পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎ কর্মীর মৃত্যু, সড়ক অবরোধ
প্রকাশ : 2026-04-06 13:28:33১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে লাইন মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে শাহিন আলম (৩৭) নামে এক লাইনম্যানের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিন তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের এলাকার জয়নুল হকের ছেলে। ওই লাইনম্যানের মৃত্যুর জন্য ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
এ ঘটনার পর থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা পঞ্চগড় নেসকোর কার্যালয়ের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ধাক্কামারা গোলচত্বর সংলগ্ন বিদ্যুতের পোলে উঠে বিদ্যুতের তার মেরামত করছিলেন লাইনম্যান শাহিন আলম। মেরামত শেষ না হতেই ওই লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হলে মুহূর্তেই বিদ্যুতায়িত হয়ে তারেই ঝুলে ছটফট করতে থাকেন শাহিন। ১৭ মিনিট পর বিদ্যুৎ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস তাকে নামিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর
হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপরেই মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ সময় আলোচনার পর বিদ্যুৎ অফিসে নিহত শাহিনের স্ত্রীকে চাকরী দেয়া, বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৪০ হাজার ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা অর্থসহায়তা ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে রাত ৮টায় অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা।
পঞ্চগড় ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি জানানন, দূঘটনার এমন খবর পেয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, কারেন্টের পিলারে একজন ব্যক্তি আটকা আছে। তিনি বিদ্যুতের লাইন ঠিক করার জন্য মূলত সেখানে উঠেছেন। আমাদের ফায়ারফাইটার সেখানে উঠে এবং উঠার পর তাকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে প্রেরণ করি। হাসপাতালে চিকিৎস তাকে তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এরকম মৃত্যু কারো কাম্য নয়। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন মুঠোফোনে জানান, সদর ইউএনওকে নেসকোতে পাঠানো হয়েছে।আমরা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে। নেসকো নিহতের স্ত্রীকে চাকরী ও দুইলাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর গোটা পুরাতন পঞ্চগড় এলাকার বিদ্যূুৎ লাইন বন্ধ থাকে। নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান লীগেজ থেকে বিদ্যূৎ এ ঘটনাটি ঘটে। বিকেল চারটার থেকে রাত দুটা পর্যন্ত পুরাতন পঞ্চগড় এলাকায় অন্ধকারছন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় গরমে বাসা বাড়ির লোকজন চরম দূর্ভোগে পড়ে।
কা/আ