সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

প্রকাশ : 2026-02-26 13:01:19১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

 

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে নতুন করে শুরু হয়েছে ওভার ব্রীজের (পদচারি সেতু) নির্মাণ কাজ। ১৮৭৮ সালে সান্তাহার জংশন ষ্টেশন নির্মাণ হওয়ার পর গত বছর ষ্টেশনের ব্রডগ্রেজ লাইনের ওভারব্রীজটি ভেঙে নতুন করে ওভারব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রজলীন কনন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ওভারব্রীজ নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। ওভারব্রীজের নির্মাণ কাজ ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রাতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে পারেননি। ওভারব্রীজ নির্মাণ কাজরে ধীর গতি হওয়ায় ষ্টেশনে আগত ট্রেন যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রেলওয়ে ব্রীজ সেকশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণ ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন করে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থ ছাড় না হওয়ার কারনে ঠিকাদার তার নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না বলে ওই বিভাগ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এদিকে ওভারব্রীজের কাজ শেষ না হওয়ায় ট্রেন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে রেললাইনের মধ্যে দিয়ে ঝুকিঁ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

পাকশী বিভাগের রেলওয়ে ব্রীজ সেকশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওভারব্রীজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গত বছরের প্রথম দিকে ওভার ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। রজলীন কনন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ওভারব্রীজ নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। শুরুতে ওভারব্রীজের নির্মাণ কাজে গতি থাকলেও বর্তমানে ঢিলেতালে চলছে এর নির্মাণ কাজ। স্বল্প সংখ্যক নির্মাণ শ্রমিককে ব্রীজের নির্মাণ কাজ করতে দেখা গেছে। এদিকে ওভারব্রীজটি সময় মত নির্মিত না হওয়ায় ট্রেন যাত্রীদের রেললাইনের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন সান্তাহার জংশন ষ্টেশনের ওপর দিয়ে প্রায় ৪২টি ট্রেন চলাচল করে। এই সমস্ত ট্রেনের যাত্রীরা আগে ওভারব্রীজ ব্যবহার করতো কিন্তু বর্তমানে ওভার ব্রীজ না থাকায় সকল যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

গত সোমবার সান্তাহার জংশন ষ্টেশনের ৩ নম্বর প্লাটফর্মে দেখা হয় ট্রেন যাত্রী নওগাঁ শহরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, তাঁর বৃদ্ধ বাবা কে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমেছেন। ওভারব্রীজ না থাকায় অনেক কষ্টে রেললাইনের মধ্যে দিয়ে ষ্টেশন এলাকা পার হয়েছি। কাজের অগ্রগতির বিষয়টি জানার জন্য সোমবার দুপুরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কার্যালয়ে গেলে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। এ বিষয়ে রেলওয়ে পাকশী বিভাগের উর্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী হাসান আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি, কাজের সময় বর্ধিত করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ফান্ডের কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারছেন না। এপর্যন্ত যে সকল কাজ হয়েছে তা ঠিকাদারের নিজস্ব তহবিল থেকে করেছেন একটি বিলও পাননি। তবে কাজটি দ্রæত শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কা/আ