‘মৃত্যুর পর অভিনেতা জাভেদের সম্মাননা’ প্রত্যাখ্যান করলেন স্ত্রী, চাইলেন সবার দোয়া
প্রকাশ : 2026-01-23 10:15:17১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
একদিকে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, অন্যদিকে সফল নৃত্য পরিচালক—দুই ভূমিকাতেই দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে বুধবার তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তাঁর স্ত্রী, চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী।
স্বামীর মৃত্যুর পর শোকাহত ডলি চৌধুরী একাধিক সাক্ষাৎকারে ইলিয়াস জাভেদের জীবদ্দশায় স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর কোনো ধরনের সম্মাননা বা স্বীকৃতি গ্রহণ করতে চান না তিনি।
ডলি চৌধুরী বলেন, ‘জীবিত অবস্থায় যদি তাঁর মূল্যায়ন না করা হয়, যদি তাঁর কর্মস্থল থেকেই তাঁকে সম্মান না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি চলে যাওয়ার পর এসব সম্মাননা দিয়ে কী হবে? জাভেদ যা করেছে, তার বিনিময়ে আমি আর কোনো স্বীকৃতি চাই না। আমি এসব প্রত্যাখ্যান করছি।’
স্বামীর দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা স্মরণ করে ডলি চৌধুরী আরও বলেন, ‘প্রায় ৫৫ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি খেয়ে না খেয়ে পরিশ্রম করেছেন। তাঁর যা ছিল, সবই দিয়ে গেছেন। এখন তিনি নেই। তাঁর জন্য সবাই দোয়া করবেন, এটাই আমি চাই। কোনো পুরস্কার, কোনো সম্মাননা আমি গ্রহণ করব না। জীবিত অবস্থায় যেহেতু তিনি পাননি, মৃত্যুর পর এসব দিয়ে তাঁর কী হবে?’
ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালক হিসেবে রুপালি জগতে যাত্রা শুরু করেন ইলিয়াস জাভেদ। কায়সার পাশা পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘মালান’-এ প্রথম নৃত্য পরিচালনার সুযোগ পান তিনি। এরপর ১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে অভিনয়জগতে পা রাখেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে জাভেদ ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি’সহ বহু দর্শকপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন। ‘নিশান’ সিনেমার ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’ গানটি তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তায় পৌঁছে দেয়। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন এই গুণী শিল্পী।
চলচ্চিত্রে অভিনয় ও নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে একাধিক প্রজন্মের শিল্পী গড়ে তোলা ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।