সমন্বয়কের বিরুদ্ধে পিকনিকের নামে চাঁদা দাবী অডিও ভাইরাল
প্রকাশ : 2025-01-24 11:16:04১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা খালিদ মাহমুদ সৈকতের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দুই মিনিট ৭৪ সেকেন্ডের ওই ফোনালাপে তাকে বিকাশ নামে এক ব্যক্তির কাছে পিকনিকের জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতে শোনা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার চাঁদা দাবির কল রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে খালিদ মাহমুদ সৈকতকে বলতে শোনা যায়, আমি উনাদের সাথে কথা বলেছি, আপনার বিষয়ে সব জানিয়েছি। এখন ওনারা বলতেছে থার্টি ফার্স্ট নাইটের পিকনিকে একটা পার্টি দিতে হবে।
বিকাশ রায় জিজ্ঞেস করেন, কীরকম সেটা, কত দিতে হবে? উত্তরে সৈকত বলেন, কত, বিশ হাজার হইলে হবে। বিকাশ রায় প্রতি উত্তরে বলেন, আচ্ছা ভাই আমি তো বললাম ই আমার তো ঐরকম সামর্থ্যই নাই। এরপর সৈকতকে বলতে শোনা যায়, আমি আপনার পক্ষ নিয়েই কথা বলেছি। আমি প্রথমে কী বলেছি আর এখন কত বললাম। আমি নিজেই এখন নমনীয় হয়ে গেছি। যাই হোক কখন আপনি টাকা দিবেন? এরপর বিকাশ রায় সৈকতকে বলেন, শুনেন সৈকত ভাই, আমার এরকম কোন কিচ্ছু নাই। এজন্য আমার বাড়িটা ছোট ভাই হিসেবে দেখে আসার কথা বললাম। সৈকত এবার বলেন, আমি বূঝেছি, আমি ঐজন্য বলেছি নাম টাম দেয়ার দরকার নাই। দাদা হিসেবে পিকনিকে একটা ভালো টাকা দিলেই হবে। আমরা আর ইয়া করতেছি না। বিকাশকে এবার বলতে শোনা যায়, আমার হাতে টাকা পয়সা নাই। একদম আদি ইতিহাস তোমাকে বললাম। আমি আগে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতাম। কোন রকম দিনাতিপাত করতাম। সবশেষে সৈকত বিকশকে বলেন, আর ছিলাম না কন, এইলা আমার মুখস্থ হয়েছে। আপনি এখন কখন দেখা করবেন সেটা বলেন। টাকা ম্যানেজ করে রাত্রের মধ্যে দেখা করেন। কোন প্যারা নিয়েন না।
জানা গেছে, বিকাশ রায় দেবীগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসে চুক্তিভিত্তিত কাজ করেন। অপরদিকে খালিদ মাহমুদ সৈকত সমন্বয়ক ছাড়াও দেবীগঞ্জ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এদিকে, কল রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ জনগণ এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অনেকেই বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিদার ছাত্র সংগঠনের নেতার এমন আচরণ সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা খালিদ মাহমুদ সৈকত। তিনি বলেন, রেকর্ডটি আমিও পেয়েছি। রেকর্ডটি এআই প্রযুক্তিতে বানানো। রেকর্ডের ব্যক্তিটি আমি নই। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করবো।সৈকত অস্বীকার করলেও ভুক্তভোগী বিকাশ রায় অডিও ক্লিপটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বিষয়টি তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান। তিনি বলেন, আমি সেটেলমেন্টে কাজ করে নাকি অনেক দুর্নীতি, অনিয়ম করেছি। এজন্য প্রথমে দুইলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে ২০ হাজার টাকা চায়, তবে আমি কোন টাকাই দেইনি।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারিকুজ্জামান তারেক বলেন, ছাত্রদলে থেকে অপকর্ম করার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।