সিংড়ায় কুলখানির অনুষ্ঠানে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর যুবককে পুলিশে সোপর্দ

প্রকাশ : 2026-05-21 11:09:14১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

সিংড়ায় কুলখানির অনুষ্ঠানে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর যুবককে পুলিশে সোপর্দ

নাটোরের সিংড়ায় কুলখানির অনুষ্ঠান চলাকালে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টাকালে নাঈম হোসেন (২২) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ের শিকার ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে উপজেলার চামারী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের বেলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক নাঈম হোসেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মহিষমারী গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। ওই অনুষ্ঠানে আসা বেলতলা গ্রামের ইকলাস হোসেন নামের এক ব্যক্তির ১৫০ সিসির একটি এফজেডএস (FZS) মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা চালায় দুই যুবক। প্রথমে স্থানীয় মহিষমারী গ্রামের হান্নান আলীর ছেলে সোহেল মোটরসাইকেলটির তালা ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে নাঈম হোসেন তালা ভাঙতে গেলে বিষয়টি মোটরসাইকেল মালিক ও স্থানীয় যুবকদের নজরে আসে। চুরির বিষয়টি টের পেয়ে সোহেল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা নাঈমকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে গণধোলাই দেয়।

মোটরসাইকেলের মালিক ইকলাস হোসেন বলেন, আমার মোটরসাইকেলের তালা ভাঙতে দেখে সন্দেহ হলে আমরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চুরির কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সোহেলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সোহেলের বাবা হান্নান আলী ও তার মায়ের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর হাত থেকে অভিযুক্ত নাঈম হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় একটি চুরি মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।