নন্দীগ্রামে শিলাবৃষ্টিতে আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশ : 2026-04-12 12:06:39১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
বগুড়ার নন্দীগ্রামে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে কয়েকশত ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বড় আকারের শিলের আঘাতে অসংখ্য ঘরের টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে এবং আম-লিচুসহ বিভিন্ন গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৫টা থেকে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী এই শিলাবৃষ্টি হয়। নন্দীগ্রাম উপজেলার ১৫টি গ্রাম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে রিধইল গ্রাম ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিলো সবচেয়ে বেশি।
রিধইল গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে ঝড়ো হাওয়ার সাথে সাথে বড় বড় শিল পড়তে শুরু করে। শিলের আঘাতে আমার ঘরের টিনের চালা পুরোপুরি ফুটো হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। মাঝগ্রামের হতদরিদ্র জুয়েল হোসেন জানান, শিল পড়ে আমার চারচালা ঘরের সব টিন ফুটো হয়ে গেছে। আমি সরকারি টিনের জন্য আবেদন করেছি। এছাড়াও অনেক পরিবারের ঘরের চালা ভেঙে যাওয়ায় তাঁরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তাঁরা। শিলাবৃষ্টির কারণে বোরো ধানক্ষেত আম ও লিচুর বাগানে বেশি ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ফল ঝরে পড়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে বড়ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। ঘরের চালা মেরামতের জন্য তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এক ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ বলেন, আমাদের একমাত্র ঘর ছিলো। শিল পড়ে সেই ঘরের চালা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সরকারি সহায়তা পেলে অনেক উপকার হতো। দিনমজুর আব্দুল মান্নান জানান, দিন এনে দিন খাই ঘর মেরামত করার মতো টাকা নেই। ঋণ না নিলে পরিবার নিয়ে মাথাগোঁজার ঠাঁই থাকবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরদার মো. ফজলুল করিম জানান, ইতোমধ্যেই নন্দীগ্রাম উপজেলার প্রায় ২০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার টিন সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার প্রত্যাশা করছেন। সময়মতো সহায়তা প্রদান করা হলে তাঁরা আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হবেন।