এনআইডি কর্তৃপক্ষ গঠন হবে না, মোবাইল আমদানিতে করছাড়
প্রকাশ : 2026-01-02 09:56:32১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
এনআইডির জন্য সরকারের আলাদা কোনো কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ডেটা অথরিটি গঠনের প্রস্তাব এবং এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংক্রান্ত আলাদা কর্তৃপক্ষ তৈরির অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন আমদানিতে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।শফিকুল আলম বলেন, কিছুদিন আগে ন্যাশনাল ডেটা অথরিটি গঠনের একটি প্রস্তাব এসেছিল। বিশ্বের অনেক দেশে ডেটা ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এনআইডির দায়িত্ব এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে।
সামনে নির্বাচন থাকায় এই সময় এনআইডি ব্যবস্থাপনায় কোনো পরিবর্তন বা নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করা হয়েছে। নির্বাচনপ্রক্রিয়া যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং প্রস্তুতি মসৃণ থাকে, সে কারণেই আলাদা কর্তৃপক্ষের অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তিনি জানান, মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে কর কমানো হচ্ছে। আগে আমদানিতে মোট করের হার ছিল ৬১.৮০ শতাংশ, যা এখন কমে ৪৩.৪৩ শতাংশ হবে।
অন্যদিকে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীদের জন্য আগে করের হার ছিল ১৭ শতাংশ, যার মধ্যে ১০ শতাংশ ছিল কাস্টমস ডিউটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিদেশ থেকে আনা হয়। সেগুলো সামান্য মেরামত বা নতুন করে সাজিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হন এবং সরকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকবিরোধী যুগান্তকারী অধ্যাদেশ : জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এই উদ্যোগকে সরকারের একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, নতুন অধ্যাদেশে তামাকের ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না।
তামাকজাত পণ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তাও আরো বড় করা হয়েছে। আগে যেখানে প্যাকেটের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সতর্কবার্তা থাকত, এখন তা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং এটি রঙিন সচিত্র হতে হবে। পাশাপাশি পাবলিক প্লেসে ধূমপানের সংজ্ঞা ও পরিধি আরো স্পষ্ট ও বিস্তৃত করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে বেশি সুরক্ষা পায়। আইন ভঙ্গকারীদের জন্য শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। জরিমানা ও কারাদণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিদের লাইসেন্স বাতিল ও তামাকজাত পণ্য জব্দের ক্ষমতা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো তামাকজাত পণ্য বাজারে এলে, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সেটিকেও এই আইনের আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন বছরের প্রথম দিন ৮৩% শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই : নতুন বছরের প্রথম দিন সারা দেশে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে মোট চাহিদার ৮৩ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, সরকার এবার অনেক আগেই সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এর ফলেই প্রথম দিনই বড় সাফল্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য প্রস্তুতকৃত বই শতভাগ বিতরণ করা হয়েছে। ইবতেদায়ি মাদরাসার ৯৫ শতাংশ, নবম-দশম শ্রেণির ৮৬ শতাংশ, ষষ্ঠ শ্রেণির ৮২ শতাংশ এবং ব্রেইল পদ্ধতির ৭৭ শতাংশ বই নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছেছে। সপ্তম শ্রেণির ৬৩ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ৫২ শতাংশ বইও প্রথম দিন বিতরণ করা হয়।
তিনি জানান, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কিছু পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতিতে সময় বেশি লাগায় প্রথম দিন সব বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গত ২৮ ডিসেম্বর সব পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ কপি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যাবে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে মার্চের আগে কখনোই শতভাগ বই বিতরণ সম্ভব হয়নি, তবে এবার সরকার ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই সেই লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী।
রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা আট শহীদের পরিচয় শনাক্ত : জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ হয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা ১১৮টি মরদেহের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আটজনের পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রেস সচিব বলেন, শনাক্ত হওয়া শহীদদের পরিবারকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় শিগগিরই বিস্তারিত প্রকাশ করবে।
টেকনিক্যাল কারণে পদত্যাগ ও পুনর্নিয়োগ : প্রেস সচিব : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের পদত্যাগ এবং এক দিনের ব্যবধানে পুনরায় নিয়োগ—এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি ছিল কেবল একটি টেকনিক্যাল প্রক্রিয়ার অংশ।
প্রেস সচিব বলেন, ডা. সায়েদুর রহমানের প্রথম নিয়োগটি ছিল লিয়েনের ভিত্তিতে। তিনি তখন নিজ কর্মস্থলে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে লিয়েন নিয়ে বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তাঁর নিয়মিত চাকরির অবসর গ্রহণের সময় এসে পড়েছে।
শফিকুল আলম জানান, নিয়ম অনুযায়ী লিয়েনে থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় না। এ কারণে ডা. সায়েদুর রহমানকে প্রথমে বিশেষ সহকারীর পদ থেকে পদত্যাগ করে আগের কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়। সেখানে গিয়ে অবসরসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর তাঁকে আবার নতুন করে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।