সিংড়ায় কৃষকের ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’: এক রাতেই পৃথক স্থানে ৭ ট্রান্সফরমার চুরি

প্রকাশ : 2026-04-19 16:17:33১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

সিংড়ায় কৃষকের ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’: এক রাতেই পৃথক স্থানে ৭ ট্রান্সফরমার চুরি

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কৃষকের মরণদশা তৈরি হয়েছে। একদিকে তীব্র লোডশেডিং, অন্যদিকে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের উপদ্রব সব মিলিয়ে যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সেচ পাম্পের ৭টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুইশ বিঘা জমির আধাপাকা ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের শহরবাড়ি গ্রামের উত্তর মাঠ থেকে একযোগে ৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর মধ্যে চারটি ৫-কেভি (5KV) এবং একটি ১০-কেভি (10KV) ট্রান্সফরমার রয়েছে। এই চুরির ফলে ওই মাঠের প্রায় ১৫০ বিঘা জমির সেচ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হলেন, উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের শহর বাড়ি গ্রামের আলহাজ্ব মো. এবারদ আলী প্রামাণিক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন, সাইদুর রহমান, মনিরুজ্জামান, লুৎফর রহমান ও আব্দুর রউফ।

এদিকে একই রাতে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের রানিনগর-তেলিগ্রাম বিল থেকেও ২টি ট্রান্সফরমার চুরির খবর পাওয়া গেছে। সেখান থেকে কৃষক আব্বাস আলীর একটি ১০-কেভি এবং গোলাম মোস্তফার একটি ৫-কেভি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় চক্রটি। এতে ওই বিলের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এক রাতেই কৃষকদের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, বর্তমানে ধান পাকার আগ মুহূর্তে জমিতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। এই সময়ে সেচ দিতে না পারলে ধানের শীষ শুকিয়ে ‘চিটা’ হয়ে যাবে এবং ফসল পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বোরো মৌসুমের শেষ দিকে এসে নতুন করে ঋণ করে এত টাকা দিয়ে পুনরায় ট্রান্সফরমার কেনা ক্ষুদ্র ও নিম্ন আয়ের কৃষকদের পক্ষে অসম্ভব। লোডশেডিংয়ের কারণে আগে থেকেই সেচ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের এখন চুরির ঘটনায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলায় নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটায় কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা অতি দ্রুত প্রতিটি এলাকায় প্রশাসনিক টহল বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই চোর চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং কৃষি উৎপাদন রক্ষায় সেচ পাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।