যশোরে বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, বাদী গ্রেফতার

প্রকাশ : 2026-04-06 15:53:00১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

যশোরে বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, বাদী গ্রেফতার

যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) শহরের কাজীপাড়ার আব্দুল আজিজ সড়কের বাসিন্দা মৃত মুন্সি আব্দুল আলিমের ছেলে শরিফুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন অভিযোগটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখেছেন।

এদিকে মামলার বাদী শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আইনবহির্ভূত বিভিন্ন আদেশ, আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি গত ৪ মার্চ সাধারণ সভা করে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। তখন থেকে আজ পর্যন্ত আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মামলার বাদী শরিফুল আলমের একটি মামলা এই আদালতে বিচারাধীন ছিল। আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে গত ৩০ মার্চ শরিফুল আলম সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে সময়ের আবেদন জমা দেন। তবে বিচারক রাশেদুর রহমান তা নামঞ্জুর করে বাদীর বক্তব্য একতরফাভাবে গ্রহণ করেন। বিচারক আদেশে বিবাদীর অনুপস্থিতি উল্লেখ করে সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, বিচারক রাশেদুর রহমান বিচারাধীন অনেক মামলা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্য পালন না করায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন ও কোতোয়ালি থানায় দেওয়া অভিযোগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী শরিফুল আলম মেসার্স এস আলম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। ব্যবসা সংক্রান্ত ঋণের বিষয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি যশোর শাখা তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করে। মামলাটি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন ছিল। সম্প্রতি এ মামলার রায়ে বাদী শরিফুল আলমকে কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক। শরিফুল আলম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, ‌‘ভুক্তভোগী শরিফুল আলম ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিচারক এটি বিচারাধীন রেখেছেন। বিচারকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে যশোরের মানুষ ন্যায় বিচার পাবে। যশোরের আদালতে আইনের শাসন ও বিচারিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।’

কা/আ