রংপুর ও ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ
প্রকাশ : 2026-04-05 11:47:42১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
রংপুর ও ময়মনসিংহে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। এই সংকটে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে। দুই জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল ও অকটেনের মেশিনগুলো অলস পড়ে আছে। কোথাও টানানো হয়েছে ‘অকটেন ও পেট্রোল নেই’ লেখা সংবলিত নোটিশ, আবার কোথাও প্রবেশপথে আড়াআড়ি করে দেওয়া হয়েছে দড়ি। কোনও কোনও পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে শুধু সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস দেওয়া হচ্ছ। যে দু-একটি পাম্প পুরোপুরি খোলা রয়েছে, সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে ভোগান্তি অসহনীয় হয়ে উঠেছে চালকদের।
রংপুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না তেল
রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না তেল। স্টেশনগুলো কখন খোলে আর কখন তেল দেয় তাও জানতে পারছেন না চালকরা। কারণ স্টেশনগুলোতে দিনের বেশিরভাগ সময় অকটেন ও পেট্রোল নেই লেখা সংবলিত নোটিশ ঝুলে থাকে। এতে অনেক মোটরসাইকেল অচল হয়ে পড়েছে। চালকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তেলের অভাবে হাজারো মোটরসাইকেল ও যানবাহন বন্ধ হয়ে আছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল দেওয়ায় কোনও ফিলিং স্টেশনই দুই ঘণ্টার বেশি তেল দিতে পারছে না। এজন্য দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পাচ্ছেন না তেল।
মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়। তা দিয়ে বেশি দূর গাড়ি চালানো যায় না, আবার ওই তেল নিয়ে ৮-১০টা ফিলিং স্টেশন ঘুরতে হয়। তাও পাওয়া যায় না। তেলের খোঁজে ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরতে ঘুরতে এক লিটার তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভোগান্তির শেষ নেই।
রংপুর মহানগরীতে অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একটি ছাড়া বাকিগুলো থেকে তেল সরবরাহ করা যায়নি। ১০টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও টানানো হয়েছে ‘অকটেন ও পেট্রোল নেই’ লেখা সংবলিত নোটিশ, আবার কোথাও প্রবেশপথে আড়াআড়ি করে দেওয়া হয়েছে দড়ি। গাড়ি নিয়ে গেলেই কর্মচারীরা বলছেন, তেল নেই। ফিলিং স্টেশন বন্ধ। কখন দেওয়া হবে জানতে চাইলে তারা বলছেন, পার্বতীপুরের ডিপো থেকে তেল আনতে গত শুক্রবার ট্যাংক-লরি গেছে। এখনও আসেনি। গাড়িগুলো কখন আসবে, তা তাদের জানা নেই। সেগুলো এলেই তেল দেওয়া হবে।
নগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেল আসবে এবং শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে দেওয়া হবে- এমন খবরে সেসব ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েকশ মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করেছিল।
ফিলিং স্টেশনের একাধিক ম্যানেজার জানান, তাদের একেকটি ফিলিং স্টেশনে দৈনিক চার হাজার লিটার তেলের চাহিদা আছে। তাদের দেওয়া হচ্ছে দুই হাজার লিটার। ফলে তেল দেওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শত শত মোটরসাইকেল তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার নেই।
সালেক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে তেল নেই। কিন্তু মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। অনেকের গাড়ির তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরাতেও পারছেন না। স্টেশনের কর্মচারীরা বলছেন, শুক্রবার বিকালে ২ হাজার লিটার পেট্রোল ডিপো থেকে পাওয়া গেছে। রাতেই তা বিক্রি হয়ে গেছে।
সালেক ফিলিং স্টেশনের আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দৈনিক চাহিদা পাঁচ হাজার লিটারের। কিন্তু আমাদের দেওয়া হচ্ছে দুই হাজার লিটার। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা কোনোভাবেই মেটানো যাচ্ছে না। এজন্য দিনের বেশিরভাগ সময় ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
একই অবস্থা শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ট্রের্ডাস ফিলিং স্টেশনের। পেট্রোল ও অকটেন নেই। স্টেশনের কর্মচারী রিপন জানান, প্রতিদিনের চাহিদা চার হাজার লিটার। দেওয়া হচ্ছে দুই হাজার লিটার। শুক্রবার রাতে ডিপোতে তেল আনতে গেছে গাড়িগুলো। শনিবার দুপুরের মধ্যে আসার কথা। কিন্তু ভোর থেকেই আধা মাইল দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন লেগে আছে। একদিন পর পর পেট্রোল ও অকটেন দেওয়া হয়। হিসাবে দুদিনে প্রয়োজন সাত হাজার লিটার। দেওয়া হয় দুই হাজার লিটার। এভাবে করে কি চালকদের তেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব? এজন্য ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়।
রংপুর জেলা ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, ‘আগে জানানো হতো কখন কোন ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া হবে, এখন আর তা জানানো হচ্ছে না। পুরোপুরি সমন্বয়হীনতা চলছে। তেল না পেয়ে চালকরা এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরেক ফিলিং স্টেশনে ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হচ্ছেন। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। এটি ভোগান্তি ছাড়া কিছুই নয়।’
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রমিজ আলম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই। তবে পেট্রোল ও অকটেন নিয়ম করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সার্বিক বিষয়ে নজর রাখছি।’
ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ
পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত না থাকায় ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। দু’একটি ফিলিং স্টেশন খোলা আছে দেখলেই তেলের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
নগরের মাসকান্দা স্টার ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, সকাল থেকে তেল মজুত না থাকায় স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। যানবাহন চালকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন অন্য স্টেশনে।
এই স্টেশনের ম্যানেজার সামসু মিয়া জানান, তেল মজুত না থাকায় তিন দিন ধরে স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তেল সরবরাহ করার জন্য গাড়ি পাঠানো হয়েছে। গাড়ি এলে স্টেশন খুলে দেওয়া হবে।
শিকারিকান্দা সওদাগর ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, তেল না থাকায় চালকদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে না। গত দুই দিন ধরে স্টেশনটি বন্ধ আছে। এই ফিলিং স্টেশন কর্মচারী কামরুল হাসান জানান, তেল না থাকায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চালকরা এসে খোঁজ নিয়ে যাচ্ছেন কখন খোলা হবে।
নগরীর পুলিশ লাইনস সংলগ্ন ফুল ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। খবর পেয়ে তেলের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন চালকরা। সাইফুল ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রতন জানান, তেলের গাড়ি আসায় সকাল থেকে চালকদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। যানবাহন চালকদের চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ লাইন রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তবে তেল যতক্ষণ আছে চালকরা নিতে পারবেন, এরপর পাম্প বন্ধ রাখা হবে।