যতায় এখন এ আসনের কর্নধার। তিনি রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ও মাঝে মাঝে এলাকায় এসেছেন। চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর তিনি প্রায় মাসেই পঞ্চগড়ে
আসেন। দলের নানা কর্মসূচী সহ দলের সাংগঠনিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করেছেন। নওশাদ জমির ইতোমধ্যে পঞ্চগড় সদর তেতুঁলিয়া ও আটোয়ারী (পঞ্চগড়-১ আসন) উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাধারন মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনছেন। এছাড়া দলীয় সভা মতবিনিময়
গুলোতে তিনি উপস্থিত থেকে দলের ইতিবাচক দিকনির্দেনা দিয়ে যাচ্ছেন। পঞ্চগড় সদর, তেতুঁলিয়া, আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম ও পাড়া- মহল্লায় গিয়ে সাধারন মানুষের মনোভাব জানতে চাওয়া হলে তারা নাম না বলার শর্তে বলেন ‘এখন দরকার বিএনপির ঐক্য।’ যেহেতু তারা অনেক দিন ধরে সরকার গঠন করতে পারেনি ‘এসুযোগ এখন তাদের হাতে।’ তবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ চব্বিশের পরে এখন মাঠ-ময়দানে সরব অবস্থান নিয়েছে। কিছুদিন আগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর পঞ্চগড়ে জনসভা করেছেন। রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বিএনপির পাশপাশি পঞ্চগড়-১ আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান, জাগপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শফিউল আলম প্রধান এর পূত্র জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এছাড়া
জাপা নির্বাচনে অংশ নিলে জেলা জাপার সাধারন সম্পাদক আবু সালেক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে নির্বাচন করবেন এনসিপি। সারজিস আলমের বাড়ী পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে। কিছুদিন আগে পঞ্চগড় জেলা শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে জনভসভা করেন। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে পরির্বতনের কথা বলেন। তবে তিনি শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে নিজ এলাকায় ব্যাপক শোডাউন করেন। গাড়িবহরের শোডাউন করায় রাজনীতির মাঠে বেশ আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। পাশাপাশি জাগপার মুখপাত্র মরহুম শফিউল আলম প্রধানের পুত্র রাশেদ প্রধান ও তার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়ন ও পাড়া মহল্লায় গিয়ে গনসংযোগ করছেন।এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ,জাকের পার্টির আনিছুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মাহাফুজার রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের সাজেদার রহমান সাজু। পঞ্চগড়-১ আসনে গত বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৬। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৯ ও নারী ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৬ জন। তবে হালনাগাদে পঞ্চগড়-১ আসনে ভোটার বেড়েছে ১৬ হাজার ৩৪৭জন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপি জোটভূক্ত না হয়ে একক প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের উপড় আস্থা জেলার সকল নেতাকর্মীদের মাঝে। তার পিতার রাজনৈতিক আদর্শে তিনি তার উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপিতে গ্রহযোগ্যতা পেয়েছেন এটাই দলের সকল মহলে আলোচিত। পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি তাকেই যোগ্যতার অনুসারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে মরিয়া। এছাড়া নওশাদ জমির ইতোমধ্যে একজন সৎ নেতা হিসেবে সর্বজন বিদিত হয়ে উঠেছেন। দল ও এ আসনের সাধারন মানুষ মনে করে দলের ঐক্য অটুট থাকলে বিএনপি আবার সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নওশাদ জমির হবেন তার পিতার মতোই যোগ্য নেতা। এতে দেশের রাজনীতির অঙ্গনে এক নজির তৈরি হতে পারে। তবে এ আসনে অন্যান্য দলের শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির অন্যতম। তবে জানা যায়, বিএনপির অনেকে মনোনয়ন চাইবেন এমনটা জানা গেছে। রাজনীতির কৌশলে তারা এখন মুখ খুলছেন না।