নদীপাড়ের মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায়
প্রকাশ : 2026-02-05 17:06:34১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
উত্তরাঞ্চালের ৫ জেলার মানুষের জীবন-জীবিকার চালিকা শক্তি ও জীবন রেখা তিস্তা নদী। কৃষক, জেলে, মাঝি ও সাধারণ মানুষ এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। এক সময়ের খর¯্রতা তিস্তা নদী বর্তমানে পানি শুকিয়ে কংকাল সার মরা খালে পরিনত। নদীর উজানে প্রতিবেশি দেশ ভারতের আগ্রাসনে স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে তিস্তার ভাঙ্গণে প্রতি বছর বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে ভ‚মিহীন হয়ে হাজার হাজার পরিবার ঘরছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় হাজার হাজার মৎস্যজীবী ও শত শত নৌকার মাঝি বেকার হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে জানাগেছে, নদীর উজানে ভারতের গজল ডোবায় বাঁধ নির্মান করায় এক সময়ের খর¯্রতা তিস্তা এখন পানি শুকিয়ে মরাখালে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে নদী ধু-ধু বালুচরে সফলের মাঠ। জানাগেছে নৌকা চালিয়ে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার হাজার হাজার মৎস্যজীবী ও নৌকার মাঝি জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। তিস্তা নদীকে ঘিরে সভ্যতার ক্রমবিকাশ সহ কৃষি নির্ভর মানুষ জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। কাউনিয়ায় নিজপাড়া মাঝিপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি শীতল, সুশিলসহ অনেকে জানান, বাব দাদার আমল থেকে তিস্তা নদীতে মাছ ধরে তা বিক্রি করে জীবন চালিয়ে আসছি। কিন্তু বর্তমানে আর এই পেশায় থাকা যাচ্ছে না, তিস্তা নদী আর নদী নাই চর পরে মরা খালে পরিনত হয়েছে। জীবন বাচাঁতে এই পেশা অনেকে ছেরে দিতে বাধ্য হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না। বর্ষায় নদী ভাঙ্গনে মানুষ ঘরছাড়া হচ্ছেন। নদী পাড়ের মানুষদের নিয়ে প্রতিটি সরকার রাজনীতি করে গেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিস্তাপাড়ের মানুষ কে তিস্তার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার নামে মূলা ঝুলিয়ে দিল।
আশায় বুকবেধে ছিল কিন্ত সেই আশা গুরেবালি। সরকার দফায় দফায় তিস্তার পানি চুক্তি ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বললেও তা বাস্তবতার মুখ দেখাতে পারেনি। এর পর অন্তবর্তী সরকার আশার পর ঢাক ঢোল পিটিয়ে জানান দিল চিন ও দেশীয় অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। পানি সম্পদ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান তিস্তা সড়ক ও রেলসেতু পাড়ে গণশুনানিতে ঘোষণা করেন ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে। এ অঞ্চলের মানুষ কথায় নয় দৃর্শ্যমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দেখতে চায়। কিন্তু আবারও নদীপাড়ের মানুষ আশা হত হলো গত ১৯ জানুয়ারী অন্তর্বতী সরকারের পানি সম্পদ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ও চিনের রাষ্ট্রদূত কাউনিয়ায় নদী পাড়ে এসে জানান দিলেন তিস্তা প্রকল্প এই সরকারের আমলে কাজ শুরু হচ্ছেনা, তবে আপনারা আশাহত হবেন না। সংশ্লিষ্ট স‚ত্র জানিয়েছে, কারিগরি ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের কাজ চলমান রয়েছে।
দীর্ঘ ১৭মাস ধরে তিস্তা নদী কেন্দ্রিক পানিসংকট, নদীভাঙ্গন ও কৃষি বিপর্যয়ের উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ছিল আশার প্রতীক। চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকা মানুষের আশা রূপ নিয়েছে হতাশা ও মহা বিরক্তিতে। নদী গবেষক ড. তুগিন ওয়াদুদ জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ভ‚-রাজনীতির মারপ্যাচে পড়ে জনগণের আশা দুরাশায় পরিনত হচ্ছে। বারবার কাজ শুরুর আশা দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিস্তা নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা নিয়ে বছরের পর বছর মানুষকে শুধু আশার বাণী শোনানো হয়েছে, বাস্তবায়ন হয়নি।
রংপুর অঞ্চলের মানুষ বিগত সরকারের সময়ও অবহেলিত ছিল, এই সরকারের আমলেও তাই। নির্বাচনের পর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ অঞ্চলের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন করবো। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তিস্তার দুই পাড়ের মানুষের কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং লাখো মানুষের বেকারত্ব ঘুচবে। উত্তরের ৫জেলার মৎস্যজীবি ও মাঝিমাল্লাসহ সাধারন মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীর হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে।