কাউনিয়ায় মাল্টিভিটামিন সজিনা গাছ রোপনে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ নেই
প্রকাশ : 2026-04-04 17:50:34১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
রংপুরের কাউনিয়ায় ভেষজগুন সমৃদ্ধ মাল্টিভিটামিন সজিনা বৃক্ষ গুলো সংরক্ষনে কৃষি বিভাগের কোন উদ্যোগ নেই। সেই সাথে নেই নতুন করে সজিনা বৃক্ষ রোপনেরও কোন উদ্যোগ। রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের রাজেন্দ্র বাজার থেকে তিস্তা সড়ক সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫০টি সজিনা গাছ পরিচর্যা ও সংরক্ষনের দাবী এলাকবাসীর।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে আগে হাটে বাজারে সজিনা তেমন বিক্রি হত না। তাই এ সবজি চাষে কৃষক তেমন উৎসাহী ছিল না। সাইখ সিরাজ সজিনা পাতা ও সজিনার উপকারিতা নিয়ে অনুষ্ঠান করার পর থেকে মানুষের মাঝে ব্যাপক সারা ফেলেছে। তাই বর্তমানে হাট বাজার গুলোতে সজিনার ব্যাপক চাহিদা ও কদর থাকায় অনেক কৃষক বাণিজ্যিক ভাবে সজিনা চাষে উৎসাহী হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো কাউনিয়া কৃষি বিভাগ মাল্টিভিটামিন সজিনা বৃক্ষ রোপনে আজপর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। এ অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠা সবজি সজনা চাষিরা নিজ উদ্যোগে বাড়ির উঠানে, রাস্তার ধারে চাষ শুরু করেছেন। বিগত সময়ে সজিনার তেমন কদর না থাকলেও বর্তমানে শোসাল মিডিয়ায় এর উপকারীতা প্রচারের ফলে ব্যাপক হারে এর কদর বেড়েছে। কাউনিয়া মাছ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী খলিল এবং মীরবাগ বাজারের ফরহাদ জানান বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি সজিনা ৭০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে সজিনার সাথে মসুর ডালের তরকারী খুবই জনপ্রিয়। কেউ আলু ও মাছের সাথে সজিনার ঝোল, কেউবা করলার সাথে সজিনা খেতে পছন্দ করায় এখন প্রায় বাড়ীতে এর চাহিদা বেড়েছে। সজিনা একটি অতি পরিচিত দামি এবং সুস্বাদু সবজি। সজিনার উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ হলেও এ গাছ শীত প্রধান দেশ ব্যতীত সারা পৃথিবীতেই জন্মে। বারোমাসি সজিনার জাত প্রায় সারা বছরই বার বার ফলন দেয়। বসতবাড়িতে সজিনা একটি আদর্শ সবজি গাছ। হারাগাছের সজিনা চাষি লালমিয়া জানান, সজিনা গাছ লাগাতে কোন কারুকাজ নেই। শুধু ডাল কেটে লাগালেই গাছ হয় এবং প্রতি গাছে প্রকার ভেদে ২-৩ মন পর্যন্ত সজিনা হয়। নাজিরদহ গ্রামের আবু বকর জানান তার ৩টি গাছ থেকে এপর্যন্ত ২মন সজিনা পেয়েছে। নিজে খেয়ে আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েও ৫হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। নিজপাড়া গ্রামের আঃ রাজ্জাক জানান, রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের সজিনা গাছ গুলো পরিচর্যা ও সংরক্ষন করা গেলে প্রচুর সজিনা পাওয়া সম্ভব। কাউনিয়া কৃষি বিভাগ থেকে এই গাছ রোপনে কোন পদক্ষেপ নেই। বিজ্ঞানীরা পুষ্টির দিক দিয়ে সজিনাকে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ আখ্যায়িত করে বলেন এ গাছটি থেকে পুষ্টি, ঔষধিগুণ ও সারা বছর ফলন পাওয়া যায় বিধায় বাড়ির আঙ্গিনায় এটি একটি মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন সজিনার পাতা পুষ্টিগুণের আঁধার। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সজিনা বাজারে প্রচুর পাওয়া যায়। আগাম সজিনা বাজারে নিতে পারলে আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবান হওয়া যায়। কৃষি বিভাগ সঠিক প্রচারনা চালালে সজিনা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠতো এবং এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করে কৃষি অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, সজিনা চাষে কৃষদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।