৩০ বছর পর আদালতের নির্দেশে উদ্ধার হলো মরহুম শিক্ষক জহিরুল হকের ৬ শতাংশ জমি

প্রকাশ : 2026-05-16 14:43:41১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

৩০ বছর পর আদালতের নির্দেশে উদ্ধার হলো মরহুম শিক্ষক জহিরুল হকের ৬ শতাংশ জমি

দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর আদালতের নির্দেশে উদ্ধার করা হয়েছে বরগুনার সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মরহুম জহিরুল হকের ৬ শতাংশ জমি। শনিবার সকালে বরগুনা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের নির্দেশনায় জেলা জজ কোর্টের নাজির মো. সাইফুজ্জামানের নেতৃত্বে এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ১৪ সদস্যের একটি পুলিশ টিম অংশ নেয়। এসময় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে জহিরুল হকের বড় ছেলে মোজাহারুল ইসলাম আজাদ নামমাত্র ভাড়ায় জমিটি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আব্দুর রশিদের ছেলে আবুল হাসেমের কাছে ভাড়া দেন। শুরুতে কয়েক মাস ভাড়া প্রদান করলেও পরে তিনি ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে জমিটি দখলের চেষ্টা চালান আবুল হাসেম।

বাদীপক্ষ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে ২০১৭ সালে বরগুনা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-৩৫৬/২০১৭ দায়ের করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষ ছিলেন মরহুম জহিরুল হকের সন্তানরা— মোজাহারুল ইসলাম আজাদ, এনামুল হক, মোজাম্মেল হক, মমতাজুল হক, নাজমুল হক ও জায়েদা বেগম। মামলার একমাত্র বিবাদী ছিলেন আবুল হাসেম।

বাদীপক্ষের সদস্য এনামুল হক বলেন, “দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমাদের রেকর্ডভুক্ত জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল। প্রথম দিকে কয়েক মাস ভাড়া দিলেও পরে প্রভাবশালীদের মদদে পুরো জায়গি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এমনকি জায়গিটি বিক্রির চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে শুনেছি। অবশেষে আদালতের রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান বলেন, “সকল তথ্য-প্রমাণে বাদীপক্ষের মালিকানা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত উচ্ছেদের রায় দিয়েছেন। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”