পঞ্চগড়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

প্রকাশ : 2026-01-24 12:00:18১ |  অনলাইন সংস্করণ

  নিউজ ডেস্ক   

পঞ্চগড়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যাপক ঘাপলা সহ নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ এলাকাবাসির।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার মৌমারি থেকে খোঁচাবাড়ি হাট পর্যন্ত ১২০০ মিটার সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।ওই সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযোগ তোলে, এ ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে হৈচৈ পড়ে যায়।

বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (জিডিডিআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় এক কোটি উনত্রিশ লাখ নয় হাজার নয়শত একচল্লিশ টাকার চুক্তিমূল্যে দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর এলাকার কলেজ পাড়ার মেসার্স আরিফুল কন্ট্রাকশন এই কাজটি পান। যার দরপত্র নং-৩৯/২০২৩-২০২৪। প্যাকেজ নং-জিডিডি আর আইডিপি/পঞ্চ/ ডিইবি/ ভিআর এ/৭৫।দরপত্র আইডি নং-৯৯৭০২৭।

সেটি চুক্তি সম্পাদনের তারিখ ছিল ২০/০৮/২৪ এবং কাজ শেষ করার তারিখ ছিল২১/০৭/২৫। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয়নি। এলাকাবাসির অভিযোগ প্রায় দুবছর ধরে প্রকল্পের কাজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ওই প্রকল্পটির কাজ শুরু করার পর নিম্মমানের ইট সহ অন্যান্য সামগ্রি দিয়ে কাজ শুরু করা হলে, তাতে তারা একাধিকবার বাঁধা দেন। পরবর্তীতে নিন্মমানের ইট সরিয়ে নিলে, পরবর্তীতে সেসব নি¤œমানের ইট এনে আবারও কাজ শুরু করে।

এলাকাবাসির অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলী ও তদারকি মাঠ প্রকৌশলীর কোন রকম সহযোগিতা না পাওয়ায়, তারা নিরুপায় হয়ে চুপ থাকে। এরপর বিষয়টি কানাঘুষার পর সেখানে নানা গুঞ্জন শুরু হলে, হঠাৎ আবারও কার্পেটিং কাজের দ্বিতীয় দিন স্থানীয় মানুষ অভিযোগ তুললে বিষয়টি গনমাধ্যমকর্মী এবং তাৎক্ষনিক ভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পৌঁছালে ওই দিন ঘটনাস্থলে আসেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

এর আগে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, মাঠ তদারকি প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতিতে কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান। গাড়িতে বহনকরা বিটুমিন ও পাথর মিশ্রিত মিক্্িরং মাল সড়কে ফেলে কার্পেটিং করার কাজ চলমান। এসময় জমাট বাধাঁ মিক্্িরং বিটুমিন ও পাথর হাতুরি দিয়ে ভেঙ্গে কার্পেটিং করা হওয়ার সময় উৎসুখ জনগন হতভম্ব ও অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

অথচ বাঁধাহীন ভাবে ঠিকাদারের শ্রমিকরা ওই জমাট বাঁধা মিক্্িরং বিটুমিন ও পাথর দিয়ে কার্পেটিং কাজ করে যাচ্ছিল। এ ঘটনার কিছুক্ষন পরে প্রকৌশলীগন প্রকল্পের মাঠে গিয়ে তা অবলোক্ষন করেন। পরে এলাকাবাসি অভিযোগ তোলে বলেন, আপনারা স্বচোক্ষে এসব দেখে কাজ করছিলেন।

এসময় গনমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার শাকিল জমাটবাঁধা মিক্্িরং বিটুমিন ও পাথর দ্বারা কার্পেটিং করা স্থান সমূহ বাতিল করার জন্য নির্দেশনা দেন। তবে এসময় এলকাবাসি জানান , সড়কের নীচে দেওয়া সব ইট তিন নম্বর এবং শালটি। তারা বলেন, কতোবার এসব ইট সরানোর কথা বললে তারা সরিয়ে নিয়ে আবার সেই ইট দিয়ে কাক করেছেন। এসময এলাকাবাসি হাত দিয়ে ওই সব নি¤œমানের ভাঙ্গা ইট ও কার্পেটিং উঠিয়ে প্রকৌশরী সহ উপিস্থিত সকলকে দেখায়। কিন্তু সেব নি¤œমানের সামগ্রি ব্যবহারের বিষয়ে নিরুত্তর উপজেলা ছিলেন প্রকৌশলী ও তদারকী মাঠ প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীরা।

মাঠ প্রকৌশলী জয়ন্ত কুমার বলেন, আমি খাইতে গিয়েছিলাম, এসময় তারা জমাট বাধা মিক্্িরং বিটুমিন ও পাথর দিয়ে কার্পেটিং করে। তবে এসময় ঠিকাদারকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে কাজের তদারকীতে নিয়োজিত ঠিকাদারের একজন প্রতিনিধি বলেন, কার্পেটিয়ের বিষয়ে কি অভিযোগ বলেন, কাজে কোন সমস্যা নাই। নি¤œমানের ইটের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা ইঞ্জিনিয়ার দেখবে, তিনি সেটি বিষয়ে জানেন। এটা আমার দেখার বিষয় না।

তবে এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার শাকিল বলেন, দেন মিডিয়ায় তুলে দেন, আপনারা তো দেখলেন আমি এসব জমাট বাঁধা কাজ বাতিল করেছি। তবে তিনি নি¤œমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।’