সিংড়ায় বড় ভাইয়ের পক্ষ নেওয়ায় মাকে গলা টিপে হত্যা, মরদেহ বস্তাবন্দী করে টয়লেটে লুকিয়ে রাখে ছেলে

প্রকাশ : 2026-06-10 18:47:07১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

সিংড়ায় বড় ভাইয়ের পক্ষ নেওয়ায় মাকে গলা টিপে হত্যা, মরদেহ বস্তাবন্দী করে টয়লেটে লুকিয়ে রাখে ছেলে

নাটোরের সিংড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ছেলের পক্ষ নেওয়ায় ৭৫ বছর বয়সী মা মারিয়া বেগমকে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে টয়লেটে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে ছেলে জনাব আলী (৫৫) ও তার ছেলে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টায় সিংড়া থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা বেগমের দুই ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় একপর্যায়ে বাড়ির সীমানায় পায়খানা (টয়লেট) নির্মাণ করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে মারিয়া বেগম যৌক্তিক কারণে বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষ নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে জনাব আলী।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, বিরোধের পরে ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে জনাব আলী তার মায়ের গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হয়। কয়েকদিন পর মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে নিজের ছেলে আল আমিনের সহযোগিতায় মরদেহ বস্তাবন্দী করে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন।

এর আগে গত ৬ জুন নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম মায়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৯ জুন উপজেলার আগপাড়া এলাকা থেকে ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মারিয়া বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের ছেলে জনাব আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানান পুলিশ সুপার। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছেলে আল আমিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক আরো বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তদন্তে ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে সিংড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।