রাজশাহীতে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত, আহত ৭

প্রকাশ : 2026-03-02 18:40:35১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

রাজশাহীতে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে একজন নিহত, আহত ৭

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে একজন নিহত ও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার [২ মার্চ) ভোরে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের চকপলাশী এলাকায় এঘটনা ঘটে। আহতদের পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহীন [৪৫) নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাহীন জেলার দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আকরাম আলী। আর আহতরা হলেন,পুঠিয়া থানার চকপলাশী গ্রামের মো: লালুর ছেলে শামীম [৩৫), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরানী গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল [৪৫), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর গ্রামের মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম [৪০), ঢাকা জেলার ধামরাই থানার নানজেগুড়ি গ্রামের মাহির ছেলে খরজাহান [৩৫), টাঙ্গাইল জেলার ভ‚ঞাপুর থানার বামালের চর গ্রামের মো. সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ [৩০), টাঙ্গাইল জেলার ভ‚ঞাপুর থানার কুটিবয়রা গ্রামের মামুন [৪২), জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান [৩০)। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে একটি মিনি ট্রাকযোগে ৮ জন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং মিনি ট্রাকটিতে অগ্নিসংযোগ করে। 

খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আরও সাতজন গুরুতর আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবিষয়ে পুঠিয়া উপজেলার সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেন বলেন, রাতে তারা ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হন। তবে তাদের প্রিভিয়াস রেকর্ড চেক করা হয়নি। কিন্তু তাদের কাছে থেকে ডাকাতির সমস্ত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে জেলা পুলিশ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় দ্রæত একটি মামলা দায়ের করা হবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।