মাদারীপুরে আমনধান চাষ
প্রকাশ : 2025-09-03 11:17:21১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় চলতি মৌসুমের ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। উপজেলাগুলো হচ্ছে মাদারীপুর সদর, কালকিনি, ডাসার, রাজৈর ও শিবচর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের প্রত্যাশা এসব উপজেলার কৃষকদের। শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়ওয়ায় আমন ধানের কিছু বীজতলা নষ্ট হলেও কিছু কৃষক পুনরায় বীজতলা তৈরি করেছেন আমন রোপনের জন্য। তবে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় আমন রোপনের জন্য জমি তৈরি ও রোপনে পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা। বীজতলা থেকে হালিচারা সংগ্রহ করে জমিতে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাদারীপুরে জেলার কৃষকরা। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়ার আশা কৃষকদের। অপরদিকে সার কীটনাশক ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। ভালো লাভের আশায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে মাঠে হাড়ভাঙা পরিশ্রমেও যেন ক্লান্তি নেই কৃষকদের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাদারীপুর জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলার ৫৯টি ইউনিয়নেরবিভিন্ন এলাকায় আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করছে করছেন কৃষকেরা। কেউ জমি চাষ দিয়ে প্রস্তুত করছেন, কেউ বীজ তলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ চারা লাগাচ্ছেন। সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের কৃষক মোতালেব চৌকিদার জানান, আমি ৭/৮ বিঘা জমিতে আমন চাস করি। কৃষি বিভাগ থেকে কোন বীজ পাই নাই। এর আগে অতি বৃষ্টিতে আমার ২ বিঘা জমির বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন বীজ কিনে জমিতে বোপন করেছি। এ বছর মনে হচ্ছে ভালো ফলন পাবো। একই কথা জানালেন ছিলারচর ইউনিয়নের কৃষক তামিম মাতুব্বর। তিনি জানান, আমি ২ বিঘা বীজ হালাইছিলাম। সেটা নষ্ট হয় গেছে পরে নতুন করে বীজ কিনে লাগাবো। আমার নীজের বীজে ঠাই পায়না। তাই বড় বীজ কিনে রোপন করবো। এ বছর আবাহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছি।
কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের কৃষক উজ্জল সরদার জানান, আমার ২বিঘা জমিতে নিজে বীজ তৈরী করে নিজের জমিতে রোপন করেছি। কৃষি বিভাগ থেকে কোন সহযোগিতা পাইনি। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর ধানের ফলন ভালো হবে।
শিবচর উপজেলার সন্যাসীরচর ইউনিয়নের কৃষক মনির হোসেন জানান, জমি চাষ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকদের মজুরি ও সেচের পানিসহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ধানের দাম কম। জীবন বাঁচার তাগিদে আমন ধানের চাষ করছি। বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরি দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান তিনি। মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক সন্তোষ চন্দ্র জানান, এবছর আদর্শ বীজতলা তৈরি করায় কম বীজে বেশি চারা পাচ্ছেন কৃষকরা। জমিতে পানি থাকায় নিচু এলাকার কৃষকের বীজ রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। কৃষকের ধান উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়, তাই কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দেয়াসহ বাজার মনিটরিংয়ে জোরদার ভূমিকা রাখছে। কৃষকের সুবিধার কথা চিন্তা করে কৃষি বিভাগ তাদের পাশে থাকবে আর বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভালো ফলন পাবেন কৃষকরা মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানায়ায়, চলতি বছর মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৬শ’ ২২ হেক্টর জমিতে। বীজতলা তৈরি হয়েছে ১ হাজার ১শ ২০ হেক্টর জমিতে ।