দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা কিছু মহলের পছন্দ নয়, তারা আবার ষড়যন্ত্র করছে: তারেক রহমান
প্রকাশ : 2026-05-01 19:42:10১ | অনলাইন সংস্করণ
নিউজ ডেস্ক
নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে এমন অভিযোগ করে দেশবিরোধী সকল অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে, তখনই কিছু মহলের তা পছন্দ হয় না। অতীতেও তারা ষড়যন্ত্র করেছিল এবং ১২ তারিখের নির্বাচনের পরও যখন তারা দেখল বাংলাদেশ জনগণের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলছে, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
ষড়যন্ত্রকারীরা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত এবং বন্ধুহীন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা চায় না বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রম করে ভাগ্য পরিবর্তন করুক কিংবা পৃথিবীর সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাক। তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিশ্ব দরবার দেখছে বর্তমান সরকারের পেছনে জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে এবং এই সরকার ও সংসদ জনগণের দ্বারা গঠিত।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিশ্ব দরবার এখন ষড়যন্ত্রকারীদের কথায় কর্ণপাত করছে না। বরং তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছে কীভাবে এ দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করা যায়।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখনই দেশে গণতন্ত্র ছিল, তখনই অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রার কারণেই বাংলাদেশ এক সময় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে ভূষিত হয়েছিল।
দেশের স্বার্থে এবং শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে বিশ্ব দরবারের সুযোগগুলো গ্রহণ করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। যারা দেশকে বিতর্কিত করতে চায় বা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, শ্রমিক ভাইসহ প্রতিটি সচেতন মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সেই সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’
তারেক বলেন, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারো যাত্রা শুরু করেছে। আমরা দেখেছি, যখনই দেশ গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা করেছে, তখনই মিল-কলকারখানা গড়ে উঠেছে, অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে, শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে এমার্জিং টাইগারের খেতাবে ভূষিত হয়েছিল দেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখনই গণতন্ত্রের পথে যাত্রা- কিছু মহলের সেটি পছন্দ নয়। সেই সকল মহল চায় না বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পরিশ্রম শুরু করুক। তারা চায় না বাংলাদেশ পৃথিবীর সাথে পাল্লা দিয়ে সামনে এগিয়ে যাক। সেই মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে অতীতের মতন। অতীতে যেমন তারা ষড়যন্ত্র করেছিল। তাদের সেই ষড়যন্ত্র ১২ (নির্বাচন) তারিখের আগে সফল হয়নি। ১২ তারিখকে তারা দেখলো বাংলাদেশ জনগণের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলা শুরু করল, বাংলাদেশ তো আবার গণতন্ত্রের পক্ষের পথে চলা শুরু করলো- তখন নতুন করে তারা ধীরে ধীরে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র শুরু করল। তারা চেষ্টা করছে এখন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা চেষ্টা করছে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ যাতে বন্ধুহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু বিশ্বদরবার দেখছে বর্তমান সরকারের পেছনে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন রয়েছে। বিশ্বদরবার দেখছে বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার জনগণ দ্বারা গঠিত সরকার।
বিশ্বদরবার এদেশে বিনিয়োগ করার জন্য জনগণের নির্বাচিত সরকার সাথে কথা বলছে বলে জানান তারেক রহমান। আমাদেরকে বিশ্ব দরবারের এই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশের স্বার্থে এই দেশের মানুষের স্বার্থে সর্বোপরি এই দেশের শ্রমিক ভাইদের স্বার্থে। সেজন্যই আজকে আমাদেরকে চোখ-কান সব খোলা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, যারা দেশকে বিতর্কিত পর্যায়ে নিতে চায়, যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের জবাব দিতে হবে। যেভাবে আমরা স্বৈরাচারকে ১৭ বছর ধরে জবাব দিয়েছিলাম।