পঞ্চগড়ে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ছাত্রদল কর্মী নিহত
প্রকাশ : 2025-08-07 10:51:42১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
পঞ্চগড়ে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন জাবেদ উমর জয় (১৯) নামে এক ছাত্রদল কর্মী। বুধবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে জেলা শহরের সিনেমাহল মার্কেটে এ খুনের ঘটনাটি ঘটে। তিনি শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা জহিরুল হকের ছেলে। ঘটনাটি সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হত্যার ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার জেরে এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের দুই গ্রুপ নিহত জয়ের গ্রুপ এবং নতুনবস্তি এলাকার আল-আমিনের নেতৃত্বাধীন আরেক গ্রুপের মধ্যে বুধবার দুপুর থেকেই কয়েক দফা সংঘর্ষে হয়।
রাতের জয় একাই সিনেমা হল মার্কেটের সামনে গেলে পূর্বের জেরে প্রতিপক্ষের ১০-১২ জন হঠাৎ তাকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে আল-আমিন নামে একজন ধারালো ছুরি দিয়ে জয়ের পেটে আঘাত করে। সাথে সাথে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জয়কে গুরুতর আহত অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসক দ্রত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, নিহতের পেটের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল এবং ভুড়ি বের হয়ে এসেছিল। আমরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা ভেতরে ঢুকিয়ে সেলাই করি এবং তাকে রংপুরে রেফার করি। এছাড়াও তার এক হাতের তালুতেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনার পর জেলা শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে দুইজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, আল-আমিন ও পারভেজ। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট।
হত্যাকান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন কারণ হিসেবে পূর্ব শত্রুতার তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।নিহতের জয়ের বড় ভাই আশরাফ আলী বলেন, রাতে কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে জয়কে খুঁজছিল। আমিও তাকে না পেয়ে দোকানে যাই। পরে ফোনে জানতে পারি সিনেমাহল এলাকায় জয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।তার পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখি, অবস্থা গুরুতর। পরে রংপুর নেওয়ার পথে জয় মারা যায়। আমরা এই বর্বর হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালেই বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় জেলা শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।