মাদারীপুরে এলজিইডি - পানি উন্নয়ন বোর্ডের গড়িমসিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীর পেটে :  ভোগান্তিতে এলকাবাসী

প্রকাশ : 2026-03-03 20:34:19১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

মাদারীপুরে এলজিইডি - পানি উন্নয়ন বোর্ডের গড়িমসিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীর পেটে :  ভোগান্তিতে এলকাবাসী

মাদারীপুরে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাস্তা পুর্ণ নির্মাণ- নদী শাসন ব্যাবস্থা না নেওয়ায় মাদারীপুরে পালরদী নদীর পেটে যাচ্ছে কালকিনি-ফাঁসিয়াতলা পাকা সড়কের আলীনগর এলাকার প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক।

এ দুই দপ্তর দীর্ঘ বছর ধরে কোন ব্যাবস্থা না নেওয়ায় একদিকে রাস্তা ভেঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্য দিকে কিছু প্রভাবশালী বালু ব্যাবসায়িরা নদীর বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন করায় সড়কটি আরো বেশি ক্ষতি গ্রহস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ওই সড়কটি পালরদী নদীতে একেবারে

বিলীন হলে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যাবস্থ পুরোপুরি বিছিন্ন হয়ে যাবে। ওই রাস্তা দিয়ে আলীনগন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাইস্কুল, কালীনগন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাই স্কুল সহ তিনটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি দিয়ে পায়ে হেটে চলাচল করছেন। পাকা সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ফাসিয়াতলা হাটের কয়েক হাজার মানুষ হাটবার পাট, সরিষা, মুসুরি, খেসারি, গরু, ছাগল, নিত্য পন্যের গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না।

প্রতি সপ্তায় দুই হাটের দিন বিকল্প পথ দিয়ে হাটে আসলে ব্যাবসায়িদের অতিরিক্ত ব্যায় হয়। এ কারনে হাটে ব্যাবসায়ির সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, কিছু প্রভাবশালী বালু ব্যাবসায়িরা নদীর বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন করায় সড়কটি আরো বেশি ক্ষতি গ্রহস্ত হচ্ছে। স্থানীয় আলম সরদার বলেন, অন্যান্য স্থানে উন্নয়ন হয়, আমরা কি দোষ করলাম আমাদের রাস্তাটি সংস্কার বা নতুন করে হচ্ছে না।

ফাসিয়াতলা হাট কমিটির সভাপতি মামুন সরদার জানান, এ রাস্তা টি ব্যাবসায়িরা ব্যাবহার করতে না পাড়ায় অন্য রাস্তা দিয়ে ব্যাবসায়িরা হাটে আসলে ব্যাবসায়িদের অতিরিক্ত ব্যায় বহন করতে হয় এবং এ ব্যায় পন্যের উপর পরে এবং বেশি দামে সাধারন মানুষের মালামাল কিনতে হয় এ কারনে হাটে ব্যাবসায়ি ও ক্রেতার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। কালীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসাইন কিরন সরদার বলেন, রিটেইনিং ওয়াল করে নদীর ওই স্থানের ভাঙন রোধ করলে রাস্তাটি টিকবে এতে করে স্কুলের শিক্ষার্থী ভালোবাবে স্কুলে যেতে আসতে পারবে।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আঃ মান্নান জানান, আমরা পরিষদের অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে রাস্তা মেরামতের চেষ্টাকরেছি। এখানে স্থায়ী ব্যাবস্থা নিতে হবে। কালকিনি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, যখন নদীতে যে রাস্তা ভাঙ্গে সে নদীর ব্যাবস্থাটা পানি উন্নয়ন বোর্ড নেয়।
তবে আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের সাথে কথা বলেছি তিনি জেলা সমন্বয় কমিটির মিটিং বিষটি উত্থাপন করবেন। মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সানাউল কাদের খান বলেন, যে হেতু এলজিইডির রাস্তা, রাস্তা প্রতিরক্ষার জন্য তাদের বরাদ্দ থাকতে পারে। আমরা যদি এলজিইডির রাস্তা বাচানোর জন্য কাজ করতে চাই তাহলে আমাদের আলাদা ভাবে প্রকল্প নিতে হয় এবং তা সময় সাপেক্ষ।

মাদারীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া বলেন, মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সানাউল কাদের খান সাহেবের সাথে কথা হয়েছে, স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলে অতি দ্রুত কাজটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।