ঈদের পর ভিন্ন চিত্র বাজারে, অর্ধেক কমেছে লেবু-শসার দাম
প্রকাশ : 2026-03-23 11:32:21১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানীর সড়ক। একই চিত্র বাজারেও। কোনো ভিড় নেই, কমে গেছে নানা পণ্যের দাম। ‘ফাঁকা ঢাকার’ এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কাঁচাবাজারে। এর মধ্যে শসার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এখন কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা। লেবুর দামও বেশ কমেছে। অথচ ঈদের আগের দিনও লেবু–শসার দাম চড়া ছিল।
ঈদের পর দুই দিনের ব্যবধানে গরু মাংস ও মুরগির দামও কমেছে। অন্যদিকে মাছের বাজারে নেই ক্রেতার ভিড়। যদিও দাম তেমন কমেনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ঈদে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। তবে এখনো নতুন পণ্যের সরবরাহ আসেনি। আরও দু–তিন লাগবে নতুন চালানের পণ্য আসতে। মজুতের পুরোনো পণ্য শেষ করার জন্য অনেকেই দাম কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বাজারে ক্রেতা না থাকায় চাহিদাও কম।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। তবে মাংসের দোকানে ও কাঁচাবাজারে দোকানগুলোতে তুলনামূলক বেশি বেচাকেনা হচ্ছে।
বাজারে রোজার শুরু থেকেই চড়া ছিল লেবু ও শসার দাম। ঈদ শেষে গতকাল রোববার প্রথম দিনেই লেবু–শসার দাম কমতে শুরু করেছে। শসা ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগের দিনও যা বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৬০-১০০ টাকায়। আর প্রতি হালি লেবু আকারভেদে ৫০-১০০ টাকা হালি। ঈদের আগে যা ছিল ৮০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বেগুন ২০-৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচ, টমেটো, গাজরসহ বেশ কিছু সবজি দাম আগের মতোই রয়েছে।
ঈদের দিনে মাংসের চাহিদা বাড়ে। অন্যদিকে কমে যায় মাছের চাহিদা। তবে কিছু মাছের চাহিদা থাকে। এর মধ্যে বেশি কদর থাকে ইলিশ ও চিংড়ি মাছের। ঈদে এই দুই ধরনের মাছের কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে ইলিশের দাম কমেছে।
ঈদের দুই দিন আগে টাউন হল বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশ প্রতিটি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে এক কেজি বা তার কমবেশি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। এখন সেই ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর ৪০০ গ্রামের ওপরের ওজনের ইলিশের প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা।
তবে চিংড়ির দাম কমেনি। ঈদের আগে গলদা চিংড়ি আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। এখনো একই দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে বাজারে সব ধরনের মাছের সরবরাহ কম। বেশির ভাগ মাছ আগের দাম বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের আগের কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৭৫০-৮৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০০-৭৫০ টাকা। ঈদের পরদিন মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। সরেজমিনে রাজধানীর তিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৮০ টাকা কেজিতে।
তবে মুরগির দাম তেমন কমেনি। এখনো বেশির ভাগ বাজারে ঈদের আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৭০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ২১০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। আর দেশি মুরগির দামও কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকা কেজিতে।